তারিখ লোড হচ্ছে...

ই-পেপার

শিরোনাম
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা কেশবপুরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি পুলিশের হাতে ফের আটক অসহায় এক পরিবারের পাশে দাঁড়ালো ‘সাউথ লন্ডন ফাউন্ডেশন ১২ কেজি এলপিজির দাম একলাফে বাড়ল ৩৮৭ টাকা মোংলায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন কমফোর্ট হাউজিংয়ের ভবনে অনুমোদনবিহীন অতিরিক্ত ফ্ল্যাট নির্মাণ শেরপুরে তেল নিতে ব্যস্ত ট্যাগ অফিসার, ভোগান্তিতে বাইকাররা এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে জরুরি নির্দেশনা আপনার কিডনি নীরবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে না তো লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই শ্রমিকের মৃত্যু নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার ৫ উপায় ৯ম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি এনসিপির ফটোশুটের নামে শ্লীলতাহানি গায়ক জাহিদ অন্তু কারাগারে ২ সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠালেন এসিল্যান্ড পহেলা বৈশাখ ঘিরে জাসাসের ব্যাপক প্রস্তুতি পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে মোটরসাইকেলের ট্যাংক খুলে হাজির চালক রাত ৮টার মধ্যে দোকান-শপিংমল বন্ধের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমার টিজার প্রকাশ করে বিতর্কে রণবীর রেলের সাগর চুরির কারিগর ফকির মো. মহিউদ্দীন! একইদিনে তিনটি অপমৃত্যুর ১৫ এপ্রিলের পর পোল্যান্ডের ভিসার আবেদন নেবে না সুইডিশ দূতাবাস বনদস্যু দমনে জোরালো অভিযানের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের ইরান যুদ্ধ নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প কেশবপুরে ঘরের গ্রিল কেটে শিক্ষকের বাসায় চুরি আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা লালবাগে নারীসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক ঝিনাইগাতীতে পানি নিষ্কাশন বন্ধ, চরম দুর্ভোগে গ্রামবাসী আমতলীতে জমি বিরোধে বৃদ্ধা নিহত, অভিযুক্তরা পলাতক অনিয়ম ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ: চাটখিলে দুই হাসপাতালকে অর্থদণ্ড শেরপুরে টাঙ্কে ভরা অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার শ্রীমঙ্গলের কিশোর হত্যা মামলায় দুই আসামি গ্রেফতার কয়রায় পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা ও হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন সুন্দরবনে আজ থেকে শুরু হলো মৌয়ালরা টাঙ্গাইলে অনুমোদনহীন ৪ ইট ভাটায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা জরিমানা কেশবপুরে কৃষকের মাঝে বীজ বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী পথসভা ও লিফলেট বিতরণ বটিয়াঘাটায় অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত চায়ের দোকান চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুলের চুরি হওয়া ৩টি টিভি উদ্ধার, গ্রেফতার ২ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে  বিএসটিআই কর্মকর্তারা সিরাজগঞ্জে ফিটনেসবিহীন ও অননুমোদিত যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ভোলাহাটে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত শেরপুরে কফি চাষে আশার আলো দেখাচ্ছেন উদ্যোক্তা রংপুরে জাল ব্যান্ডরোল উদ্ধারের ঘটনায় ২ জনের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড সুন্দরবনের ডাকাত জোনাব বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা ১ জেলে উদ্ধার পাইকার সংকটে তরমুজ বাজার, চাষির চোখে লোকসানের শঙ্কা ইউকে চিং নামে পাড়ার নাম করণের দাবি সিএইচটির দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত খাগড়াছড়িতে তেল সংকটে পাম্পে দীর্ঘ লাইন উন্নয়নের মানচিত্রে যেন এক ‘বিচ্ছিন্ন দ্বীপ’ আজহারির ভিসা বাতিল, অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের নির্দেশ

এসেনশিয়াল ড্রাগস এমডি সামাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের স্তুপে

পাঠক সংখ্যা
638

নিজস্ব প্রতিবেদক॥

সরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) এর এমডি সামাদ মৃধার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তদন্তে কমিটিও গঠন করেছে মন্ত্রণালয়। তারমধ্যে আবার নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী দ্বৈত নাগরিক এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘নারীঘটিত’ অভিযোগ ওঠায় তাকে নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আর্থিক অনিয়ম সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,ইডিসিএলের এক প্ল্যান্টের পিকনিকে অন্য প্ল্যান্টের কর্মীদের যাওয়ার অনুমতি নেই। কিন্তু মধুপুর প্ল্যান্টের পিকনিকে ড্রাইভার কামালের গাড়ি দিয়ে খুলনা প্ল্যান্টের তিন নারী কর্মকর্তা (প্রশাসন) শাপলা খাতুন (৬২৮), কনিষ্ঠ কর্মকর্তা (প্রশাসন) অনন্যা ইউসুফ (২৩১৬), সহকারী কর্মকর্তা (প্রশাসন) সোনিয়া শারমিন (৩৭০৪) ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরও নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে খুলনার সরকারি প্রতিষ্ঠান খুলনা এসেন্সিয়াল ল্যাটেক্স প্লান্ট (কেইএলপি)-তে ২০২৫ সালের বার্ষিক বনভোজন উপলক্ষ্যে ৩৭ লাখ ৪৪ হাজার ৪৭০ টাকার বাজেট বরাদ্দ হলেও, বাস্তবে তার সিংহভাগই দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বনভোজনের সমস্ত খরচ এককভাবে তোলা হয় উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাপলা খাতুনের নামে। আরও বিস্ময়ের বিষয় হলো—সব ভাউচার এবং খরচপত্র এক ব্যক্তির হাতের লেখা, যেখানে মাছ, মাংস, ফলমূল থেকে শুরু করে পোশাক কেনা পর্যন্ত একই হাতের লেখায় প্রস্তুতকৃত মেমো পাওয়া গেছে।

আলোকচিত্র মনিরুলের পুরাতন আমলনামার আংশিক ধারণ করেছে।

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুস সামাদ মৃধা প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিলেও তার সঙ্গে বিশেষ অতিথি ছিলেন আলোচিত এক মডেল। সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে মডেল আমন্ত্রণ ও তার ”মডেলপ্রীতি” নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আপ্যায়নের নামে ৪০ কেজি খাসির কলিজা, ৪০ কেজি আপেলের জুস, আধা মন আঙ্গুর এবং ২৬৪ কেজি মাছ— যার মধ্যে ৬০ কেজি রূপচাঁদা, ১১৫ কেজি চিংড়ি, ৩৬ কেজি বোয়াল ইত্যাদির বিল দেখানো হয়। মাছের জন্যই ব্যয় ধরা হয় ৪ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাছ খেতেই পাননি। ১৬০ কেজি আপেল বিতরণ করা হলেও ১৫০ কেজি কমলা শুধু বিলেই ছিল।
চার হাজার পিস দুই টাকার চকোলেটের বিল করা হয়েছে ১০ টাকা দরে। সোনালি মুরগির রোস্ট থাকলেও দ্ইুশ কেজি ব্রয়লার মুরগির বিল দেখানো হয় ৪২ হাজার টাকার। ৮৮১ জনের বনভোজনে ৩শ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ও ১৫০ জন কেটারিং—প্রত্যেককে উপহার দেওয়া হয় ভিআইপি বেডশিট, যার দাম দেখানো হয়েছে ১ হাজার সাতশ থেকে তিন হাজার সাতশ টাকা পর্যন্ত। অথচ প্রকৃত মূল্য ছিল ৪৫০–৮৫০ টাকার মধ্যে। পাঁচশ এমএলের পানির বোতলের বদলে ২৫০ এমএল সরবরাহ করে পাঁচ হাজার দুইশ বোতলের বিল করা হয়। সিগারেটের বিল দেখানো হয়েছে ৩ লাখ পাঁচ হাজার টাকা— যার সিংহভাগ উঠেছে সিবিএ নেতা কামাল ও তার সহযোগী আল-আমিনের পকেটে।

অন্যদিকে ইডিসিএল-এ আর্থিক অনিয়মের যেন শেষ নেই। একই পরিবারের ডজন ডজন লোক কাজ করছেন বিশেষ সুপারিশে, তার বড় উদাহরণ হাসান ইমাম। তার পরিবার আত্মীয়-অনাত্মীয় মিলে এখানে প্রায় ৫০ জন লোক কাজ করে। এর মধ্যে তার আপন তিন বোন ঢাকা, গোপালগঞ্জ ও খুলনা প্ল্যান্টে কর্মরত।

সূত্রমতে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোটা অঙ্কের অবৈধ আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে টেন্ডার বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন এবং অর্থ লোপাটের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটিকে বিতর্কিত করেছে। বিভিন্ন সময়ে দুদকের অভিযানে তার প্রমাণও মিলেছে। আওয়ামী লীগের পতন হলেও এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানিতে এখনও চলছে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের দাপট। গত কয়েকমাস ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে ছাঁটাই কার্যমক্রম চলছে নতুন এমডি সামাদ মৃধার ছত্রছায়ায়। এ পর্যন্ত কোম্পানি থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে সাড়ে চারশরও বেশি কর্মীকে। আর এ ছাঁটাই নিয়ে চলছে বিতর্ক। কারণ নতুন এমডির মাধ্যমেই চলছে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা দুর্নীতি ও অপকর্ম।

২০১৪ সালে ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতা এহসানুল কবির। দুদকে ৪৭৭ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুরুতে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেও ১০ বছর টানা এই পদে ছিলেন তিনি। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে ২ অক্টোবর তিনি ইস্তফা দেন। এরপরই ইডিসিএলের ১৮৫তম বোর্ড সভার অনুমোদনক্রমে মো. সামাদ মৃধাকে এই পদে বসানো হয়। জানুয়ারিতে আমেরিকা থেকে দেশে এসে এমডি পদে যোগ দেন দ্বৈত নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী সামাদ মৃধা, যিনি ৫ আগস্টের পর হঠাৎ করে বনে যান বিএনপির রাজনৈতিক কর্মী।

এমডি সামাদ মৃধা যোগ দেওয়ার চারদিনের মধ্যেই নিজ ক্ষমতাবলে আপন ভাতিজা নাজমুল হুদাকে নিয়োগ দেন সিনিয়র অফিসার ও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে। এর তিনদিনের মাথায় তাকে ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি দেন। এ নিয়োগের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিছু জানে না।  জানা গেছে, নাজমুল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শেখ হাসিনার আমলে শেখ পরিবারের আত্মীয় নিক্সন চৌধুরীর জন্য তার ভোট চাওয়ার ছবি এখন ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। একই মাসে তিনি অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাসিরুল ইসলামের আপন ভাতিজা শাফায়াত হোসেনকে এমডি সেকশনে অফিসার পদে নিয়োগ দেন। শাফায়াত নিয়মিত ডিআইজির গাড়িতে করে অফিসে আসেন বলে জানিয়েছেন কোম্পানির কর্মীরা। এই নিয়োগের ব্যাপারেও বেখবর মন্ত্রণালয়। জানা যায়, ডিবির নাসিরের সঙ্গে দহরম মহরম থেকেই এই নিয়োগ।

অন্যদিকে কোম্পানির ঢাকা প্ল্যান্টে ২৭ ফেব্রুয়ারিতে ১২৫ ক্যাজুয়াল কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরে ৩০ জনের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হয় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। আর পুরো আর্থিক লেনদেনটিই হয় গোপনে, যার নেতৃত্বে ছিলেন মহাব্যবস্থাপক মো. মনিরুল ইসলাম (প্রশাসন ও মানবসম্পদ), পিএস নাজমুল হুদা, এডমিন অফিসার তুষার, এডমিন সেকশনের পিওন হাবিব, এমডির পিওন ইব্রাহীম শিকদার ও এমডির আত্মীয় শওকত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী বলেন, ‘মাগুরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের মদদপুষ্ট হয়ে ইডিসিএলে নিয়োগ পান মনিরুল। একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানির ম্যানেজার থেকে সরাসরি খুলনা এসেনসিয়াল ল্যাটেক্স প্লান্টের (কেইএলপি) ডিজিএম পদে আসীন হন তিনি। এরপর সেখানে গড়ে তোলেন নিজের সিন্ডিকেট। নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০২২ সালে নারীঘটিত এক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বগুড়া প্লান্টে বদলি করা হয়। কিন্তু ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইডিসিএলের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. এহসানুল কবির জগলুলের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ঢাকা হেড অফিসে পারচেজ কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। পরে ইডিসিএলে বর্তমান এমডি আব্দুস সামাদ মৃধা দায়িত্বে এলে মনিরুলের কপাল খুলে যায়। সরাসরি প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের (জিএম) পদ জুটিয়ে নেন তিনি। এরপরই তিনি অতিরিক্ত জনবলের দোহাই দেখিয়ে চাকরিচ্যুত করার কাজে নামেন।

