ডেস্ক রিপোর্টঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আওয়ামীপন্থী ডিনদের পদত্যাগের দাবিতে তিনটি অনুষদের ডিন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছে রাকসুর প্রতিনিধিরা। রবিবার ২১ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সে বিক্ষোভ চলাকালে কার্যালয়গুলোতে তালা দেওয়া হয়।
অনুষদগুলো হলো, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, আইন অনুষদ ও ব্যবসায় অনুষদ। সংশ্লিষ্ট ডিনরা হলেন আইন অনুষদের অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধ্যাপক এ এস এম কামরুজ্জামান এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক এস এম এক্রাম উল্লাহ।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান হৈ হৈ রৈ রৈ, আওয়ামী লীগ গেলি কই, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি আকিল বিন তালেব বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা গুরুতর সংকটে পড়েছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কর্মীবাহিনীর হাতে গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে যা গণ অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।
তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ তার সব যোগ্যতা হারিয়েছে।
জুলাইয়ের গণ অভ্যুত্থানের এক বছর পরও আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। সিনেট কার্যকর না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে সিন্ডিকেট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে যেখানে ছয়জন আওয়ামীপন্থী ডিন রয়েছেন। তারা বসে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।
আকিল আরও বলেন, ক্যাম্পাসে কোনো আওয়ামীপন্থী শিক্ষক মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।
যারা আওয়ামী পুনর্বাসনের চেষ্টা করবে তাদেরও পদত্যাগ করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইফতেখার আলম মাসউদের এক বক্তব্যের সমালোচনা করে আকিল বিন তালেব বলেন, এক বছর পর্যন্ত আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের পুষে রাখা হয়েছে আরো এক মাস পুষতে পারব এমন বক্তব্য দেওয়ার তিনি কে?
এদিকে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন আজ মোটামুটি সব দপ্তরে আওয়ামীপন্থী ডিনদের কার্যালয় তালাবদ্ধ। বিচার না হওয়া পর্যন্ত তালাবদ্ধ থাকুক আমিও সেটাই চাই। পাশাপাশি বিগত জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান করা শিক্ষকদের একটি তালিকা করেছি। ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ অন্যান্য সংগঠনের কাছেও থাকা তালিকা আহ্বান করছি।
আগামী তিন দিনের মধ্যে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
পদত্যাগের বিষয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম এক্রাম উল্লাহ বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমি ডিন হিসেবে দায়িত্বে থাকতে চাই না। উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছি। উপাচার্য যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই চূড়ান্ত।
এ সময় সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি, রাকসুর অন্যান্য প্রতিনিধি এবং বিপুল শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত