চট্টগ্রাম সংবাদদাতাঃ
চট্টগ্রামে বাসে তল্লাশী চালিয়ে ইয়াবাসহ এক পুলিশ সদস্যকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার ঘটনার প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় বাকলিয়া থানার আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ এ আদেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশীদ।
বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন, বাকলিয়া থানার এসআই মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার ও মোহাম্মদ আমির হোসেন, এএসআই সাইফুল আলম, মো. জিয়াউর রহমান, সাদ্দাম হোসেন ও এনামুল হক এবং কনস্টেবল মো. রাশেদুল হাসান ভূঞা ও উম্মে হাবিবা স্বপ্না। আমিনুর রশীদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইয়াবা আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় সিএমপি কমিশনারের নির্দেশে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হয়। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা লাইনে সংযুক্ত থাকবেন।
নগরীর কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু এলাকার চেকপোস্টে ৮ ডিসেম্বর রাতে ওই পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের এ ঘটনা ঘটে। ওই পুলিশ সদস্য কক্সবাজারের একজন বিচারকের গানম্যান। এ নিয়ে পরে দুটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, চেকপোস্টে তল্লাশীর সময় পাওয়া ইয়াবাসহ ওই পুলিশ সদস্যকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলা হয়, বাকলিয়া থানাধীন কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু এলাকার চেকপোস্টে ৮ ডিসেম্বর রাত ২টার দিকে ঢাকাগামী একটি বাসে তল্লাশী চালানো হয়। এতে ইমতিয়াজ হোসেন নামের এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। পরে ওই ইয়াবা গায়েব করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন দুটিতে ইমতিয়াজ হোসেনের পরিচয় দেওয়া হয় কক্সবাজার জেলা আদালতের এক বিচারকের গানম্যান হিসেবে।
ইমতিয়াজ কক্সবাজার থেকে ৮ ডিসেম্বর রাতে ছেড়ে আসা বাসটির যাত্রী ছিলেন এবং তার কাছ থেকে জব্দ করা ইয়াবার বাজার মূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এ সংবাদ দেখে গত ২৩ ডিসেম্বর ট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ বিষয়ে মামলা করেন। এ বিষয়ে তদন্ত করে ১২ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনারকে (দক্ষিণ) নির্দেশ দেন তিনি। আদেশে বলা হয়, ঘটনাস্থলে ওই তারিখে চেকপোস্ট ডিউটিতে কোন কোন পুলিশ সদস্য কর্মরত ছিলেন তাদের নাম, ডিউটি রেজিস্ট্রার ও সিসি কপি সংগ্রহ করতে হবে।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কোন বাসে তল্লাশী করা হয়, তল্লাশীকালে পুলিশ পরিচয়দানকারী ইমতিয়াজ হোসেনের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা আটক হয়েছিল কিনা এবং উক্ত ব্যক্তিকে মাদকসহ আটকের পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে কিনা? তাও তদন্ত করতে বলা হয়েছে আদালতের আদেশে। তদন্তকারীকে স্বাধীন তদন্ত করার নির্দেশনা দিয়ে আদেশে বলা হয়, প্রতিবেদনকারী সাংবাদিকদের, বাস চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারের সাক্ষ্যগ্রহণ করতে হবে। ঘটনার কোন প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া গেলে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করতে হবে।
ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের কার কা ভূমিকা ছিল এবং বাকলিয়া থানার ওসি কেন আলামত উদ্ধার হওয়ার পরও মামলা রেকর্ড করেন নাই তার কারণ অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে আদেশে। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বর্ণিত ইয়াবার জব্দ তালিকা প্রস্তুত না করার কারণ এবং আলামত গোপনে অন্যত্র হস্তান্তর করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কোন ধরণের বেআইনি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে কিনা তাও তদন্ত করতে বলা হয়েছে আদালতের আদেশে।
এছাড়া ইয়াবাগুলো বর্তমান অবস্থান কোথায়, কার নির্দেশে ও কার হেফাজতে আছে তা যাচাই করতে তদন্ত কর্মকর্তাকে আদেশ দিয়েছে আদালত। ওই ঘটনায় দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যরা কোনো গুরুতর অবহেলা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে কিনা তা তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত