তারিখ লোড হচ্ছে...

ই-পেপার

শিরোনাম
কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে গণপূর্তের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মতিউর রহমানের অনিয়ম নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল এক মানবিক শিক্ষকের জীবন বাঁচাতে সাহায্যের আকুল আবেদন বাংলাদেশ কৃষি উদ্যোক্তা ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন সুন্দরবনে জলদস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা ৬ জেলে উদ্ধার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে শহীদ জিয়ার আদর্শের বাস্তবায়ন চায় জনগণ যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় কোটি টাকা উপর টোল আদায় মায়ের স্মৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় মনোয়ার হাসান জীবনের ইফতার মাহফিল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন বিডিজেএ'র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা নূরে মদিনা মসজিদে সাউথ লন্ডন ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তা প্রদান বটিয়াঘাটায় উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল রোগীদের চিকিৎসায অর্থসহ ঈদসামগ্রী বিতরণ করলেন হাজী সারওয়ার জাহান মাষ্টার দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর অভিযানে ১৩৮ টুকরা অবৈধ কাঠ জব্দ করনেশন রোড ব্যবসায়ী মালিক সমিতির ইফতার ও দোয়া মাহফিল আইনজীবী হিসেবে সাংবাদিক এসএম বিপ্লব হোসেনের পথচলা শুরু সাফল্যের শিখরে রামগড়ের কৃতি সন্তান সিআইডি প্রধান শেরপুরের নকলায় ১২ ভিক্ষুককে ভেড়া উপহার নিজ মাথায় মাটি টেনে খাল পুঃন খননের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর পাইকগাছায় উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ স্টিকার লাগিয়ে দাম জালিয়াতি: খিলগাঁওয়ের ‘কান্ট্রি বয় লাইফস্টাইল’-এ ভোক্তা ঠকানোর মহোৎসব! ফায়ার সার্ভিসে দুর্নীতির ছায়া: ডিজির খামখেয়ালি সিন্ডিকেট প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ ছুটির প্রথমদিনে কমলাপুর স্টেশনে উপচে পড়া ভিড় ‎নিউ কলোনি জামে মসজিদে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বিক্রিত জমিতে ঘর নির্মাণ, জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা দুর্নীতিমুক্ত শেরপুর জেলা পরিষদ গঠন করতে চাই ঝিনাইগাতীতে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে থানায় জিডি হাজার মাসের চেয়েও সেরা রাত: আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর মৌলভীবাজারের কাটাগাং খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন মোংলার চিলা বৈদ্যমারীতে যুবকের আত্মহনন দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা অপরিসীম খুলনায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা পুলিশ সুপারের ছবি ব্যবহার করে ঈদের চাঁদা আদায় র‍্যাবের ডিজি হলেন হাবীব, এসবিপ্রধান নুরুল আমিন, সিআইডিপ্রধান মোসলেহ খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ কুয়াকাটায় সরকারি খাস জমির গাছ কেটে বিক্রি বরগুনায় বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের দোয়া ও ইফতার পার্টি হামলার পর দুবাই বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধ ৫০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় কঠোর নির্দেশনা খেপুপাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অশ্লীল ছবি ভাইরাল খুলনায় অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ রাজউকে ঘুষ-দুর্নীতি-অনিয়ম সিরিজ জয়ের পর বড় সুখবর পেল বাংলাদেশ সুন্দরবন অগ্নিনির্বাপণ রোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা শুটিংয়ে জেরিনকে অন্তর্বাস পরতে বাধ্য করা হয়েছিল এবার চীনের দ্বারস্থ হলেন ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীর পিএস পরিচয় দেওয়া প্রতারক আটক খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে দিনাজপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস পালিত শ্রীমঙ্গলে জমি দখলের চেষ্টা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

মির্জা আজমের আশীর্বাদে তমা-ম্যাক্সের লুটপাট

পাঠক সংখ্যা
638

সবুজ বাংলাদেশ ডেস্ক॥

পতিত আওয়ামী লীগ আমলের ১৬ বছরে দেশের রেল খাতে মেগাপ্রকল্পগুলোর কাজ বাগিয়ে নিত আলোচিত দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন ও ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। তমা কনস্ট্রাকশনের মালিক আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক ও ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর। আওয়ামী লীগের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা রেলের কমপক্ষে ৪০ হাজার কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেন। রেল ভবনের কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে তাঁরা গড়েছিলেন দুর্ভেদ্য চক্র।

দুইটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নেপথ্যে থাকতেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। তমা কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে মির্জা আজমের ঘনিষ্ঠতা এখনো রেল ভবনে আলোচনায় আছে। তবে মানিক গ্রেপ্তার এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়েছে ম্যাক্সের গোলাম মোহাম্মদ আলমগীরকে। তার বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত চলছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান বলেন, কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব থাকা সমীচীন নয়। কিন্তু এটা স্বীকার করতেই হবে, আমাদের দেশে বেশ কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবে দরপত্রে কারসাজি করেও কাজ দেওয়া হয়। রেলে এককভাবে কোনো একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বেশি কাজ দেওয়ার ব্যাপারটি একদিনে গড়ে ওঠেনি। এই সংস্কৃতি ভাঙতে প্রথম দরকার ক্ষমতাসীনদের সদিচ্ছা।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনায় উন্নয়ন প্রকল্প ছক-ডিপিপি তৈরি করত। পরে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবদের দিয়ে অনুমোদন করিয়ে নিত। আওয়ামী লীগ আমলে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মুজিবুল হক, নুরুল ইসলাম সুজন, জিল্লুল হাকিমের বাসভবন ও দপ্তরে সরাসরি ঢুকে পড়তেন তমা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আতাউর রহমান মানিক। ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ আলমগীরও তাতে পিছিয়ে ছিলেন না। কাজ পাওয়ার যোগ্যতা বেশি বোঝাতে বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ বাগিয়ে নিতো দুইটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, বড় বড় প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নেওয়ার পর সেগুলোর মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হতো তাদের গড়ে তোলা চক্রের মাধ্যমে। তাতে আপত্তি তুললে রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই বিপদে পড়তেন। প্রকল্প কর্মকর্তাদেরও বদলি করা হতো। তবে যেসব কর্মকর্তা তাল মেলাতেন তাঁদের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হতো। গাড়িবিলাসসহ অন্যান্য বাড়তি সুবিধা পেলে কর্মকর্তাদের বেশির ভাগ অবশ্য ভীষণ খুশি হতেন। বাগিয়ে নেওয়া প্রকল্পের টাকার বড় অংশ ঠিকাদারি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানির নামে ভুয়া এলসি খুলে বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে এই দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এদের বেশ কিছু প্রকল্পের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হয়নি।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া প্রকল্প নেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। দেশে বহু প্রকল্পে সম্ভাব্যতা যাচাই করার পরও ব্যয় সঠিকভাবে প্রাক্কলন করা হয় না। এ ক্ষেত্রে রেলে প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে এভাবে বেশ কিছু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। গত আওয়ামী লীগ আমলে এটা করা হয়েছে। এটা প্রকাশ্য দুর্নীতি। আসলে সম্ভাব্যতা যাচাই না করে লুটপাটের অবাধ সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প বরাদ্দের ৭০-৭৫ শতাংশ অর্থই লোপাট করা হয়েছে। তমা ও ম্যাক্স এই দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বেশি অর্থের কাজ নেওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবোধক।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, রাজবাড়ী থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণে যৌথভাবে কাজ করেছে ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন জোগাতেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্প নেওয়ার আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হয়। কিন্তু এ প্রকল্পে তা করা হয়নি। ২০১০ সালে প্রকল্প নেওয়া হয়। ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ১০১ কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত দফায় দফায় বাড়িয়ে প্রকল্প ব্যয় ঠেকে দুই হাজার ৩৫ কোটি টাকায়। ২০১৩ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে কাজ শেষ করা হয় ২০১৮ সালে। এই সময়ের মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ তিন দফা বাড়ানো হয়। ব্যয় বাড়ানো হয় ৯৩৪ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পে দেড় হাজার কোটিরও বেশি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদার ছিল ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার। নিয়ম থাকলেও এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। এই প্রকল্পও নেওয়া হয় ২০১০ সালে। শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৮৩ কোটি টাকা। পরে তিনবার মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত ব্যয় দাঁড়ায় এক হাজার ৭১৫ কোটি টাকায়। কাজটি পাঁচ বছরে শেষ করার কথা ছিল। মেয়াদ তিন বছর বাড়িয়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত করা হয়।

চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে ২০১৬ সালে ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত ওই ব্যয় বাড়িয়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের কাজ নিয়েছিল তমা ও ম্যাক্স। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প ছিল এটি। এই সুযোগে দফায় দফায় ব্যয় বাড়াতে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন। জানা গেছে, রেলে তমা ও ম্যাক্সের অলিখিত প্রতিনিধিরা ব্যয় বাড়ানোর প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে শেষ করতে তৎপর থাকতেন।

লাকসাম-আখাউড়া ডুয়াল গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পেরও কাজ পেয়েছিল তমা ও ম্যাক্স। এই প্রকল্পে এ প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারসাজিসহ সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে দেড় বছর অনুসন্ধান করে। ২০১৫ সালে প্রকল্পের কার্যাদেশ পেয়েছিল দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনে। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। ব্যয় বেড়ে যায় প্রায় হাজার কোটি টাকা।

২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৭২ কিলোমিটার ডুয়াল গেজ ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণের এ প্রকল্প অনুমোদন হয়। ২০১৫ সালে তমা ও ম্যাক্সকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনে। বর্ধিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৩ সালের জুনে কাজ শেষ দেখানো হয়। প্রকল্পে মাটি ভরাটেই ৯০০ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ঘনমিটার মাটি দেওয়ার কথা ছিল। পরে তা বাড়িয়ে করা হয় ১১ লাখ ঘনমিটার। প্রথমে প্রতি ঘনমিটারের দর ২৮০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও পরে তা বাড়িয়ে করা হয় ৬৫০ টাকা। শুরুতে এ ক্ষেত্রে ব্যয় ১৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ধরা হলেও পরে বাড়িয়ে করা হয় প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়াতে রাজি না হওয়ায় একাধিক প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করে তমা ও ম্যাক্সের নিয়োজিত সন্ত্রাসীরা।

ছিল মির্জা আজমের আশীর্বাদ: জানা গেছে, ঠিকাদার আতাউর রহমান মানিক আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের হাত ধরে দেশের বড় ধনী ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক বনে যান। মুলত মির্জা আজমের আশীর্বাদেই রেলে বড় বড় কাজ বাগিয়ে নেন মানিক। সাবেক সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গেও মানিকের উপস্থিতিতে একাধিক বৈঠক করেন আজম। আতাউর রহমান মানিক নোয়াখালীতে ‘তমা মানিক’ নামেই পরিচিত। তমার কাজের একটি অংশ মির্জা আজমও পেতেন। আগে আওয়ামী লীগ না করলেও মানিক এক পর্যায়ে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীকে বন্ধু বানিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতির পদও বাগিয়ে নিয়েছিলেন।

গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়ে নোয়াখালী-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে অল্প ভোটের ব্যবধানে সাবেক এমপি মোরশেদ আলমের কাছে হেরে যান মানিক। নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়নে তাঁর পৈতৃক বাড়ি। তবে ভোট পাওয়ার জন্য সেনবাগ উপজেলা শহরে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি তৈরি করে সেখান থেকে তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড চালাতেন। সেখানে প্রায় ১০ একর জায়গায় ‘ড্রিম পার্ক’ গড়ে তোলেন। অতীতে খেলোয়াড় বা ক্রীড়া সংগঠক না থাকলেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতিও নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত ৫ আগস্টের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

সেই আজম পলাতক: জামালপুর-৩ আসনের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এখন পলাতক। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জামালপুর-৩ আসন থেকে টানা সাতবার এমপি হন। তমা কংক্রিট লিমিটেড ও ময়মনসিংহে ভালুকা ডেইরি ফার্মে তাঁর মালিকানা রয়েছে। জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম বলেন, মির্জা আজম টেন্ডারবাজি, জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে ছিলেন বেপরোয়া।

ম্যাক্স চেয়ারম্যান অভিযুক্ত: প্রায় ২৮ কোটি টাকার ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত’ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে দুদক। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন। তিনি ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডেরও চেয়ারম্যান। দুদকের অনুসন্ধান দল প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছে, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকার পরও রেলের প্রকল্পে এককভাবেই ৩০ হাজার কোটি টাকার কাজ পেয়েছে ম্যাক্স গ্রুপের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড।

দুদক অনুসন্ধানী দলের কাছে দোহাজারী-কক্সবাজার, কাশিয়ানী-গোপালগঞ্জ ও আখাউড়া-লাকসাম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র রয়েছে। প্রাপ্ত কাগজপত্রের প্রাথমিক পর্যালোচনা করে সংস্থাটি বলেছে, প্রায় ৬২৮ কোটি টাকার কাশিয়ানী-গোপালগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ঠিকাদারের কাছে ১০ বছরে একই প্রকৃতির ২০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের দুটি চুক্তি, যার মূল্যমান ৩০০ কোটি টাকা এবং যেকোনো তিন বছরে ৩০০ কোটি টাকার বার্ষিক টার্নওভার অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল।

এসব যোগ্যতা না থাকার পরও প্রকল্পের কাজ পায় ম্যাক্স। এভাবে যোগ্যতা না থাকার পরও অন্যান্য প্রকল্পেরও কাজ পায় প্রতিষ্ঠানটি। দুদকের অনুসন্ধান দলের কাছে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে, প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ আলমগীরের মালিকানাধীন ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারকে ‘অনৈতিকভাবে’ কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, রেলে অবৈধভাবে কাজ পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে আরো তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

দামেস্ক থেকে পালালেন প্রেসিডেন্ট আসাদ

সবুজ বাংলাদেশ ডেস্ক:  বিদ্রোহীদের তোপের মুখে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক ছেড়ে পালালেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। এর আগে, বিদ্রোহী যোদ্ধারা দামেস্কে ঢুকে এর নিয়ন্ত্রণে নেয়। রোববার বিবিসি জানায়, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে দামেস্ক ছেড়েছেন। তবে তিনি কোথায় গেছেন, সেটি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এর আগে, দামেস্ক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী। শহরটির বিভিন্ন জায়গায় গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। রাজধানী দামেস্কের কুখ্যাত সেদনায়া কারাগারে প্রবেশ করেছেন বিদ্রোহীরা। তারা কারাগারের ফটক খুলে দিয়েছেন। বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সেদনায়ার কারাগারে অত্যাচারের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিদ্রোহীরা নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরাকে পালাতে শুরু করেছেন আসাদের সেনাবাহিনী।   সবা:স:জু-২৩১/২৪

আরও পড়ুন
language Change