নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রোগীদের সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে এবং অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কার্ডিওলজি চিকিৎসা প্রদান করার কথা থাকলেও হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক উইং পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানে প্যাথলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও মাইক্রোবায়োলজি এই তিনটি বিভাগ মিলে যে সীমিত সংখ্যক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়, তা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত নয়। থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট, কোয়াগুলেশন প্রোফাইল, প্রোক্যালসিটোনিন, ইউরিন রুটিন, সিরাম আয়রন প্রোফাইলসহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এখানে করা সম্ভব হচ্ছে না অথচ এগুলো হৃদরোগের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঠিক সেবা নির্ধারণের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে রোগীদের অন্য হাসপাতাল থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা করাতে হয় অথবা অসম্পূর্ণ ডায়াগনসিস নিয়েই চিকিৎসা সমাপ্ত করতে হয়।
হাসপাতালের শিশু বিভাগে জন্মগত হার্টের ছিদ্র নিয়ে ভর্তি আছেন দেড় বছরের একটি শিশু। চুড়ান্ত অপারেশন টেবিলে যেতে সব মিলিয়ে তাকে ১০ থেকে ১২টি পরীক্ষা করাতে হয়। তবে এর বেশিরভাগ পরীক্ষাই বাইরের হাসপাতালগুলো থেকে করাতে হয়েছে। যে কারণে তাকে বাড়তি অনেক টাকাই খরচ করতে হয়েছে বলে জানান শিশুটির অভিভাবক। তাছাড়া হাসপাতালটিতে যে পরীক্ষা হয়, তার মধ্যে বেশ কয়েকটি খুবই নিম্নমানের।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী আশপাশের বেশ কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনের উদ্যোগ নেন। প্যাথলজি টিম (টেকনোলজিস্টসহ) বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করে এবং বিভাগীয় প্রধান, চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্টদের পরামর্শ নেয়া হয়। পরিদর্শন কমিটি মেশিন সংগ্রহের ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতির গুণগত মান ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেয় হয়। তবে এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ করে নিজের কোম্পানি রজনীগন্ধা ইন্টারন্যাশনালের নিম্ন মানের মেশিন ক্রয়ের পরিকল্পনা করেন ট্রান্সফিউশন বিভাগের টেকনোলজিস্ট আব্দুর রব আখন্দ। তার কোম্পানির মেশিনারিজ ব্যবহার করতে না দেয়ায় অন্য আন্তর্জাতিক মানের কোম্পানিকেও হাসপাতালে মেশিন সরবরাহ করতে দেয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কোটি কোটি টাকার মেশিন হাসপাতালে ব্যবহৃত না হওয়ার কারনে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।
জানা গেছে, ০৫ আগষ্ট হাসিনার পতনের পর আব্দুর রব আখন্দ, বিভিন্ন ডাক্তার, টেকনোলজিষ্ট এবং অন্যান্য কর্মচারীদেরকে তার কথামত চলার জন্য এবং তার কোম্পানির মালামাল ও রিএজেন্ট ব্যবহারের জন্য চাপ এবং হুমকি প্রদান করেন বলেও অভিযোগ উঠে। এক পর্যায়ে চিকিৎসক এবং টেকনোলজিষ্টরা মিলে অভিযোগ করলে হাসপাতালের অধ্যপক ও চিকিৎসকরা মিলে সালিশির মাধ্যমে তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করেন। কিন্ত এরপরেও থামেনি তার দৌরাত্ম্য। একজন টেকনোলোজিস্ট হয়েও সিনিয়র ডাক্তারদের সাথেও অশোভনীয় অচরণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
কয়েকজন ডাক্তার ও টেকনোলজিস্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রজনীগন্ধা কোম্পানির মেশিন এবং রিএজেন্টগুলা অত্যান্ত নিম্ন মানের এবং পরীক্ষ-নিরীক্ষা করলেও ফলাফল ভালো পাওয়া যায় না । যেটা হৃদরোগের মত একটা স্পর্শকাতর হাসপাতালের জন্য উপযোগী নয়।
সরজমিনে দেখা গেছে, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট হয়েও ক্ষমতার দাপটে আব্দুল রব আকন্দ একজন সহযোগী অধ্যপকের রুম দখল করে সেখানে নিয়ম বর্হিভুতভাবে এসি, ফ্রিজ, ইত্যাদি ব্যবহার করেন।
এই ব্যাপারে প্রশাসনিক কর্মকর্তার সাথে কথা বললে জানা যায়, ৫ আগষ্ট ২০২৪এর পর জোর পূর্বক ঐ রুমের চাবি নিয়ে যায় এবং ষ্টোর থেকে এসি, ফ্রিজ ইত্যাদি নিয়ে যায়। সকাল ১১ টার নাগাদ তার নেমপ্লেইট সম্বলিত ওই রুমে গিয়ে সেটি তালাবন্ধ পাওয়া যায় এবং কর্মচারিদের সাথে কথা বললে জানা যায় যে, অফিসের সময়ে তাকে খুবই কম দেখা যায় তবে সন্ধ্যার পরে তাকে লোকজন সহকারে আড্ডা দিতে দেখা যায়।
অভিযোগ আছে এই চক্রটি হাসপাতালের রিএজেন্ট চুরি করে বাহিরে বিক্রি করে হাসপাতালে রিএজেন্ট এর কৃত্রিম সংকট তৈরী করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক বলেন, আমরা সবসময় আতংকে থাকি। যে কোন সময়ে এসে সে আমাদেরকে ভয়ভীতি প্রদান করে এবং অন্যত্র বদলি করার হুমকি দেয়। একজন তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারীর এই ধরনের আচরণ মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর। এই ব্যাপারে প্রশাসন উদ্যোগ নিবেন বলেও আশা তার।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুর রব বলেন, পরিচালক তাকে রুম বরাদ্দ দিয়েছেন, তাছাড়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয় বলেও জানান তিনি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত