স্টাফ রিপোর্টার॥
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)র ৪৭ ক্যাটাগরির ২৩৬ টি শূন্য পদে সরাসরি জনবল নিয়োগে ভয়ংকর জালিয়াতির ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। যার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নং-০১/২০২৫। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর কারিগরি পুলের বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রার্থীদের বিভিন্ন পদের জন্য গত ২৪/১০/২০২৫ ইং তারিখে লিখিত পরিক্ষা এবং পরবর্তীতে ব্যাবহারিক পরিক্ষা ( প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও মৌখিক পরিক্ষা সম্পূর্ণ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা যায়, চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রশ্নপত্র ও নমুনা উত্তরপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্রসমূহ দফতরে নিয়ে আসা, কোডিং, সংরক্ষণ ও মূল্যায়নের সকল পর্যায়ে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা এবং নিয়োগ সংক্রান্ত বিদ্যামান নিয়মকানুন, পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করার কথা থাকলেও হয়েছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি। আর এই দুর্নীতির নেপত্থে রয়েছেন স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগের দোসররা এবং বিআইডব্লিউটিএ এর এই নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক ও যুগ্মসচিব সদস্য ( প্রকৌশল) এ কে এম ফজলুল হক এবং নিয়োগ কমিটির সদস্য ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন) এ,কে,এম ফয়ছল আলম । বিআইডব্লিউটিএ’র সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা অবগত এই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (মেরিন)এ,কে,এম ফয়ছল আলম আওয়ামীলীগের মুল দোসর । তিনি আওয়ামী পন্থী ঠিকাদারদের সমন্বয়ে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি করে সরকারি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আওয়ামীলীগের পূর্বের দোসরদের যোগসাজশেই নিয়োগ কমিটির তত্ত্বাবধায়নে নিয়োগ পরিক্ষায় জালজালিয়াতি এবং ভয়ঙ্কর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জানা যায় সরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও ঠেকানো যাচ্ছে না ডিজিটাল জালিয়াতি ও প্রক্সি। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কারিগরি পুলের বিভিন্ন ক্যাটাগরির লিখিত পরীক্ষাতেও একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র একজনের জায়গায় অন্যজন পরিক্ষা (ভুয়া পরীক্ষার্থী সেজে প্রক্সি পরীক্ষা) দিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, প্রকৃত প্রার্থীর বদলে অন্য প্রার্থীর মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে লিখিত পরীক্ষায় পাশ করার এ কৌশল দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে বিআইডব্লিউটিএ’তে । পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ মাঝে মধ্যে এই চক্রের সদস্যদের কাউকে কাউকে আটকও করে বলে খবর পাওয়া যায়। কিন্তু শেষঅবধি এসবের কী হয় তা অজ্ঞাতই থেকে যায়। ফলে এই চক্র নতুন নতুন উৎসাহ নিয়ে নিজ নিজ কর্মে জড়িত থেকেই যাচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ এর এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও সবথেকে অনিয়ম এবং জালিয়াতি হয়েছে গ্রিজার (বেতন গ্রেড-১৭) এই পদের লিখিত পরিক্ষায়। এই পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে বঞ্চিত কয়েকজন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অভিযোগ করে বলেন রোল নম্বর ৪৮০০১৬৫১, ৪৮০০২০৬১, ৪৮০০৩০২৪ পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অসৎ উপায় অবলম্বন করে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এই পরীক্ষার্থীরা সরাসরি নিজেরা অংশগ্রহণ না করে অন্যর দ্বারা (প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে) পরীক্ষার উত্তরপত্র পূরণ করেছেন। তিনি আরও বলেন এই পরিক্ষায়ক পূর্বের ছবির সঙ্গে প্রার্থীর চেহারা মিলিয়ে দেখা হয়নি। তাছাড়া পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষরের সঙ্গেও বর্তমান স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখা হয়নি যা ভুয়া পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ হিসেবে দেখছেন বঞ্চিতরা। পাশাপাশি এই সুযোগে ব্যাপকহারে মোবাইল ও ডিভাইসের ব্যবহার হয়েছে। তাছাড়া একজনের বিপরীতে আরেকজন অংশ নিয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে বঞ্চিত অন্য একজন পরীক্ষার্থী বলেন ৪৮০০১৬৫১, ৪৮০০২০৬১, ৪৮০০৩০২৪ রোল নম্বর ধারী পরীক্ষার্থীকে যদি এই একই প্রশ্ন দিয়ে আবারও পরীক্ষা নেয়া হয় তাহলে সে শতকরা ত্রিশের বেশি নম্বরও পাবেন না। অথচ এই পরিক্ষায় যে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এই প্রার্থীগুলোকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। শুধু এরা গুটি কয়েক বাক্তি না, এরকম আরো অনেক প্রার্থী যারা অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং কিছু পরীক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট কেন্দ্রের বাইরেও পরিক্ষা নেওয়া হয়েছে যার সঠিক অনুসন্ধান করলে জালিয়াতির মুখোশ উম্মচিত হবে । বিআইডব্লিউটিএ এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আলাপকালে তিনি বলেন ইতিপূর্বেও এই দফতরে বিভিন্ন নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অনেক ঘটনা ঘটেছে । তিনি বলেন কারিগরি পুলের বিভিন্ন ক্যাটাগরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটি বড় সিন্ডিকেট সংঘবদ্ধ ভাবে কাজ করে। যেখানে কয়েকটি ধাপে এই অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়। প্রথমে নির্ধারিত প্রার্থীর সঙ্গে নিয়োগের নিশ্চয়তা ঘিরে চুক্তি হয় মোটা অংকের অনৈতিক অর্থ লেনদেনের। অতঃপর পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে পাঠানো ডামি পরীক্ষার্থী বা বডি চেঞ্জ পরিক্ষার্থী। লিখিত পরিক্ষায় ডামি প্রার্থীরা উত্তীর্ণ হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে চলে প্রাকটিক্যাল পরিক্ষা সেখানেও মুল প্রার্থীর পরিবর্তে অংশ নেয় ডামি প্রার্থী। অতঃপর শেষ ধাপেও চলে ভাইবা জালিয়াতি। ডামি পরিক্ষার্থী বা বডি চেঞ্জ প্রার্থী এসে ভাইবা দিয়ে চলে যায় অনায়েশে। এক্ষেত্রে লেনদেন চলে তিন ধাপে। লিখিত পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর চুক্তির ৩০% অতঃপর প্র্যাকটিক্যালে উর্ত্তীন্ন হবার পর ৩০% এবং সর্বশেষ ভাইবা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর বাকী ৪০% অর্থ লেনদেন হয়। যার পুরোটাই ভাগবাঁটোয়ারা করে নেয় সংঘবদ্ধ চক্রটি যার সাথে নিয়োগ কমিটির সদস্যরা জড়িত থাকেন মুল ভুমিকায়। এক অপরাধ বিশ্লেষকের সাথে তিনি বলেন একটি প্রতিষ্ঠান কতটা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করবে, তা অনেকটা নির্ভর করছে অভ্যন্তরীণ সুশাসন ও শৃঙ্খলার ওপর। বিআইডব্লিউটিএ এর মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি আরও প্রযোজ্য। তার মতে, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ছাড়াও তিনি এই ঘটনার মুখোশ বের করতে একই হাতের লেখায় কয়টা উত্তরপত্র রয়েছে, উত্তরপত্রে পরীক্ষক ও মূল্যায়নকারীর স্বাক্ষর আছে কি না,। উত্তরপত্রের টপশিটে ব্যক্তিগত তথ্যাদি ও প্রার্থীর স্বাক্ষরে লেখায় মিল আছে কিনা , নামের বানানের ক্ষেত্রে স্বাক্ষরের বানান ভিন্ন কিনা, হাজিরা শিট এবং টপশিটের স্বাক্ষর ভিন্ন কিনা, মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সময় লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তরে সাথে হাতের লেখা মিলিয়ে দেখাসহ এবং হল পরিদর্শকের স্বাক্ষরের মধ্যেও পার্থক্য পাওয়া যায় কি না তা খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দেন। এদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র সর্ব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ পরীক্ষার্থী ও তাদের পরিবার মনে করেন নিয়োগ প্রক্রিয়াটি এক প্রকার দুর্নীতির বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের আরও দাবী, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো যোগ্য প্রার্থী এমন অবিচারের শিকার না হন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর কারিগরি পুলের বিভিন্ন ক্যাটাগরির বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগে পরিক্ষায় ব্যাপক জালিয়াতি এবং অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক ও যুগ্মসচিব সদস্য ( প্রকৌশল) এ কে এম ফজলুল হকে কোন মতামত দিতে রাজি হননি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত