তারিখ লোড হচ্ছে...

বিআইডব্লিউটিএতে ‘সুলতান সাম্রাজ্য’ এখনো সক্রিয়! হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে ৫ কোটি টাকার মিশন বিপিসির আহম্মদুল্লাহর সম্পদের পাহাড় জুলাই অভ্যুত্থান কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন: প্রধানমন্ত্রী খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে চারশ নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ধনবাড়ীতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শনে (ইউএনও) সাথী সিলেট শিক্ষাবোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের মানবিক উদ্যোগে শ্রীমঙ্গলে এইচএসসি পরীক্ষায় বসলো ৮ শিক্ষার্থী বাকেরগঞ্জের দুর্গাপাশায় বিএনপিতে কলহ রক্তক্ষয়ি সংঘাতের আশঙ্কা চিকিৎসক সংকটকে হার মানিয়ে সেবার নজির গড়ছে রাঙামাটির স্বাস্থ্যসেবা সুন্দরবনে বন-বিভাগের অভিযান বিপুল পরিমাণ বিষ ও শুটকি তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর অভিযান, ৫২ রাউন্ড এফসিসি গোলাবারুদ উদ্ধার ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বঞ্চিত তিন বাহিনীর ১৫০ কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন ও বিশেষ সুবিধা প্রদান ডেঙ্গুর ভয়াবহতা নিয়ে যে তথ্য দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নজরুল বর্ষ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস দিল চীন নেইমারকে নিয়েই ছক কষছেন আনচেলত্তি ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা ও হালদা থানা অনুমোদন সারাদেশের ন্যায় দীঘিনালায়ও শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা নবাবগঞ্জ থানা মহিলা দলের সভাপতি সহ ১০ জন মহিলা দলের নেত্রীর পদত্যাগ চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবককে হত্যা গায়ে হলুদের আগের দিন কনের রহস্যজনক মৃত্যু মৌলভীবাজারে জমিজমা বিরোধের জেরে মতিনকে হত্যা, আপন ৩ ভাই-১ বোন ও ভাইয়ের স্ত্রীসহ গ্রেফতার ৫ নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মিত ৭টি ভবন ও অনুমোদনহীন গুদাম সীলগালা আমি এখনো সংসদ সদস্য, ভুলে যাবেন না-রাঙামাটিতে ফিরে দীপেন দেওয়ান সীতাকুণ্ডে গাছ কেটে মহাসড়ক অবরোধ: সওজের মামলা,গ্রেফতার শ্রীমঙ্গলে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে: প্লেকার্ড হাতে স্থানীয়দের বিক্ষাভ খাগড়াছড়ির জশোয়া দেওয়ান ৪৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত জামালগঞ্জে প্রভাবশালী কর্তৃক নীরিহ এক ব্যাক্তির জায়গা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ জাতীয় স্টার্টআপ প্রদর্শনীতে দেশের সেরা ১০ এ গলাচিপার এন জেড আলিম মাদ্রাসা লায়ন্স ক্লাব অব চাঁদপুর রুপালী মাসিক রেগুলার মিটিং ও পরিচিতি সভা সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত আনারসের পাশে জায়গা করে নিচ্ছে কাজুবাদাম মধুপুরে ফ্যানের সাথে ঝুলে যুবকের আত্মহত্যা পুলিশ সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর রাজধানীতে সেপটিক ট্যাংকে বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩ আজ থেকে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে দেশ ছাড়লেন স্পিকার সিরাজগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘দৈনিক যুগের কথা’র ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপিত সাতক্ষীরায় পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে বাসের চাপায় ছেলে নিহত, আহত শিক্ষক পিতা পাটকেলঘাটা বাজারে ইউএনওর অভিযান: ৩ হোটেলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা সবুজায়নে বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগ, পাহাড়ি-বাঙালি পরিবারের হাতে গাছের চারা হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং কালিগঞ্জে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন দেশের পতাকা বিক্রি করেন রেনু মিয়া রোগাক্রান্ত মৌলভীবাজার জেলার অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিক সিরাজগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের জিএমের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন নামাজে পড়াতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল খতিবের রামগড় পাহাড়াঞ্চল গবেষণা কেন্দ্রে কফি চাষে সফলতা, নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন স্বপ্ন পুঁজি করে এগিয়ে চলা: সংগ্রাম পেরিয়ে স্বাবলম্বিতার দীঘিনালার নারী উদ্যোক্তা হালিমা খাতুন নোয়াখালীতে শিশু আসমা হত্যা মামলার রায় আজ, সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা পরিবারের

যন্ত্রদানব চালকদের পেছনে কারা?

পাঠক সংখ্যা
638

স্টাফ রিপোর্টার॥
রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল তিন দিনের মধ্যে বন্ধ বা বিধিনিষেধ আরোপ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি গত মঙ্গলবার এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওই দিন রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ব্যাটারিচালিত রিকশার ধাক্কায় আফসানা করিম রাচি নামে এক ছাত্রী নিহত হন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নবীন শিক্ষার্থীর জীবন ঘড়ি থামিয়ে দিয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা নামক এক যন্ত্রদানব। যার হিংস্র গতি থেতলে দিয়েছে রাচির মায়াবি মুখমন্ডল। স্তব্ধ করে দিয়েছে এক সম্ভাবনাময় তরুণ প্রাণের স্পন্দন। নিজ ক্যাম্পাসে একটি অটোরিকশা কেড়ে নিয়েছে এক বাবা-মায়ের বেঁচে থাকার অবলম্বন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো যে একেকটি মৃত্যুদূত হয়ে বিচরণ করে, তা হয়তো এই অভাগা বাবা-মায়ের জানাই ছিল না। সারাদেশে এরকম আরো কত রাচির জীবন এভাবে অকালে নিভে যাচ্ছে তার খবর কজনে রাখে? হাইকোর্টের আদেশের পরে বেপরোয়া উঠেছে যন্ত্রদানব এসব রিকশার চালকরা। তারা হাইকোর্টের নির্দেশ না মেনে উল্টো সরকারকে বেকায়দায় ফেলার নানা অপকৌশলে জনগণের ভোগান্তি বাড়াতে সচেষ্ট। এই টার্গেট তাদের অনেক পুরোনো।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, সড়কে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। প্রাণহানির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে তিন চাকার যানবাহনের দুর্ঘটনা। যার মধ্যে বেশির ভাগই ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ হাজার ৫৯৮ জন মারা গেছেন। যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী এক হাজার ৯২৪ জন; যা মোট নিহত হওয়া মানুষের ৩৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আর তিন চাকার যানবাহন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক, নছিমন, অটোভ্যান ইত্যাদির দুর্ঘটনায় এক হাজার ৯৭ জন মারা গেছেন; যা মোট নিহত মানুষের ১৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ। সরকার নিবন্ধন দেয় না বলে এসব অবৈধ যানবাহন চালানোর জন্য কোনো প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগে না। যার যখন ইচ্ছা সে চালাতে পারে।
সরকারি হিসাবে দেশে বৈধ যানবাহন আছে ৬২ লাখের মতো। আর সরকারের বিবেচনায় ‘অবৈধ’ তিন চাকার যানবাহন আছে প্রায় ৭০ লাখ। যদিও বাস্তবে এই সংখ্যা আরো বেশি। বৈধ যানের ২ শতাংশের কম বাস-মিনিবাসসহ গণপরিবহন।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য অবৈধ তিন চাকার যানবাহনের প্রকৃত হিসাব সরকারের কোনো দফতরেই নেই। তবে ২০১০ সালের দিকে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একাধিক বৈঠকে তিন চাকার অবৈধ যানের সংখ্যা ১০ লাখের মতো বলে উল্লেখ করা হয়। বিআরটিএ, যাত্রী অধিকার সংগঠন, পুলিশ ও অন্যান্য অংশীজনের হিসাবে, ব্যাটারি ও যন্ত্রচালিত তিন চাকার অবৈধ যানবাহন এখন ৬০ লাখের বেশি। এর মধ্যে ঢাকার বাইরে আছে প্রায় ৫০ লাখ। আর ঢাকায় আছে ১০ লাখের মতো। হাসিনার পতনের পর পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে ঢাকার প্রবেশ করেছে আরো কমপক্ষে আট লাখ। সব মিলিয়ে ঢাকায় এসব যানের সংখ্যা এখন ২০ লাখের মতো।

চাহিদার তুলনায় গণপরিবহনের এই স্বল্পতার সুযোগে কারিগরিভাবে ত্রুটিপূর্ণ তিন চাকার ব্যাটারি ও ইঞ্জিনচালিত রিকশায় ঢাকাসহ সারাদেশ ছেয়ে গেছে। এসব যান বাড়তে দিয়ে এখন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না; বরং ত্রুটিপূর্ণ এই যানবাহনগুলো দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে। রাজধানীতে বাড়াচ্ছে যানজটসহ বিশৃঙ্খলা। যা গত প্রায় তিন মাস ধরে অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। এমতাবস্থায় হাইকোর্ট ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজধানীর যানজট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে সময় বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি কমিটিও হয়েছিল। কিন্তু কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে পুলিশ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। কেন নেয়নি সেটি পুলিশ প্রশাসনই ভালো জানে। অনেকেই মনে করেন, তখন প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশ উদ্যোগ নিলে আজ ব্যাটারি রিকশা চালকরা রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ করাসহ সেনাবাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর আক্রমণ করার সাহস পেতো না।

নেপথ্যে কারা?
৫ আগস্ট স্বৈরাচারী হাসিনা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশের পুলিশ বাহিনী অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তখনই ঢাকার অলিগলি থেকে ব্যাটারি রিকশা ঢাকা শহরে প্রবেশ করতে থাকে। কয়েক দিন অবাধে চলাচলের সুযোগে ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকেই লাখ লাখ রিকশা চলে আসে ঢাকায়। এর মধ্যে হাসিনার দোসররা প্রথমে বিচার বিভাগ দিয়ে ক্যু করার প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আনসার বাহিনী দিয়ে সরকার পতনের অপচেষ্টা চালায়। সেটিতেও ব্যর্থ হয়ে তারা ব্যাটারি রিকশা দিয়ে রাজধানী দখল করে নেয়ার নীল নকশা আঁকে। সে সময় কয়েকজন রিকশাচালকের সাথে কথা বললে তারা জানায়, নেতার কথায় তারা ঢাকায় এসেছে। এদের বেশির ভাগই দেশের বিভিন্ন এলাকার আওয়ামী লীগের নেতা, সক্রিয় কর্মী কিংবা আওয়ামী মন্ত্রী, এমপির দালাল। অনেককে আবার নেতাই রিকশা কেনার অর্থ জোগান দিয়েছে বলে জানায়। বেশ কয়েকজন রিকশাচালক স্বীকারও করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় মামলা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য তারা এখন ঢাকায় ব্যাটারি রিকশা চালাচ্ছে। গত বুধবার থেকে ব্যাটারি রিকশা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে এসব রিকশাচালক যেভাবে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে মিছিল করছে তাতে তারা যে আওয়ামী লীগেরই দোসর তা নিয়ে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়। কেউ কেউ এদেরকে উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠন ইসকনের সদস্যদের সাথেও তুলনা করেছেন। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ বিষয়ে তৎপর হলে আজ এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতো না।

এ ছাড়া, অবৈধ বলে এসব রিকশা রাস্তায় নামাতে আওয়ামী লীগ আমল থেকেই স্থানীয় নেতাদের এককালীন কমপক্ষে দুই হাজার টাকা ও মাসিক ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হতো। সেই সব চাঁদাবাজরা এখনো সক্রিয়। আন্দোলনরত রিকশাচালকরা জানান, নেতাদের কথায় তারা মাঠে নেমেছেন। প্রতিদিন রাতে গ্যারেজগুলোতে এ নিয়ে মিটিং হচ্ছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত যা আসছে তা মোবাইলে সবাইকে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে।

১০০ জনের কাছে জিম্মি পুরো দেশ!
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সারাদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের যন্ত্রাংশ আমদানি করা হয় মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে। সাইকেল ও মোটরসাইকেলের খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে এগুলোর যন্ত্রাংশ চীন থেকে আনা হয়। এমন আমদানিকারক আছে মাত্র ১০০ জন। এরাই রাজধানীর শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম, কমলাপুরে প্রকাশ্যে এসব খুচরা যন্ত্রাংশ বিক্রি করে। যেগুলো বিভিন্ন কারখানায় নিয়ে অপরিকল্পিতভাবে চেচিস তৈরি করে ইজিবাইক ও ব্যাটারি রিকশা বানানো হয়। অনুসন্ধানে শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম, কমলাপুরের এরকম কয়েকজন আমদানিকারকের নাম জানা গেছে। এগুলো হলোÑ জি মোটর সেন্টার, মালিক নজরুল ইসলাম খান, বিল্লাল অটো সেন্টার, মালিক মো. বিল্লাল হোসেন, কর্ণফুলি অটো, এক্সিলেন্স অটো, ত্রিরতœ ট্রেডিং ইত্যাদি। মোট কথা, শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের চারিদিকে কমপক্ষে ৫০ জন আমদানিকারক আছে, যারা মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এসব অবৈধ যানের খুরচা যন্ত্রাংশ আমদানি করে থাকে। বাকি ৫০ জনের বেশ কয়েকজন বংশাল, বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রী, হাজারীবাগ, জুরাইন, শ্যামপুর, মুগদা, ডেমরা, বসিলা, মিরপুর, দক্ষিণ খান, উত্তর খান, আমিনবাজার ও কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা। এদের কারো কারো আবার নিজস্ব কারখানাও আছে। বনশ্রীর এক কারখানার মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তার কারখানা থেকে কক্সবাজার ও টেকনাফে ইজিবাইক সরবরাহ করা হয়। টেকনাফে তার দুটো শোরুম আছে। এ পর্যন্ত কয়েক হাজার ইজিবাইক বিক্রি করে তিনি বর্তমানে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। আর ব্যাটারি রিকশার কারখানা বেশি শ্যামপুর ও জুরাইনে। ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ খোকন বলেন, ১০০ জন আমদানিকারক এসব অবৈধ যান দিয়ে গোটা দেশকে জিম্মি করে ফেলেছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এদের ব্যবসা বন্ধ করলেই এমনতিতেই ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইকে দাপট কমে আসবে। তিনি বলেন, গ্যারেজগুলোতে অভিযান চালিয়ে এগুলো জব্দ করতে হবে। পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১২০টি ওয়ার্ডের অলিগলিতে কয়টি রিকশা বা ইজিবাইক চলতে পারবে তা নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। জীবিকার তাগিদে তাদেরকে এতটুকু ছাড় দেয়া যেতে পারে। তার আগে ঢাকার বাইরে থেকে আসা রিকশাগুলোতে ঢাকা থেকে অবশ্যই বিতাড়িত করতে হবে।

আওয়ামী সরকারের নাটক!
স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিষিদ্ধ এসব যান চলাচল ও বৈধতা নিয়ে কয়েক দফা নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে একবার এসব যান নিষিদ্ধ করা হলে সরকার কিছুটা তৎপরতা দেখালেও পরে সেখান থেকে সরে এসেছে। এর পেছনেও ছিল তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৫ মে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায় তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঢাকায় ব্যাটারি বা যন্ত্রচালিত রিকশা বন্ধের নির্দেশনা দেন। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীর আগারগাঁও ও মিরপুর-১০ নম্বরে সড়ক অবরোধসহ ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এসব যানের চালকরা। ২০ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মায়াকান্না দেখিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন। মূলত সেটিও ছিল দলীয় কর্মীদের চাঁদাবাজিতে বঞ্চিত না করার একটি কৌশল।

বিআরটিএ কর্মকর্তারা জানান, হাসিনার ওই সিদ্ধান্তের পর ঢাকাসহ সারা দেশে অবৈধ এসব যান স্রোতের মতো নামতে শুরু করে। এসব রিকশা আগে চলত অলিগলিতে। হাসিনার ঘোষণার পর মূল সড়তে উঠে আসে।
অবৈধ এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বুয়েটের অধ্যাপক হাদীউজ্জামান বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। শুধু তাই নয়, এগুলো চলাচল কিভাবে করবে, কোথায় চলতে পারবে সে বিষয়েও নীতিমালা করা দরকার। দীর্ঘদিন রাজনীতিকদের সহযোগিতায় এখনো এগুলো নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। এখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

অসহায় এক পরিবারের পাশে দাঁড়ালো ‘সাউথ লন্ডন ফাউন্ডেশন’

অসহায় এক পরিবারের পাশে দাঁড়ালো ‘সাউথ লন্ডন ফাউন্ডেশন

ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩ নম্বর শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের ২৬ বছর বয়সী ফাতেমা বেগম এক অসহায় ও নিঃস্ব নারী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম দিনমজুর স্বামী সৈয়দ সামাদ গত প্রায় আড়াই মাস আগে শহরের মৌলভীবাজার সড়কে পিকআপ ও টমটম অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন। আহত স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবারটি। বর্তমানে বিছানায় শয্যাশায়ী আহত ও অসুস্থ্য স্বামীর চিকিৎসা ব্যয়, ১০ মাস বয়সী সন্তান সৈয়দা হাফসা, ৩ বছর বয়সী সন্তান সৈয়দা মাদিনাকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন অসহায় ফাতেমা। বাবা মো. লাল মিয়াও দিনমজুর। যখন যে কাজ পান সে কাজই করেন তিনি। তার উপার্জনে ও প্রতিবেশীদের সাহায্যে কোন রকম চলছিল তাদের সংসার। পরিবারটির কষ্টের কথা শুনে তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে ইংল্যান্ডের চ্যারেটি সংগঠন

আরও পড়ুন
language Change