এই আলোকচিত্র নাজমুলের রাজনৈতিক ভাবাদর্শ প্রকাশ করে।

অনিয়ম আর দুর্নীতির কাজে তাকে সরাসরি সহায়তা করছে তারই গড়ে তোলা পুরোনো সিন্ডিকেট। এক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন খুলনা এসেনসিয়াল ল্যাটেক্স প্লান্টের উপ-ব্যবস্থাপক ও ইনচার্জ (হিসাব ও অর্থ) কাজী তানজীমা তাবাচ্ছুম (২৩৪৯)। তার হাত ধরেই সেখানে আধিপত্য বিস্তার করেন মনিরুল। গোপালগঞ্জ কোটায় চাকরি পাওয়া তাবাচ্ছুমকে সঙ্গী বানিয়ে অনৈতিকভাবে ওভারটাইম সুবিধা দেওয়াসহ বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। খুলনা প্ল্যান্টে তাবাচ্ছুমের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা খাদিজা আফরিন (৩৭১২), সহকারী কর্মকর্তা (প্রশাসন) শেখ মিজানুর রহমান (৪৬৭৮), কনিষ্ঠ কর্মকর্তা (নিরপেক্ষ) সুজিত কুমার মণ্ডল (৪১০১), কনিষ্ঠ কর্মকর্তা (প্রশাসন) অনন্যা ইউসুফ (২৩১৬), মো. আশিকুজ্জামান (৪৯০৭), সোনিয়া সুলতানা (৩৭০৪), শাপলা খাতুন (০৬২৮) ও গাড়িচালক কামাল হোসেন।
সূত্র জানায়, মনিরুল ইসলামের ভাতিজা নিলয়ের মাদকসেবনের ভিডিও এমডি সামাদ মৃধা দেখানো হয়। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তার নিয়োগ দুই মাস পূর্বের তারিখে দেখিয়ে চাকরি স্থায়ী করে মধুপুর প্ল্যান্টে বদলি করে দেন। মনির আওয়ামী লীগের দোসর, আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন জড়িত। শুধু তাই নয়, তারেক রহমানের ফাঁসিও চেয়েছিলেন তিনি। তাহলে তিনি কীভাবে এখনও বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন, প্রশ্ন চাকরিচ্যুত এক ভুক্তভোগীর।এদিকে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে সামাদ মৃধার ”নারীকর্মী প্রীতি” ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাদ মৃধার নারী সম্পৃক্ততা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্ট এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি।
জানাাগেছে, গত ২২ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার কয়েকটি নগ্ন ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যে ছবিগুলোতে দেখা যায়, তিনি ভিডিও কলে কারও সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আছেন। ‘স্যারের এসব ছবি আমাদের সবার কাছেই আছে, কিন্তু ভয়ে কেউ কিছু বলছে না,’ বলেন এসেনসিয়াল ড্রাগসের এক কর্মী।

২২ জুন লন্ডন প্রবাসী এক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট সাংবাদিক তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন। আর কমেন্টবক্সে তার টেলিগ্রাম চ্যানেলের লিংক শেয়ার করেন। যেখানে সামাদ মৃধার দুটি আপত্তিকর ছবি দেখা যায়। ওই ছবির বিষয়ে সঙ্গে কথা বলেছেন ওই প্রবাসী সাংবাদিক। ‘দেখেন উনি (সামাদ মৃধা) যখন আমাকে কল করেন, তখন এসব ছবি নিয়ে আমি প্রশ্ন করি, এর উত্তরে তিনি এসব ছবি সত্য নয় বলে উড়িয়ে দেন। কিন্তু আমি এসব ছবি বিভিন্ন সফ্টওয়্যারে যাচাই করেছি, যেটি তাকে জানাই। এরপর তিনি চুপ থাকেন। আর এই ছবিতে স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে তিনি ভিডিও কলে কারও সঙ্গে আপত্তিকর মুহূর্তে আছেন। রাষ্ট্রের এত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে একজন ব্যক্তি কীভাবে এসব করতে পারেন!’ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ইডিসিএলে কর্মরত এক কর্মচারী জানান, প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন নারী কর্মীর সঙ্গে সামাদ মৃধার সখ্য গড়ে উঠেছে। সেই সূত্রে তিনি নিয়মের বাইরে গিয়ে কয়েকজনকে প্রমোশনও দিয়েছেন।নিয়োগের পর মাস খানেকের মধ্যে এমডি সেকশনে আনা হয় এক সিনিয়র নারী ক্লার্ককে। এর কিছুদিনের মধ্যেই তাকে দুটি প্রমোশন দিয়ে জুনিয়র অফিসার বানিয়েছেন এমডি। ইডিসিলের অনেকেই তাকে এমডির প্রিয়ভাজন হিসেবে জানেন। আর এই নারীর কিছু গোপন ভিডিও এখন প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীদের মুঠোফোনে ঘুরছে, যা নিয়ে চলছে কানাঘুষা।

এদিকে আরেক নারী উৎপাদন কর্মকর্তাকে একমাস আগে ব্যাকডেট দেখিয়ে প্রমোশন দেওয়া হয়, যা নিয়ে বিতর্ক চলছে ইডিসিএল ঢাকা প্ল্যান্টে। ইডিসিএল এমডিকে নিয়ে এমন বিতর্কের বিষয়টি সামনে আসায় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্যদের যৌন হয়রানি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগীরা।

২০১০ সাল থেকে আমি খুলনার কেএলপিতে কাজ করছি। ২০১৮ সালে একদিন মনির স্যার আমাকে ডেকে বলেন, তুমি আমার সাথে বেশি বেশি কথা বলবা। আর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলবা, তুমি কি চোখের ভাষা বোঝ না? আমি কি চাই বোঝ না? আমি সেদিন কাউকে কিছু বলিনি চাকরি হারানোর ভয়ে। কিন্তু দীর্ঘ পনেরো বছর চাকরি করার পর হঠাৎ করেই আমার চাকরিটা বিনা কারণে চলে গেল। আর এর পেছনে ওই মনির স্যারের হাত রয়েছে। আমার ওপর তিনি দীর্ঘদিনের ক্ষোভ মিটিয়েছেন। ’ বলেন ভুক্তভোগী এক নারী, যিনি এপ্রিলে টারমিনেশন লেটার পান।

ভুক্তভোগী আরেক নারী জানান, ২০২২ সালে নারীঘটিত এক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মনিরকে বগুড়া প্লান্টে বদলি করা হয়। তবে চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেনি।চাকরিচ্যুত আরেক নারী বলেন, ‘চাকরি যাওয়ার পাঁচদিন আগে উৎপাদন শ্রমিক আল আমীন (৩৬৮৭) আমাকে বলেন, যারা চাকরি বাঁচাতে চান তারা যেন টাকা নিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করে। যারা টাকা দিতে পারবে তাদের নাম টারমিনেশন লিস্টে দেওয়া হবে না। ’ তিনি ২০১১ সাল থেকে এ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত জনবলের জন্য আমাদের চাকরি যায়নি। চাকরি গেছে মনির-কামাল গংদের রোষানলে পড়ে। এখানে অনেকের চাকরির বয়স ১০ থেকে ১৫ বছর। যারা নতুন জয়েন করেছেন তাদের চাকরি না গিয়ে আমাদেরটা গেল কেন?’ খুলনা প্ল্যান্টে প্যাকেজিং সেকশনে কর্মরত এক নারী কর্মী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) ড্রাইভার কামাল ও তার সহযোগী উৎপাদন শ্রমিক আল আমিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে বলেন, ‘২০২২ সালে আমি এই প্ল্যান্টে জয়েন করি। তারপরই শুরু হয় ড্রাইভার কামাল ও তার সহযোগীদের দ্বারা যৌন নিপীড়ন, যার প্রতিকার আজও পাইনি। ড্রাইভার কামালের সহযোগী আল আমিন আমাকে টিজ করে বলে, তোমাকে হট লাগে, কেন আমাদের সময় দাও না। একইভাবে আমাদের সেকশনে আরও ৫-৬ জনকে নানাভাবে ড্রাইভার কামালের পক্ষ থেকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হতো। বলা হতো, ড্রাইভার কামালকে সময় দিলে চাকরি নিরাপদ থাকবে। ’ এমন যত সব অভিযোগ এমডি সামাদ মৃধা ও তার সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে। এবিষয়ে বক্তব্য জানার জন্যে সামাদ মৃধার ব্যবহৃত ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

 

 

 

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

বেস্ট হোল্ডিংয়ের ভয়াবহ জালিয়াতি করে ধরাছোয়ার বাহিরে আমিন

ফের রং বদলাতে চান তারেক রহমানের মামলার বাদী আমিন আহমেদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপি জোট সরকারের সময়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঠিকাদারি ব্যবসার মাধ্যমে বৈধ-অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেন আল-আমিন কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান আমিন আহমেদ ভূঁইয়া। ১/১১’র তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ২০০৭ সালে তিনিই আবার বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সাবেক একান্ত সহকারী মিয়া নূরউদ্দিন অপুকে আসামি করে ১ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন গুলশানের আলোচিত উদয় টাওয়ারের মালিক আমিন আহমেদ ভূঁইয়া। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে দ্রুতই সেই দলের ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে মিশে যান তিনি। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির বাচ্চুর সাথে মিলে ফাঁকি দিয়েছেন সাড়ে আট কোটি টাকার রাজস্ব। সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী

আরও পড়ুন
language Change