ডেস্ক রিপোর্টঃ
আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে রোজার আগেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রস্তুত। চলতি সপ্তাহের যেকোনো দিন এর তফসিল ঘোষণা হতে যাচ্ছে। এবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নির্বাচনে ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ইসি আবুল ফজল মো.সানাউল্লাহ বলেন,‘ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টায়,শেষ হবে বিকেল সাড়ে ৪টায়। মক ভোটিংয়ের অভিজ্ঞতা ও মাঠ পর্যায়ের মতামতের ভিত্তিতে বুথসংকট কাটাতে প্রতিটি কক্ষে একাধিক সিক্রেট বুথ (গোপন কক্ষ) স্থাপন করা হবে। কোথাও জায়গা না থাকলে অস্থায়ী বুথ করা হবে। ভোটকেন্দ্রে গণভোটের প্রশ্ন ঝুলিয়ে রাখার কথা জানিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন,‘গণভোটের প্রশ্ন ভোটারদের সহজে বোঝার সুবিধা দিতে প্রতিটি কেন্দ্রে বড় আকারে প্রশ্নের নমুনা ঝুলিয়ে রাখা হবে। গণভোট প্রচার বিষয়ে সরকারের কর্মসূচিতে নির্বাচন কমিশন সহযোগিতা করবে। পঙ্গু,প্রবীণ ও গর্ভবতী ভোটারদের সুবিধা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হবে।
আজ সোমবার থেকে প্রবাসী ভোটারদের জন্য ব্যালট ছাপানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরশুর মধ্যে এসব ব্যালট বিদেশে পাঠানো শুরু হবে। দেশের ভেতরের পোস্টাল ব্যালটের আবেদন তফসিল ঘোষণার দিন থেকে পরবর্তী ১৫ দিন চলবে। পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরা যাতে নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হবে। তিনি আরো জানান, ভোটের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে। তবে ব্যাংক ও পোস্ট অফিস খোলা থাকবে ইসির প্রয়োজন অনুযায়ী।
নির্বাচনে প্রিজাইডিং,সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন,‘সরকারি,আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং সরকারি ব্যাংকের কর্মীদের তালিকায় নেওয়া হবে। বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আপাতত রিজার্ভে রাখা হবে,একান্ত প্রয়োজন ছাড়া তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হবে না। ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সামগ্রী আগের রাতেই ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হবে বলে জানান ইসি সানাউল্লাহ।
এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন,কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন আগের রাতেই কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানোর ব্যবস্থা চালু করে। ‘রাতের ভোট’ঠেকাতে কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন ভোটের দিন সকালে নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানোর ব্যবস্থা চালু করে। আপনারা আগের পদ্ধতিতে ফিরছেন কেন? এমন প্রশ্নে ইসি সানাউল্লাহ বলেন,‘আমরা কনফিডেন্ট,আমরা আর ওইসব ঘটনার অবতারণা দেখব না। আমরা আমাদের কনফিডেন্সের জায়গাটাতে ফেরত যেতে চাই। আমাদের যথাযথ সুপারভিশন থাকবে এবং আমরা নজর রাখব,যাতে কোনো ধরনের ব্যত্যয় না ঘটে।
তফসিলের ক্ষেত্রে বিএনপি নেত্রীর অসুস্থতা এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নে ইসি সানাউল্লাহ বলেন,‘এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে বিপক্ষে নানা বক্তব্য আছে,যা মূলত রাজনৈতিক অবস্থান। নির্বাচন কমিশন নিজেদের বিবেচনা ও পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী,সরকারের ঘোষিত সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত,অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুসারে নির্বাচন কমিশন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে রোজার আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনও জানিয়ে রেখেছে,নির্বাচনের আগে ৬০ দিন সময় হাতে রেখে তফসিল ঘোষণা করা হবে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমান,ডিসেম্বরের ১১ তারিখে তফসিল ঘোষণা হলে ভোট হতে পারে ১১ অথবা ১২ ফেব্রুয়ারি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত