স্টাফ রিপোর্টার॥
ফকরুদ্দিন -মঈন উদ্দিনের সেই ওয়ান–ইলেভেনের সময়কার নানা ঘটনার সূত্র ধরে সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) আফজাল নাসের ভূঁইয়ার ভূমিকা নিয়ে আবারও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলা ছাড়াও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কয়েকজনের বক্তব্যে উঠে এসেছে আফজালের অপকর্ম।
বিশেষ করে তৎকালীন সেনা সমর্থিত সরকারের আমলে ডিজিএফআইয়ের বিশেষ অভিযানে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকায় ছিলেন। সে সময় জিজ্ঞাসাবাদ, নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন থেকে শুরু করে অর্থ আদায় নানা ঘটনার সঙ্গে তার নাম রয়েছে।
জানা গেছে, ওয়ান-ইলেভেনের সময় ডিজিএফআইয়ের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটে কর্মরত ছিলেন আফজাল। যার প্রধান ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএম আমিন। এই আমিনের নেতৃত্বে আফজাল গ্রেপ্তার, নির্যাতনসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিল।
রাজনৈতিক মহলের বিভিন্ন পক্ষের দাবি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে ওয়ান–ইলেভেনের সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখে পড়তে হয় এবং সেসব ঘটনার বর্ণনায় বারবার এসেছে কর্নেল আফজালের নাম। বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে হেনস্তা এবং জোরপূর্বক ভিডিও ধারণের অভিযোগ রয়েছে এই আফজালের বিরুদ্ধে। তাছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ভাইরাল হওয়া ভিডিও ধারণ করে এই আফজাল। ব্যবসায়ী মোসাদ্দেক আলী ফালুর ওপর নির্যাতনেও জড়িত ছিলেন এই সেনা কর্মকর্তা।
ওয়ান–ইলেভেনের সময় কর্নেল আফজালের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক :
তবে বিতর্ক শুধু বিএনপিকে ঘিরে নয়। আওয়ামী লীগের তৎকালীন দুই শীর্ষ নেতা আব্দুল জলিল ও ওবায়দুল কাদেরকেও নির্যাতন, জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত ছিলেন। ওই সময়কার বর্ণনায় সেখানেও কর্নেল আফজালের নাম উল্লেখ পাওয়া যায়।
অভিযোগ ওঠে অর্থ আদায়ের বিষয়েও। আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াকিল উদ্দিনকে আটক রেখে কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল এমন দাবি দীর্ঘদিন ধরেই ঘুরে–ফিরে আসছিলো।
আলোচনা এসেছে এমজিএইচ গ্রুপের সিইও আনিস আহমেদ গোর্কিকে নিয়ে। সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষের দাবি, তাকে তিন থেকে চার মাস অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয় এবং পরে বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে—অপারেশনটি পরিচালনা করেছিল তৎকালীন কর্নেল আফজালের অধীনস্থ একটি দল।
ওয়ান–ইলেভেন পরবর্তীতে কর্নেল আফজালের ইউনাইটেড গ্রুপে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে গ্রুপটির অ্যাডমিন অফিসার হিসেবে কর্মরত তিনি। একই গ্রুপের পরিচালক হাসান মাহমুদ রাজার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিনা ইবনে জামালের নামও পুরোনো বিতর্কে ঘুরে এসেছে।
বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে সাম্প্রতিক একটি হত্যা মামলার পর। গত বছরের জুলাইয়ে রাজধানীর শাহজাদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বাহাদুর হোসেন মনির। ক্ষমতার পালাবদলের পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা গুলশান থানায় যে হত্যা মামলা করেন, তাতে নাম আসে কর্নেল (অব.) আফজালের।
ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হাসান মাহমুদ রাজা এবং গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এমডি মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের নামও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। মামলার পর থেকে কর্নেল আফজালকে ঘিরে ওয়ান–ইলেভেনের পুরোনো অভিযোগগুলো আবার সামনে আসছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত