স্টাফ রিপোর্টার॥
দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে পাসপোর্ট, বিআরটিএ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, বিচারিক সেবা ও ভূমি খাতের নাম উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘সেবা খাতে দুর্নীতি:
দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে পাসপোর্ট, বিআরটিএ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, বিচারিক সেবা ও ভূমি খাতের নাম উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৩’-এর ফলাফলে।
জরিপে বলা হয়, মে ২০২৩ থেকে এপ্রিল ২০২৪ মেয়াদে সার্বিকভাবে ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ খানা দুর্নীতির শিকার হয়েছে। একই সময়ে সার্বিকভাবে ঘুসের শিকার হওয়া খানার হার ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ। সর্বোচ্চ ঘুস গ্রহণকারী তিনটি খাত হলো পাসপোর্ট, বিআরটিএ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা।
গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে টিআইবি। টিআইবির জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ জরিপের মেয়াদকালে ১৮টি খাত বিবেচনায় সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত পাঁচটি খাত হচ্ছে পাসপোর্ট ৮৬ শতাংশ, বিআরটিএ ৮৫ দশমিক ২ শতাংশ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ৭৪ দশমিক ৫ শতাংশ, বিচারিক সেবা ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ভূমি সেবা ৫১ শতাংশ।
সর্বোচ্চ ঘুস গ্রহণকারী পাঁচটি খাত হচ্ছে পাসপোর্ট ৭৪ দশমিক ৮ শতাংশ, বিআরটিএ ৭১ দশমিক ৯ শতাংশ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ৫৮ দশমিক ৩, বিচারিক সেবা ৩৪ দশমিক ১ ও ভূমি সেবা ৩২ দশমিক ৩। জরিপে অন্তর্ভুক্ত ঘুসদাতা খানার ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ ঘুস দেয়ার কারণ হিসেবে ‘ঘুস না দিলে সেবা পাওয়া যায় না’—এ কথা বলেছেন, অর্থাৎ ঘুস আদায়ের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া ২০২৩ খানা জরিপে সার্বিকভাবে জাতীয় পর্যায়ে প্রাক্কলিত মোট ঘুসের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ৯০২ কোটি টাকা, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের (সংশোধিত) ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং বাংলাদেশের জিডিপির ০ দশমিক ২২ শতাংশ। টিআইবির ২০১০ সাল থেকে পরিচালিত খানা জরিপে প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ন্যূনতম প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে অন্তর্ভুক্ত খাত/প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সেবা নিতে গিয়ে বাংলাদেশের খানাগুলো প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা (১ লাখ ৪৬ হাজার ২৫২ কোটি) ঘুস দিতে বাধ্য হয়েছে।
জরিপে আরো দেখা যায়, দরিদ্র, নিম্ন আয় ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য দুর্নীতি একটি অন্যায্য বোঝা। নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর ঘুস ও নিয়মবহির্ভূত অর্থের লেনদেনের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি। যেসব খানার মাসিক আয় ২৪ হাজার টাকার কম তাদের বার্ষিক আয়ের শূন্য দশমিক ৯৩ শতাংশ ঘুস হিসেবে খরচ করতে হয়, পক্ষান্তরে মাসিক আয় ৮৫ হাজার টাকার বেশি এমন খানার ক্ষেত্রে এ হার শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ।
দুর্নীতি প্রতিরোধের হাতিয়ারগুলো বাংলাদেশে ব্যবহার হয় না উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা দেখে আসছি “দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা” বিষয়টি শুধু ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কাগজে-কলমে সরকার দুর্নীতি রোধের কথা বললেও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা প্রতিবেদনগুলো প্রত্যাখ্যাত হয়। উদ্বেগের সঙ্গে আমরা লক্ষ করছি যে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে সাধারণ জনগণ জিম্মি হয়ে দুর্নীতিকে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে। দুর্নীতির দায়ে যারা অভিযুক্ত নানা অনুষ্ঠান আয়োজনে তাদের সভাপতি-প্রধান অতিথির আসনে বসানো হয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সভাপতির মর্যাদা দেয়া হয়। যারা দুর্নীতি করেন, তাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।’
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত