মৌলভীবাজার সংবাদদাতা:
৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তির লোভে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী যুবককে খুন করা হয়েছে। এ খুনের মাস্টার মাইন্ড হলেন পতিত সরকারের জ¦ালানী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। খুনের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নিহত যুবকের মায়ের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজারসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ২০০টি মামলা দিয়ে তাকে হয়রানী করেছে বিপুর লোকজন। এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সস্মেলন করেছেন মানবাধিকার কর্মী, হোপস ডোর বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শামীমুন নাহার। গত সোমবার (১১ আগস্ট) বিকেলে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, ‘২০২০ সালের নভেম্বর মাসের শেষ দিকে মৌলভীবাজার শহরের মুসলিম কোয়ার্টার এলাকার ক্লাব রোডে বসবাসকারী এডভোকেট উমায়রা ইসলাম ইমার সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মানবাধিকার কর্মী শামীমুন নাহারের পরিচয় হয়। বিভিন্ন সময়ে ফোনে কথা বলার পর তার প্রতি অগাদ বিশ^াস তৈরী হয় মানবাধিকার কর্মীর। সিলেটে আসলে হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.) মাজার শরিফ জিয়ারত করতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন নারী আইনজীবী উমায়রা। তার আমন্ত্রণে ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি (শামীমুন নাহার) মৌলভীবাজার শহরে আসেন। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিলেটে মাজার শরীফ জিয়ারতে নিয়ে যাবে বলে মৌলভীবাজার শহরের সাকুরা মার্কেটের দিকে রওয়ানা হয়। তবে সাকুরা মার্কেটে না গিয়ে অন্য রাস্তায় নিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে অবস্থিত ‘হাটবাজার’ নামের একটি দোকানে নিয়ে যায়। সেখানে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমেরিকান ক্রেটিড কার্ডের মাধ্যমে উমায়রা ও তার পরিবারে জন্য প্রায় ৫ লক্ষ টাকার কাপড় ও অন্যন্য মালামাল ক্রয় করে। বাজারগুলো বাসায় পৌছানোর পর গাড়ির মধ্যে কালো রংয়ের ব্যাগ থেকে আইনজীবী উমায়রা পিস্তল বের করে ৬টি গুলি ওই পিস্তলে লোড করেন। এরপর গাড়ির ভেতর তার শরীরে পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে পূর্ব থেকে প্রস্তুত করে রাখা বি-ল্যাটেরাল এগ্রিমেন্টে শামীমুন নাহারের স্বাক্ষর নেন। ওদিন মৌলভীবাজার ন্যাশনাল ক্রেডিট এন্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি (এনসিসি) ব্যাংকে তার টাকা দিয়ে শামীমুন নাহার নামে একটি একাউন্ট খুলে ও ওই একাউন্টের চেক বই তার তারে কাছে নিয়ে নেন উমায়রা। ওই একাউন্টের মাধ্যমে তিনি প্রতারণা করে মানুষকে বিদেশ পাঠানোর নামে টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্য ছিলো।
বি-ল্যাটেরাল এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষর নেয়ার উদ্দেশ্য ছিলো তার বাবা সাবেক সচিব এ. কে. এম রশিদ উদ্দিনের ঢাকার ৩টি বাড়ি ও দোকানসহ প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ করা। এর মাস্টার মাইন্ড হিসেবে কাজ করেন পতিত স্বৈরাচারী সরকারের জ্বালানী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। সাবেক ওই প্রতিমন্ত্রীর পরামর্শে মানবাধিকার কর্মী শামীমুন নাহারকে মৌলভীবাজারে আনার অন্যতম সদস্য ছিলেন নারী আইনজীবী উমায়রা ইসলাম ইমা, কুলাউড়ার বরমচাল শাহ কালা মাজারের খাদিমের ছেলে আজমল আলী শাহ (সেন্টু), ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মমদূদ হোসেন, এডভোকেট আজিজুর রহমানসহ মৌলভীবাজার, ঢাকা ও বিদেশের সংঘবদ্ধ চক্র। এরইমধ্যে মানবাধিকার কর্মী শামীমুন নাহারের যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বড় ছেলে সাফায়েত ফরাইজি (৩৫) ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে আসেন। তাকে টার্গেট করে ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি তাকে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়। ছেলে হত্যার বিচার চাওয়ায় শামীমুন নাহারের উপর আক্রমন চালায় খুনিচক্র। ওই আক্রমনে তিনি গুরুতর আহত হয়ে প্রায় চার মাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ২০২২ সালের ২২ মে সিআর/মামলানং-২৩৭/২০২২ইং মামলা দায়ের করেন প্রতারক চক্রটির অন্যতম সদস্য মো. আজমল আলী শাহ (সেন্টু)। মামলাটি দায়েরের পর বিজ্ঞ আদালত তা তদন্তে ক্রিমিনাল ইনভেসটিগেশন ডিপার্টমেন্টকে (সিআইডি) নির্দেশ প্রদান করেন। তাদের তদন্তে মামলার এজাহারে উল্লেখিত তারিখ ও ঘটনাস্থল মিথ্যা বলে সিআইডি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এই প্রতিবেদন দাখিলের পর পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিআইডির ওই তদন্তকারী কর্মকর্তাকে এখান থেকে সরিয়ে দেন। এরপর বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে পুনরায় তদন্তে তার (শামীমুন নাহার) বিরুদ্ধে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামীম রেজা ফরামায়েশি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। এই প্রতিবেদনে তার সাথে তার প্রতিবেশী বোন মানবাধিকার কর্মী ফৌজিয়া হাসানকেও (৬০) আসামী দেখানো হয়। তাদের বিরুদ্ধে ওই মামলায় একে-একে ৫ বার ওয়ারেন্ট ইস্যু করে হয়রানী করা হয়। ৫ বারই আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পন করে তারা জামিন লাভ করেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০০টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। ২০২৪ সালের ২৭ জুন মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক দাউদ হাসানের আদালত দীর্ঘ শুনানী ও প্রকৃত মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে তাদের দুইজনকেই বেকসুর খালাস প্রদান করেন। তাদের খালাস প্রদানের পর আইনজীবী উমায়রা ইসলাম তার আইন পেশাকে বেআইনীভাবে ব্যবহার করে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ক্ষমতা অপব্যবহার করে উল্লেখিত বিচারককেও স্ট্যান্ড রিলিজ করান।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে শামীমুন নাহার বলেন, ‘তাদের সকলের মূল উদ্দেশ্য হলো আমার বড় ছেলের নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার যেন না পাই। তারা আমার সম্পত্তি গ্রাস করতে মানসিক, শারীরিক ও অর্থনৈতিকভাবে আমাকে পঙ্গু করে দেওয়ার পায়তায় লিপ্ত রয়েছে। আমার ঢাকার বাড়িতে সাড়ে ৫ কোটি টাকার উপরে স্বর্ণালংকার, ইউএস ডলার এবং টাকা পয়সাসহ সব ডাকাতি করে নিয়ে গেছে। আমি ওই সময় ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ক্ষমতা অপব্যবহারের কারনে কোন আইনী সহায়তা না পেয়ে ফেসবুক লাইভে এসে সকল ঘটনা দেশবাসীকে অবগত করি। ওই চক্রটি এখনো আমার পিছু ছাড়েনি। তবে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর থেকে আমার অনেকটা ন্যায় বিচার পাওয়া সম্ভাবনার ‘আশার আলো’ দেখছি। আমি ন্যায় বিচারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
উল্লেখ্য মৌলভীবাজারের নারী আইনজীবী উমায়রা ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পবিত্র ধর্ম ইসলাম নিয়ে কটুক্তি করলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত