নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) জোন ৭/১ এর ইমারত পরিদর্শক জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ এলাকায় ঘুষ বাণিজ্য এবং প্ল্যান অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণে প্রত্যক্ষ সহায়তার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ভবন মালিক ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, তার প্রত্যক্ষ মদদেই দীর্ঘদিন ধরে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনবিহীন বহুতল ভবন গড়ে উঠছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনেক ভবন কোনো ধরনের নকশা (প্ল্যান) অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ভবনের বিরুদ্ধে রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে ইমারত পরিদর্শক জয়নাল আবেদীন অর্থের বিনিময়ে সেগুলো উপেক্ষা করেছেন। কোথাও সরেজমিন পরিদর্শন না করেই ‘সব ঠিক আছে’ মর্মে মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও নিয়মিত পরিদর্শনের নামে ভবন মালিকদের কাছ থেকে দফায় দফায় অর্থ আদায় করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী একাধিক ভবন মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্ল্যান পাশ ছাড়াই কাজ চলছিল। জয়নাল আবেদীন এসে বলেন সমস্যা হবে না আমি দেখছি। পরে নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিতে হয়েছে। না দিলে কাজ বন্ধের হুমকি ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়মের কারণে কেরানীগঞ্জ এলাকায় অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হলেও দায়িত্বশীল সংস্থার নজরদারি কার্যত প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এ সংক্রান্ত একাধিক তথ্য-উপাত্ত ও অভিযোগের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, কিছু ভবনের ক্ষেত্রে রাজউকের কোনো লিখিত অনুমোদন না থাকলেও নির্মাণকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার রাজউক জোন–৭/১-এর ইমারত পরিদর্শক জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে দেখা ও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিবারই তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং অভিযোগ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রাজউকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্ল্যান ছাড়া ভবন নির্মাণের সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তা গুরুতর অপরাধ। লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগর বিশেষজ্ঞ ও সুশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা দ্রুত স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত