ডেস্ক রিপোর্টঃ
২০০৬সালের ১৫অক্টোবর। রমজান মাস। ইফতারের পর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা। কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ বাজার সংলগ্ন বেড়িবাঁধের রাস্তা। লোকজনের যাতায়াত তখনো কমেনি। সেই রাস্তার ওপরই রিকশা থেকে নামিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় ওমরগণি এমইএস কলেজের ছাত্র ও কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এরশাদুল হাবিব রুবেলকে।
দীর্ঘ ১৯বছর পর আলোচিত হত্যকাণ্ডের এই মামলার রায় হয়েছে বুধবার (৭জানুয়ারি)। চট্টগ্রামের সিনিয়র দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন রায়ে চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। খালাস পেয়েছেন চারজন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জাহেদুল ইসলাম ফরহাদ, আবু এরশাদ জুয়েল, রুস্তম আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন সোহেল। তাদের মধ্যে জাহেদুল ইসলাম কারাগারে রয়েছেন। বাকিরা পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। অন্যদিকে খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন তৌহিদুল ইসলাম আরাফাত, হোসাইন মোহাম্মদ সাজ্জাদ, মোহাম্মদ সৈয়দ ও আজাহারুল ইসলাম ছোটন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক বলেন, নিহত এরশাদুল হাবিব রুবেলের মা ২০০৬সালের ১৭অক্টোবর কুতুবদিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৮জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ৮জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত চারজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলার কার্যক্রম শেষ হতে দীর্ঘ বছর লাগার কারণ হিসেবে পিপি আশরাফ চৌধুরী বলেন, বাদীপক্ষের সাক্ষীদের বিগত সরকারের আমলে আদালতে উঠতে দেওয়া হয়নি।
ভাই হত্যার মামলা লড়তেই দুই ভাই-বোন আইনজীবী: ব্যারিস্টার মো. হানিফ বিন কাশেম ও অ্যাডভোকেট পাইরিন আক্তার ভাই-বোন। দুজনই উচ্চ আদালতের আইনজীবী। বড় ভাই রুবেল যখন খুন হন, তখন হানিফ দশম শ্রেণিতে ও পাইরিন এইচএসসিতে পড়ছিলেন। ভাইয়ের খুনিদের সঙ্গে আইনি লড়াই করতে দুজনেই হয়েছেন আইনজীবী। এই সময়ের মধ্যেই মারা যান তাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবা ও মামলার বাদী মা। ২০১৫সালের ১৩নভেম্বর মারা গেছেন তাদের মা। ২০২১সালের ২১জানুয়ারি মামলার বাদী হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হন কাশেম।
মামলার সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে ভয়ভীতি দেখানোর নেপথ্যে ছিলেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী অভিযোগ হানিফ ও পাইরিনের। তারা জানান, ফরিদের পৃষ্ঠপোষকতায় রুবেল হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের পদও পেয়েছিলেন। ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী মামলার সাক্ষীদের হুমকি দিয়েছিলেন সাক্ষ্য না দিতে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত