মিজানুর রহমানঃ
শেরপুরে সূর্যের দেখা নেই ৫ দিন। বৃষ্টির মত ঝরছে কুয়াশা। সেই সাথে প্রচন্ড হিমেল বাতাস কাহিল করে ফেলেছে শেরপুরসহ গোটা গারো পাহাড় সীমান্তবর্তী জনপদের সব বয়সী মানুষকে।
প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে মানুষ কাজে যেতে পারছে না। ফলে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জুবু-থুবু হয়ে পড়েছে এই গারো পাহাড় সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষসহ সকল প্রাণীকুল।
গত ৫/৬ দিন যাবৎ দিনভর ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে আকাশ। দুপুরের দিকে কুয়াশা ভেদ করে সূর্য উঁকি দিলেও তার তেজ নেই একেবারেই। ফলে জড়োসড়ো থাকতে হচ্ছে মানুষসহ গবাদি পশুপাখিদের। তীব্র ঘন কুয়াশা আর প্রচন্ড হিমেল হাওয়ায় এই গারো পাহাড়ি জেলা শেরপুর অঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত।
৫ দিন ধরে শৈত্য প্রবাহে জুবুথুবু হয়ে পড়েছে জেলার উত্তর জনপদের মানুষসহ প্রাণীকুল। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা। ৫ দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। হাসপাতাল গুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে পড়েছে গারো পাহাড় ও চরাঞ্চলের হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। রাতের পাশাপাশি দিনের অধিকাংশ সময় ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে আকাশ। ফলে দিনের বেলাতেও যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে। অব্যাহত ঘনকুয়াশার কারণে বোর বীজতলা ও আলুর আবাদ নিয়ে কৃষকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। ৫ দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না।
কোথাও বা দেখা গেলে তা খুব অল্প সময়ের জন্য। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার সাথে প্রচন্ড হিমেল বাতাসের কারণে দিনের বেলাতেও মানুষ সাধারণ কাজকর্ম করতে পারছে না। দিনভর ঘরের মধ্যে গায়ে কাঁথা-কম্বল জড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অথবা আগুনের তাপ নিয়ে গা গরম করতে হচ্ছে। এক কথায় প্রচন্ড ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধসহ সব বয়সের মানুষ। জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। খড়কুটো জ্বালিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন ছিন্নমূল মানুষসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে গবাদি পশু নিয়েও চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় ও চরাঞ্চলের মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে।
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এসব রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিশু ও বৃদ্ধ। বৃদ্ধরা হাঁপানিসহ বিভিন্ন রোগে এবং শিশুরা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শীতের তীব্রতায় কয়েকদিন থেকে শেরপুরের সর্বত্র মানুষের সমাগম কমেছে। কমে গেছে যানবাহন চলাচল। ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ঠান্ডার কারণে শীতজনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। সন্ধ্যা নামতে না নামতেই এই অঞ্চলের হাট-বাজারগুলো ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সন্ধ্যার পর কেউই বাড়ির বাইরে থাকছেন না। এদিকে গারো পাহাড় সীমান্তবর্তী উপজেলা ঝিনাইগাতীতে মাত্র ১৫০০ কম্বল নিয়ে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আশরাফুল আলম রাসেল।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই হতদরিদ্র ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, গির্জা, মাদ্রাসা এতিমখানায় শিশু শিক্ষারথীদের মাঝে মাঝে ১০০০ কম্বল বিতরণ করেছেন। মজুদ রয়েছে মাত্র ৫০০ কম্বল। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।
অবিলম্বে সরকারকে পর্যাপ্ত কম্বলসহ শীতবস্ত্র বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও তিনবারের সাবেক এমপি এবং ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ মাহমুদুল হক রুবেল।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত