তারিখ লোড হচ্ছে...

কেশবপুরে প্রধান শিক্ষকের বদলির দাবিতে মানববন্ধন রামগড়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর আটক দুপুরে প্রথম বৈঠকে বসছে সংবিধান সংশোধন কমিটি গলাচিপায় র‍্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উদযাপন নদী খননের নামে ১৩৪ কোটি আত্মসাৎ, তবুও বহাল তবিয়তে বিআইডব্লিউটিএ’র সাইদুর রহমান রাশিয়া-ইউক্রেনে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলা, প্রাণ গেল ২২ জনের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলে কী হয়? বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম সেপ্টেম্বরে ১০ দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী লাইফ সাপোর্টে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প কদমতলী থানা অধীনস্থ রায়েরবাগে ১২ বছরের মাদ্রাসা ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু ‎ নোয়াখালীতে পুকুর থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার সিলেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে নাসীরুদ্দীন ও সার্জিসের কটুক্তির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জের বিক্ষ... এমপি মিলনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন: দীর্ঘদিন পর চালু হলো কালীগঞ্জ-গুলিস্তান KTL বাস সার্ভিস রামুতে নূর ডেন্টাল পয়েন্ট নিয়ে প্রশ্ন,বিএসসি (ডেন্টাল) ডিগ্রি দিয়ে রুট ক্যানাল-সার্জারির অভিযোগ ব্রেন টিউমার সারেনি ইলিয়াস কাঞ্চনের, তবুও কেন দেশে ফেরা হাইকোর্টে জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ: আলোচনায় সহকারী পরিচালক ডা. শফিউল আজম রাজউকের নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণে আল-আকসা-৩ ভবন কর্তৃপক্ষ নলডাঙ্গায় দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত সাতক্ষীরা সদর এসিল্যান্ড অফিসে সেবার মান বৃদ্ধি-খুশি সেবা প্রত্যাশিরা বৃষ্টির পানি আর চোখের জল-একই ঘরে অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির জীবনযুদ্ধ মোংলায় প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষর জাল করে তদবির বাণিজ্য, গ্রেফতার ১ পানছড়িতে বিজিবির উদ্যোগে জনকল্যাণমূলক সামগ্রী বিতরণ সুন্দরবন রক্ষায় ৪ হাজার কোটি টাকা দেবে জাতিসংঘ নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন জোরদারে আইওএমের আরও সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ আবারও আলোচনায় চট্টগ্রামের এস এম মিজানুল্লাহ সমরকন্দী ওরফে চশমা মিজান দুদক কমিশনার হতে শতকোটি টাকার লবিং: সাবেক কাস্টমস কমিশনার হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুর্ব সুন্দরবনে বন বিভাগের অভিযানে শুটকি তৈরির আস্তানা ধংস আটক হয়নি কেউ নিরাপত্তাহীনতায় সিরাজগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও তাঁর পরিবার সাতক্ষীরায় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা ২০২৬ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সাংবাদিক নিবন্ধনের আগে সংবাদমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত হোক ১৩ মাসের ডেলিভারি: প্রতিশ্রুতি নয়, প্রমাণ চান সংশ্লিষ্টরা পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন ডিএজি-এএজিদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান টি-টোয়েন্টিতে ইতিহাস, ৮৬ রানের লক্ষ্য দিয়েও চ্যাম্পিয়ন প্রাথমিক শিক্ষকদের যোগদানের তারিখ জানাল মন্ত্রণালয় পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৩ ডিএমপির বিশেষ অভিযানে, গুলশান ও যাত্রাবাড়ীতে গ্রেফতার ৩৭ গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাগড়াছড়ি রিজিয়নের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ চতুর্থ পেড়িয়ে পঞ্চম বর্ষে পদার্পণ করল উদ্যোক্তা জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এ অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরায় জনস্বার্থে কথা বলায় চটে গেলেন সদর উপজেলা সমাজসেবা ও সমবায় কর্মকর্তা পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব চট্টগ্রাম ওয়াসার পূষ্পধারা হাউজিং এর নতুন জালিয়াতির ফাঁদ, পা দিলেই সর্বনাশ জুলাইকে বিতর্কিত করার অপচেস্টা চলছে:জাহাঙ্গীর শিকদার জগন্নাথপুরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে হাওরে নৌকা ডুবে ৪জন নিখোঁজ,১ জনের লাশ উদ্ধার রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষনা কেন্দ্রে শ্রমিক আনসারের নিরাপত্তার মাঝেও সেগুনগাছ চুরি কামরাঙ্গীরচরে মাদক, সন্ত্রাস, কিশোরগ্যাং ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা

প্রকল্প বন্ধ “নর্থ সাউথ গ্রুপের” সাধারণ গ্রাহকরা বিপাকে

প্রকল্প বন্ধ “নর্থ সাউথ গ্রুপের” সাধারণ গ্রাহকরা বিপাকে
পাঠক সংখ্যা
638

স্টাফ রিপোর্টার॥
স্বৈরাচারী হাসিনা দেশ ছেরে পালালেও তার দোসররা রয়ে গেছে বহাল তবিয়তে আর তারা দেশের বিভিন্ন সেক্টরে বসে অপর্কম করে বেড়াচ্ছে তেমনি এক স্বৈরাচারী সরকারের সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং তাঁর প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা ‘নর্থ সাউথ গ্রুপ’ এখন একটি ভয়ঙ্কর প্রতারক সিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে। রাজধানীসংলগ্ন নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির একের পর এক প্রকল্প ঘিরে উঠে এসেছে ভয়াবহ অভিযোগ—জমি দখল, অবৈধ বালু ভরাট, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রতারণা, নারী নির্যাতন এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের মতো গুরুতর অপরাধ।
স্বৈরাচারী দোসর নর্থ সাউথ রূপগঞ্জে ‘নর্থ সাউথ গ্রীন সিটি’: জমি দখল ও ভীতিকর পরিবেশ রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিস্তৃত ‘নর্থ সাউথ গ্রীন সিটি’ প্রকল্প নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ তুলেছেন জমির মালিক শহিদুল, ক্ষইমুদ্দিন, আমিনুল, জুলহাসসহ বহু ভুক্তভোগী। তারা জানান, কোম্পানিটি অল্প টাকায় বায়না করে জমি দখল করে রাখে বছরের পর বছর—রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই। টাকা চাইলে হুমকি, মামলা, এমনকি হত্যার ভয় দেখানো হয়।

প্রকল্পটি ভুলতা, শান্তিনগর, কইরাবো, শোনাবো, আউখাব, মিরকিচা, মাঝিপাড়া ও মাছিপুর মৌজায় বিস্তৃত। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মজিবুর রহমান বলেন,আমি এই কোম্পানি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এদের পেছনে বড় বড় লোক আছে। একবার একটি মাদ্রাসার জলাশয় ভরাটে প্রতিবাদ করেছিলাম, আমাকে তখন বিভিন্নভাবে বিপদে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। এখন ভয়েই চুপ করে আছি। আপনারা চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেন। ভুলতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আরিফুল হক ভূঁইয়া জানান,বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে কোম্পানিটি ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকাবাসীকে চুপ করিয়ে রেখেছে। আমরা এবার প্রশাসনকে অবগত করছি যেন জমি ও জলাশয় দখল বন্ধ করা হয়। বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করতে গাজী টিভির মনোগ্রামযুক্ত গাড়ি ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি।

শ্রীনগরে ‘নর্থ সাউথ স্কয়ার সিটি’:
গোলাগুলি, হুমকি ও জমি দখল ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ের পাশে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাড়িগাঁও, বেজগাঁও, বাশাইলভোগ, হোগলগাঁও ও নাগরভাগ মৌজায় প্রতিষ্ঠিত এই প্রকল্পেও রয়েছে ভয়াবহ সব অভিযোগ। জমি দখলের সময় গোলাগুলির ঘটনা, হুমকি এবং জোর করে ব্যানার না দেয়া পর্যন্ত জমি ফেরত না দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

জমির মালিক জহির উদ্দিন বলেন,ভয় দেখাতে কোম্পানির নির্দেশে নিজেরাই ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে। এরপর সবাই চুপ।
শ্রীনগর ইউএনও মোঃ মহিন উদ্দিন বলেন, গোলাগুলির অভিযোগ শুনেছি। আবার এমন ঘটনা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভূমি দখলের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করা হবে।

গাজীপুরে ‘নর্থ সাউথ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি’:
হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জলাশয় ভরাট গাজীপুর সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলার পরিবেশ সংবেদনশীল বেলাই বিল এলাকায় হাইকোর্ট ও জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চলছে নির্মাণ ও বালু ভরাট। এই প্রকল্পটি পুবাইল শিমুলিয়া এলাকায় বেলাই বিলের সীমানায় অবস্থিত।

অভিযোগ উঠেছে, সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক এমপির ক্যাডাররা প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় করে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সদর ইউএনও মোঃ মামুনুর রশীদ জানান, এই প্রকল্পে কোনো অনুমোদন নেই। আমরা কয়েকবার কাজ বন্ধ করেছি, নোটিশও দিয়েছি। তারপরও দুর্বৃত্তদের সহায়তায় কাজ চলছে। আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

কালীগঞ্জ ইউএনও বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না। বালু ভরাটের খবর পেলে তাৎক্ষণিক অভিযান চলছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানো হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, নর্থ সাউথ গ্রুপ বেলাই বিলে অবৈধভাবে বালু ভরাট করছে। তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেব। জলাশয় ভরাট করে কোনো আবাসিক প্রকল্প গড়া সম্ভব নয়।

‘নিরাপদ ভ্যালি’ প্রকল্প: প্রতারণার নতুন কৌশল রাজধানীর জলশিরি আবাসনের পাশে ‘নিরাপদ ভ্যালি’ নামের একটি প্রকল্পে সামান্য জমিতে সাইনবোর্ড বসিয়ে, অন্যের বাসা ভাড়া নিয়ে সাইট অফিস দেখিয়ে, ৫০% ডিসকাউন্টে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করা হচ্ছে।জমির মালিক এরশাদ হোসেন বলেন, আমাদের জমিতে জোর করে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। ক্যাডার দিয়ে ভয় দেখায়। আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিবাদ করায় পুলিশ দিয়ে হুমকি দিয়েছে। এখন চুপ করে আছি।

প্রকল্প বন্ধে রাজউকের চিঠি:

রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে নর্থ সাউথ গ্রুপকে জানানো হয়েছে, তাদের ‘পূর্বাচল নর্থ সাউথ গ্রীন সিটি’ প্রকল্পটি কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (২০১৬-২০৩৫)-তে নির্ধারিত জলাধার ও কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০-এর ধারা ৫ ও ৬; রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ৫, ১৯ ও ২০; এবং বেসরকারি আবাসিক প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা, ২০০৪ (সংশোধিত ২০১২ ও ২০১৫)-এর বিধি ১৬(৩) অনুযায়ী সম্পূর্ণ বেআইনি। অনুমোদন না নিয়ে সাইনবোর্ড, অনলাইন বিজ্ঞাপন ও প্লট বিক্রি প্রচারণা চালানো আইন লঙ্ঘনের শামিল, যার জন্য সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। রাজউক চিঠিতে ৭ দিনের মধ্যে সকল অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ, সাইনবোর্ড অপসারণ এবং ভরাট অংশের বালু-মাটি সরিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে, অন্যথায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা

রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “এটি একটি সম্পূর্ণ অননুমোদিত প্রকল্প। ইতোমধ্যে আমরা চিঠি দিয়ে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। জলাধার ও কৃষিজমিতে অবৈধ বালু ভরাটের প্রমাণ মেলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প কোনোদিনই অনুমোদন পাবে না—তাই কেউ যেন প্রতারিত হয়ে এখান থেকে লট না কেনেন।”

সামরিক পরিচয় ও পুলিশের বিনিয়োগ:
প্রতারণার প্রভাব বিস্তারপ্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুজুর রহমানকে সিইও পদে নিয়োগ দেয়। অভিযোগ, সামরিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।সাবেক সি আর কর্মকর্তার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসনর্থ সাউথ গ্রুপের সাবেক সিআর কর্মকর্তা -কে বলেন,
নর্থ সাউথ গ্রুপে বিনিয়োগ করে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, তাদের লেনদেনের তথ্য মুছে ফেলতে মৌখিকভাবে আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়। আমি অস্বীকার করি, কারণ এতে আমার স্বাক্ষর ছিল। এরপরই আমাকে মিথ্যা অভিযোগে চাকরি থেকে বের করে দেয়।তিনি আরও বলেন,অনেক পুলিশ কর্মকর্তা এখানে তাদের কালো টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আলোচিত সাবেক ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) প্রধান ও তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশিদ এবং তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম), ডিএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকার-সহ আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার নাম আমি জানি—যারা নর্থ সাউথ গ্রুপে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অর্থ লগ্নি করেছিলেন। এই কোম্পানিটি একই প্লট একাধিকবার বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমি রাষ্ট্রীয় তদন্তের মাধ্যমে এসব অবৈধ বিনিয়োগ ও অর্থ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরতের দাবি জানাই।নারী কর্মীদের ওপর অনৈতিক আচরণ
নর্থ সাউথ গ্রুপের হেড অব সেলস মাহবুবুর রহমান খান (বর্তমানে ডিএমডি)-এর বিরুদ্ধে নারী কর্মীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইনসেন্টিভ আটকে রেখে হোটেলে যেতে বাধ্য করা, ভিডিও কল করা ইত্যাদি ন্যক্কারজনক আচরণ করেছেন।একজন নারী কর্মী বলেন,বাবার চিকিৎসার জন্য টাকা দরকার ছিল। কিন্তু ইনসেন্টিভ আটকে রেখে আমাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছে।নারী অধিকারকর্মী রোকসানা বেগম বলেন,এটি জঘন্য অপরাধ। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।নর্থ সাউথ গ্রুপের বিরুদ্ধে শত শত গ্রাহকের প্রতারণার অভিযোগ:

প্লট ও টাকা ফেরত না পেয়ে দিশেহারা ভুক্তভোগীরা।নর্থ সাউথ গ্রুপ, বিশেষ করে তাদের “নর্থ সাউথ গ্রীন সিটি” প্রকল্পের বিরুদ্ধে শত শত গ্রাহকের প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্লটের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করার পরও রেজিস্ট্রেশন না দিয়ে গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে। টাকা ফেরত চাইলে দেওয়া হচ্ছে নানা তালবাহানা।ভুক্তভোগী আলতাফ হোসেন জানান, তিনি “নর্থ সাউথ গ্রীন সিটি”-র ব্লক-এ, প্লট নং-১৯ বুকিং ও ডাউন পেমেন্ট দিয়ে কিস্তিতে ক্রয় করেন। সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের পর রেজিস্ট্রেশনের জন্য যোগাযোগ করলে তাকে বারবার ঘোরানো হয়, পরে আরও সমপরিমাণ টাকা দাবি করা হয়। নিরুপায় হয়ে টাকা ফেরত চাইলে কোম্পানি ১৫% কেটে রেখে ১০ লক্ষ টাকার তিনটি চেক দেয়, কিন্তু একটিও ব্যাংকে ক্লিয়ার হয়নি।তিনি আরও জানান,ব্লক-সি, প্লট নং-৭৬ এর ক্ষেত্রেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছে—পূর্ণ অর্থ পরিশোধের পরও রেজিস্ট্রেশন মেলেনি এবং ফেরত দেওয়া চেকগুলোও প্রত্যাখ্যান হয়েছে।
আলতাফ হোসেনের মতো আরও ৩১ জন গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করার পরও তারা রেজিস্ট্রেশন পাচ্ছেন না। কোম্পানি আবারও অতিরিক্ত টাকা দাবি করছে। অন্যথায় টাকা ফেরত চাইলে ১০-১৫ শতাংশ কেটে নেওয়ার শর্তে ছয় মাসের মধ্যে ফেরতের আশ্বাস দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবে এক বছর পার হলেও কেউ টাকা ফেরত পাননি।
রেজিস্ট্রেশন চাইলে নানা অজুহাত দেওয়া হয়—যেমন কাগজপত্র প্রস্তুত নয়, কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর বাকি, কিংবা নতুন করে টাকা দিতে হবে।একজন হতাশ ভুক্তভোগী বলেন, “প্রথমে মিষ্টি কথায় টাকা নেয়, এখন আমাদের ভিখারির মতো ঘুরাচ্ছে। এটা স্পষ্ট প্রতারণা। আরেকজন জানান, কোম্পানির অফিসে গেলে তাদের আচরণ পাল্টে যায়। এমনকি সরকারি দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা হয়নি।তাদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশে বন্ধ থাকা ‘নর্থ সাউথ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য গোপন করা হয়েছে এবং প্রকৃত জমির মালিকানা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
অনেকে জানান, কোম্পানির দেওয়া চেক ৯ মাস ধরে ব্যাংকে ঘুরছে, কিন্তু এখনো একটি চেকও ক্লিয়ার হয়নি। এক ভুক্তভোগীর ভাষায়, “এভাবে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।” সাবেক কর্মচারীরা বলেন, চাকরি ছাড়ার পর কমিশন আটকে রেখে বনানী থানার সহায়তায় মিথ্যা জিডি করে হয়রানি করেছে।
বিতর্কিত মন্তব্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নর্থ সাউথ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম ইউসুফ বলেন,আপনারা যা খুশি লিখেন, সমস্যা নেই। বহু মিডিয়া আমাদের নিয়ে নিউজ করে পরে ডিলিট করেছে। আপনারাও লেখেন, আমরা দেখে নেবো। উল্লেখ্য, এর আগে দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে নর্থ সাউথ গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জমিদখল এবং অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও পরে তা রহস্যজনকভাবে সরিয়ে ফেলা হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে নানারকম প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি:
তদন্ত ও রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ দরকার বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই প্রতারক চক্রকে তদন্তের আওতায় এনে অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরিয়ে আনা দরকার। সামরিক ছত্রছায়া ও রাজনৈতিক প্রভাবকে ঢাল বানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণা করছে। এত গুরুতর অভিযোগের পরেও প্রশাসনের শক্তিশালী হস্তক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

আকুল আবেদন:
ভুক্তভোগীদের কান্না যেন রাষ্ট্রের কর্ণকুহরে পৌঁছায় জমি হারানো কৃষক, সর্বস্ব হারানো গ্রাহক, অপমানিত নারী কর্মীদের কান্না আজ রাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এখনই সময়, এই প্রতারক সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর। ভুক্তভোগী গ্রাহক ও জমির মালিকরা মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন— ক্যাডার বাহিনী দিয়ে এখনো অবৈধভাবে জমি দখল করছে। প্রতিবাদ করলেই মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরা স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের দোসর—তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

ঝিনাইগাতীতে ভিজিএফের চাল পেল ১২ হাজার ৬৩০ পরিবার

ঝিনাইগাতীতে ভিজিএফের চাল পেল ১২ হাজার ৬৩০ পরিবার

মিজানুর রহমান, শেরপুরঃ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় দুঃস্থ, অসহায় ও অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার মোট ১২ হাজার ৬৩০টি পরিবারকে বিনামূল্যে ১০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা) সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ঝিনাইগাতী উপজেলার জন্য মোট ১২৬ দশমিক ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতিটি ভিজিএফ কার্ডধারী পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে এই চাল বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কাংশা ইউনিয়নে ১ হাজার ৯২০টি কার্ডের বিপরীতে ১৯ দশমিক ২০ মেট্রিক টন, ধানশাইল ইউনিয়নে ১ হাজার ৬৯৮টি কার্ডের বিপরীতে

আরও পড়ুন
language Change