সিহাব উদ্দিন: কক্সবাজার প্রতিনিধি॥
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ। গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি পর্যটকদের নিরাপত্তা, অপরাধ দমন, পরিবেশ রক্ষা ও সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়েছেন। তা কক্সবাজারের পর্যটন খাতে নতুন আস্থা তৈরি করেছে।
তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল পর্যটকের ছিনতাই হওয়া ১০ হাজার ৫০০ টাকা ও আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স উদ্ধার।
তাঁর চেষ্টায় ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। একইভাবে রাশিয়া থেকে আসা পর্যটক মনিকা কবিরের হারানো হ্যান্ডব্যাগ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করা হয়। পর্যটক হয়রানির অভিযোগে ১৭টি ক্যামেরা জব্দ এবং চুরি হওয়া ক্যামেরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধারের ঘটনাও ট্যুরিস্ট পুলিশের দ্রুত সাড়া দেওয়ার উজ্জ্বল উদাহরণ।
পরিবেশ রক্ষায়ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ।
মারমেইড বিচ রিসোর্টের অবৈধ সম্প্রসারণ উচ্ছেদ, সৈকতে নিয়মিত বিচ ক্লিনিং কর্মসূচি, ময়লা ফেলতে বিশেষ ঝুড়ি স্থাপনসহ পরিবেশবান্ধব সৈকত গঠনে তিনি নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি প্রতারণামূলক অপহরণের নাটক উদঘাটন, প্রেমিক যুগল উদ্ধার, পর্যটকের গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করে ছড়ানোয় অভিযুক্ত যুবক গ্রেপ্তার, লাইটহাউস এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ দমনে অভিযানসহ একের পর এক পদক্ষেপে পর্যটকদের আস্থা বাড়ছে। লাইটহাউস এলাকায় অবৈধ সুড়ঙ্গপথ চিহ্নিত করে ১৩ নারী-পুরুষ আটক করাও ছিল তাঁর একটি আলোচিত অভিযান।
এই ধারাবাহিক সফলতার মধ্যেই ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ সবুজ বাংলাদেশকে বলেন, “চলতি পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে বেড়াতে এসে পর্যটকরা যাতে নিরাপদ ভ্রমণ শেষে নির্বিঘ্নে নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের হয়রানির চেষ্টা করলে বা পর্যটন এলাকায় অশান্ত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অনৈতিক কার্যকলাপ কঠোর হাতে দমন করা হবে। তাঁর উদ্যোগে সৈকতে পচা মাছ বিক্রিরোধে অভিযান, বিভিন্ন স্পা সেন্টারে অনিয়মবিরোধী ব্যবস্থা, টিকটক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান, পর্যটক সহায়তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্ভিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগে সেবার মান দৃশ্যমান হয়েছে।
জিনিয়া হোটেল ও কক্স ভ্যালি হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, হারানো অন্ধ শিশুকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, পর্যটকদের মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার, নারী অপহরণ মামলার ভিকটিমকে উদ্ধার, ইয়াবাসহ মাদককারবারি আটক, তরুণ-তরুণী উদ্ধারসহ নানা কার্যক্রম কক্সবাজারে নিরাপত্তার চিত্র বদলে দিয়েছে।
এক বছরে ট্যুরিস্ট পুলিশের সাফল্যের তালিকাও দীর্ঘ। এ সময় ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার হয়েছে ৩০ জন, ভাসমান অপরাধী ৩৬ জন, নিবন্ধিত হয়েছে ১৭৫ সিআর মামলা। হারানো ১৫০ শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২৭টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ২৬টি চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার, ৯ ইভ টিজার গ্রেপ্তার, ১৯ মৃতদেহ উদ্ধার ও ১৫ জীবিত ব্যক্তিকে পরিবারের কাছে ফেরানো হয়েছে। পর্যটন নিরাপত্তা, পরিবেশ রক্ষা এবং শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদের নেতৃত্বে ট্যুরিস্ট পুলিশের এই ধারাবাহিক সাফল্য কক্সবাজারকে একটি নিরাপদ, পরিবারবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে অভিমত কক্সবাজারে আগত পর্যটক ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত