নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বিজয়ের ৫৪ বছরে দাঁড়িয়ে আবারও ডিসেম্বর জুড়ে দেশব্যাপী জাগে স্বাধীনতার উচ্ছ্বাসে। ১৬ ডিসেম্বর বাঙালির আত্মমর্যাদা, ত্যাগ ও সার্বভৌমতার প্রতীক হিসেবে নতুন প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে। লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত এ বিজয় তরুণদের অনুপ্রাণিত করে ভবিষ্যৎ নির্মাণে আরো দায়িত্বশীল হতে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের বিজয়কে ঘিরে তাদের ভাবনা ও প্রত্যাশা।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তারুণ্যের অবদান অনন্য
সুদীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালির আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। সেদিন ১৬ ডিসেম্বরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছিল বাঙালির কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। এই বিজয় শুধু রাজনৈতিক ছিল না, ছিল অস্তিত্ব রক্ষা এবং বাঙালি জাতির মর্যাদার পুনর্জাগরণ। বিজয়ের ৫৪তম বছরে দাঁড়িয়ে অতীতের দিকে ফিরে তাকালে একটাই প্রশ্ন সামনে আসে, স্বাধীনতার অম্লান স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে আমরা কতদূর এগোতে পেরেছি? জানি জাতির অগ্রযাত্রা কখনো সরলরৈখিক নয়, তবুও প্রত্যাশা দেশ হবে দারিদ্র্যমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ন্যায়নিষ্ঠ। উন্নয়ন ও পরিবর্তনের দীর্ঘ পথে মূখ্য ভূমিকার দায়িত্ব আসে তরুণদের কাঁধে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তারুণ্যের অবদান ছিল অনন্য। তাদের সীমাহীন সাহস, দৃঢ় বিশ্বাস ও আত্মত্যাগ জাতিকে বিজয়ের দুয়ারে এনে দাঁড় করিয়েছিল। আজকের তরুণদেরও সেই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার বহন করতে হবে। সঠিক ইতিহাস অধ্যয়ন, নৈতিক দৃঢ়তা, সৃজনশীল চিন্তা এবং বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তারুণ্যই পারে দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে।
রিফাত তানজিম
শিক্ষার্থী, সেশন: ২০২১-২২
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
ডিসেম্বর আসলেই বিজয়ের গন্ধ পাওয়া
ডিসেম্বর আসলেই বাতাসে সেই বিজয়ের গন্ধ পাওয়া যায়। বিজয়ের মাস আমার মনে গর্ব, শ্রদ্ধা আর দায়িত্ববোধ একসঙ্গে জাগ্রত করে। বিশেষ করে ২৪এর আগস্টের পরবর্তী বিজয়ের মাসগুলো আমাদের জাতীয় জীবনে স্বাধীনতার মূল্য আরো গভীরভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়। তরুণ প্রজন্ম আজ আগের চেয়ে চিন্তায়, প্রযুক্তিতে এবং সচেতনতায় অনেক বেশি প্রসারিত হয়েছে। তারা দেশের অগ্রগতির বড় শক্তি হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। আর এই ৫৩ বছরে বিজয়ের প্রত্যাশার পূরণ অপূরণের হিসাবে ‘কিন্তু’ থাকলেও শিক্ষায়, নারীর ক্ষমতায়নে, অর্থনীতিতে সবক্ষেত্রে আমরা এগিয়েছি। তবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও মূল্যবোধের সংকট এখনো আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ। এই সংকট কাটিয়ে আগামী দিনের প্রত্যাশা আমরা যেন একটি ন্যায়ভিত্তিক, সুশাসিত, পরিবেশবান্ধব ও মানবিক বাংলাদেশ দেখতে পারি। যেখানে তরুণরা যুক্তিবোধ, দেশপ্রেম ও সততার আলোয় ভবিষ্যত নির্মাণ করবে। বিজয়ের সত্যিকারের অর্থ তখনই পূর্ণতা পাবে যখন উন্নতি ও মানবিকতা সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
কাফিয়া কামাল
শিক্ষার্থী, সেশন : ২০২১-২২
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
বিজয়ের মাস আত্মত্যাগের স্মারক
বিজয় দিবস তরুণদের কাছে এক গৌরবের নাম, আত্মত্যাগের স্মারক এবং নতুন স্বপ্ন গড়ার প্রেরণার ইতিহাস। তরুণরা চায় গবেষণাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা, যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা। বৈষম্যহীন, সুনীতি, ও সামাজিক বিভাজনমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশই তাদের প্রত্যাশা। ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে যেখানে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে এবং সাম্য-সম্প্রীতির সংস্কৃতির উন্নত জাতি গড়ে উঠবে। তরুণদের ঐক্য, সচেতনতা ও সত্য ধারণের দৃঢ়তায় লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত বিজয় অটুট থাকবে। আর গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক সোনার বাংলাদেশ।
মো. জোবায়ের আহম্মদ
শিক্ষার্থী, সেশন ২২-২৩
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
দেশপ্রেম হোক অন্তর থেকে, শো-অফে নয়
ডিসেম্বর মাস আমাদের মাঝে শুধু শীতই বয়ে আনেনা, আনে বিজয়ের সুঘ্রাণও। কঠোর সংগ্রাম আর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে যে বিজয় অর্জিত হয়েছে, তা আমাদের পরবর্তীতে যেকোনো সংকটে অনুপ্রেরণার পাথেয় হবে। তবে হতাশাজনক হলেও সত্য বিজয় দিবসের কিছু পিকচার তোলা, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েই যেন আমাদের দ্বায়িত্ব ভুলে না যাই। আমরা যেন ভুলে না যাই এই দেশ স্বাধীন হওয়ার পিছনে আছে রক্তাক্ত ইতিহাস, শতশত মায়ের সন্তান হারানোর বেদনা, শত বোনের ভাই হারানোর দগ দগে স্মৃতি। এই বিজয় দিবস সকলের প্রতি প্রত্যাশা করে সৎ, সাহসী, নির্ভীক, অন্যায়ের প্রতি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হওয়া। আমরা বিজয়ের মাহাত্ম্য ভুলে না গিয়ে হৃদয়ে সেই তেজ উদ্বিপ্ত করে বিজয় উদযাপন করি। প্রাণের চেয়ে প্রিয় মাতৃভূমিকে কিভাবে সুন্দর করা যায় তার দ্বায়িত্ব কিংবা দোষ অন্যের কাঁধে না দিয়ে নিজেই দ্বায়িত্ব নিয়ে কিছু পরিবর্তন করার চেষ্টা করি।
মো. সাখাওয়াত হোসেন
শিক্ষার্থী, সেশন : ২০২৩-২৪
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত