নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
স্বৈরাচার হাসিনা পালিয়েছে ১৬ মাস আর তার দোসর গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী শামিম আক্তার বিদায় হলেও তার দোসর প্রকৌশলী মো: মইনুলের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, উচ্ছেদ ও অবৈধ দোকান বসিয়ে শত কোটি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মইনুল ইসলাম তেজগাঁও শিল্প এলাকার শিল্প প্লটের কাগজপত্র যাচাইয়ের ভয় দেখিয়ে ও তেজগাঁও সরকারি হকার্স মার্কেটে সরকারি বরাদ্দ প্রদানের বাহিরে প্রায় অবৈধ একশত দোকানপাট বসিয়ে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এই অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও টেন্ডার বাণিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা।
অভিযোগে জানা যায়, তেজগাঁও শিল্প প্লট দেখভাল সকল দায়িত্ব গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ এর হওয়ায় শিল্প প্লটের সকল মালিকের নিকট কাগজপত্র যাচাই করে অভিনব কায়দায় ভুল ধরে তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মইনুল ইসলাম কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কিছু প্লট বাজেয়াপ্ত করে পরে মোটা অংকের টাকার লেনদেনের মাধ্যমে সেগুলো অন্য লোকের কাছে কৌশলে মালিকানা দিয়েছেন বলে জানা যায়। এছাড়াও মইনুল তেজগাঁও সরকারি হকার্স মার্কেটে সরকারি বরাদ্দের বাহিরে নিজ ক্ষমতায় প্রায় ১শ অবৈধ দোকান বরাদ্দ দিয়েছেন। এই দোকান বরাদ্দ দেওয়ার জন্যও নিয়েছেন কোটি টাকা কমিশন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসের ৩০ তারিখে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা উত্তর ও দক্ষিন থানার কাজের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। এই দরপত্রের কাজেও মইনুলের বিরুদ্ধে কমিশনের বিনিময়ে রেট কোটেশন বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। তিনি তার পছন্দের ঠিকাদারের কাছে এই রেট কোটেশন বিক্রি করেছেন বলে জানা যায়।
এছাড়াও মইনুল চট্টগ্রাম কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবসান প্রকল্পের কাজের দরপত্র আহবান করে কোটি টাকা কমিশনের বিনিময়ে সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী নওফেলের লোকের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়েছেন।
এছাড়াও তেজগাঁও মাদক নিরাময় কেন্দ্র প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ ও বাউন্ডারী দেওয়ালের কাজের দরপত্র আহবান করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়েছেন বলে জানা যায়। অভিযোগ আছে, এই কাজগুলোতে পূর্বের মুল ভবনের কাজের দরপত্রে থাকা সকল আইটেম পূনরায় এই দরপত্রে যুক্ত করে ডিপিপি অনুযায়ী খন্ড খন্ড কাজকে একত্রিত করে একটি দরপত্র আহবান করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা উৎকোচ নিয়ে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে কাজ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, মাদক নিরাময় কেন্দ্র প্রকল্পের কাজের ভেরিয়েশন করেও মইনুল হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। মইনুল ইসলাম ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ এ আসার পর যতগুলি ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করেছেন সকল দরপত্রের কাজ তার পছন্দের ঠিকাদারদের প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিয়েছেন। কথিত আছে, যে ঠিকাদার তাকে কমিশন দেয় সেই ঠিকাদারই তার কাছে হয়ে যায়। এবং তাকেই মইনুল কাজের রেট কোটেশন দিয়ে দেন কাজ পাওয়ার জন্য।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত