ইসমাইল মাহমুদঃ
দৈনিক খোলাকাগজ পত্রিকার মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি ও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মো. এহসানুল হকসহ ছয় জুলাইযোদ্ধাকে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দিয়েছে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ‘নো ক্যাপশন’ নামের একটি আইডি থেকে এ হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন এহসানুল হক। তিনি ছাড়াও আর যাদের নাম উল্লেখ করে ম্যাসেঞ্জারে হুমকি দেওয়া হয়েছে তারা হলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শ্রীমঙ্গলের প্রথম সারির যোদ্ধা ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মুজাহিদুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নিলয় রশিদ, এনসিপি জেলা কমিটির সদস্য হায়দার আলী, ইসলামী ছাত্র ঐক্য পরিষদ শ্রীমঙ্গলের আহবায়ক নাঈম হাসান ও নাঈম। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মুজাহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে রবিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে শ্রীমঙ্গল থানায় সাধারণ ডায়রী করেছেন।
সাধারণ ডায়রীতে উল্লেখ করা হয়, অদ্য (রবিবার) ২১ ডিসেম্বর বেলা ০১.২৯ ঘটিকার সময় কে বা কাহারা মিনিটের দিকে ‘নো ক্যাপশন’ নামীয় ফেসবুক আইডি হইতে আমি মো. মুজাহিদুল ইসলাম (বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস, সভাপতি, শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখা) এর নিজ ব্যবহৃত ফেসবুক আইডির ম্যাসেঞ্জারে আমিসহ নিলয় রশিদ, নাঈম হাসান, হায়দার আহমেদ, মো. এহসানুল হক ও নাইমকে গালিগালাজসহ প্রাণে হত্যা করিয়া লাশ গুম করিবে বলিয়া হুমকি প্রদান করে।
জুলাই যোদ্ধা মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ওই আইডি থেকে ম্যাসেঞ্জারে বলা হয়েছে, তোর সময় শেষের দিকে। সাবধানে তাকিছ তোরে এমনভাবে মারমু তোর লাশ খুঁজিয়া পাওয়া যাইতো নায়। তোর ৫০১ নাম্বার। হাত পা ও মাথা একেক খানে পালানি হইবো। লিস্ট নে। ১. মো. মুজাহিদুল ২. নিলয় ৩. নাঈম হাসান ৪. হায়দার ৫.সাংবাদিক এহসান ৬. নাঈম। খেয়ালে থাকিস জঙ্গি। কিছুদিন ধরে আমি এবং আমার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ফেসবুক আইডি, ম্যাসেঞ্জার ও কমেন্টে নিয়মিত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং যে কোনো সময় আমাদের বড় ধরণের ক্ষতি সাধন করতে পারে। রবিবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মো. এহসানুল হক, এনসিপি নেতা নিলয়, হায়দার, ছাত্র ঐক্য পরিষদ নেতা মাহমুদুল হাসান নাঈম, নাইম এবং আমাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে আমরা ছয় জন রাতে শ্রীমঙ্গল থানায় উপস্থিত হয়ে বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানালে তিনি সাধারণ ডায়রী করার পরামর্শ দেন। রাতেই আমি বাদি হয়ে সাধারণ ডায়রী করেছি। এ ঘটনায় আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মো. এহসানুল হক বলেন, আমি পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সর্বদাই অনিয়ম-দুর্নীতি এবং ডেভিলদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অকপটে বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করে যাচ্ছি। নিউজের প্রকাশের জের ধরে ফ্যাসিস্টদের প্রেতাত্মারা আমাকে ফেসবুক কমেন্টে এবং ম্যাসেঞ্জারে নানাভাবে হুমকি প্রদান করে যাচ্ছে। এর আগে আমাকে সড়কে মোটরসাইকেল প্রতিরোধ করে অজ্ঞাতনামা দুবৃত্তরা আক্রমণ করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায়ও থানায় জিডি করি। এছাড়া মাদক ইয়াবার বিরুদ্ধে নিউজের জের ধরে মাদক কারবারী চক্রের সদস্যরা আমার বাসার গেটে তালা মেরে আমার পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। ওই ঘটনায়ও জিডি করি। কিন্তু থানার কোনো জিডির প্রেক্ষিতে পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। নতুন করে হত্যার হুমকিতে আমি এবং আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত হুমকিদাতাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. আব্দুল হাই ডন ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত রবিন বলেন, ‘আমাদের প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ নির্ভীক সাংবাদিক এহসানুল হককে হত্যার হুমকির ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। হত্যার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন সরাসরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্টের অপচেষ্টা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত। অনতিবলম্বে হুমকিদাতাকে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্থির দাবি জানাচ্ছি।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য ও স্ক্রিনশট যাচাই করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত