নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
বিসিবিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে হোটেল ম্যানেজার সাখাওয়াত হোসেনকে কেন্দ্র করে। বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আর্শিবাদে সাবেক স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের ত্রাণ তহবিলে দুই কোটি টাকার অনুদানের সাখাওয়াত হোসেন এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গন ও বিভিন্ন বিশ্লেষক সরব হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির ক্রিকেট সংশ্লিষ্টতা থাকা বাধ্যতামূলক। তবে সাখাওয়াত হোসেনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ক্রিকেট পরিচিতি নেই। তিনি একজন হোটেল ম্যানেজার হিসেবে পরিচিত, তার অবৈধ টাকা, বিভিন্ন উপটোকন ও রাজনৈতিক সম্পর্ক তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।
সাবেক ক্রিকেটাররা বলছেন, যারা সারা জীবন ক্রিকেটে নিয়োজিত ছিলেন, তারা পাশের সারিতে থাকলেও অচেনা মানুষ পদ পেয়েছেন, এটি হতাশাজনক। অনেক বিশ্লেষকও বলছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া (অভিযোগ রয়েছে, মানুষকে প্রশাসনিক হুমকি দিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রেখেছেন) পেশাদারিত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগে সাখাওয়াত হোসেনকে বিসিবির সভাপতির উপদেষ্টা করা হয়েছিল। এটি নিয়েও দীর্ঘদিন বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার কমতি ছিল না।
অন্যদিকে, সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, পেশাগত কারণে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে আমাকে ছবি তুলতে হয়েছে, এটি কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণ করে না। আমি ক্রিকেট পর্যটন নিয়ে কাজ করার জন্য দায়িত্ব পেয়েছি এবং দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নিয়োগ শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং বোর্ডের নীতি, নিয়মনীতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংযোগ ব্যবহার করে তৈরি ‘প্রটেকশন নেটওয়ার্ক’ বোর্ডের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ক্রিকেট অঙ্গনের বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, যোগ্য ব্যক্তি বাদ দিয়ে রাজনৈতিকভাবে সংযুক্ত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি বোর্ডের ভাবমূর্তি ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, সাখাওয়াত হোসেনের রাজনৈতিক প্রভাব, পারিবারিক সংযোগ এবং আর্থিক বিনিয়োগ মিলিতভাবে তাকে বিসিবির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। তার অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বোর্ডের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদ গ্রহণের বিষয়টি ক্রিকেট অঙ্গনের মধ্যে বিতর্ক ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত