জান্নাত আশা ॥
স্বৈরাচার হাসিনার আমলে দেশে অরাজকতার কারনে পালালেও তার দোসররা বসে সেই অপর্কম করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত তেমনী ভাবে ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি আর উৎপাদিত পণ্য
পাচার করছে ইনসুলেটর ও স্যানিটারিওয়্যার উৎপাদনকারী দেশের একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনসুলেটর অ্যান্ড স্যানিটারিওয়্যার ফ্যাক্টরি লিমিটেড (বিআইএসএফ)। বছরের পর বছর ধরে এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সফলতার মুখ দেখছে না প্রতিষ্ঠানটি। অথচ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে প্রতিবছর অর্থায়ন করছে শিল্প মন্ত্রণালয়। রহস্যজনকভাবে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপও নেই শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিসিআইসি।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ ইনসুলেটর অ্যান্ড স্যানিটারিওয়্যার ফ্যাক্টরি লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন। ঘুষের টাকা গুনে নেয়ার পরই তিনি ফাইলের দিকে নজর দেন। প্রতিষ্ঠানটিতে উৎপাদিত পণ্য পাচারের অভিযোগও রয়েছে।
শুরুতেই প্রকাশ্য দিবালোকে সিরামিক পণ্য পাচারের চিত্র ধরা পড়ে সময় সংবাদের ক্যামেরায়। সারা দেশে ঠিকাদারের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর কথা থাকলেও ট্রাকভর্তি সিরামিক পণ্য কোথায় যাচ্ছে তা ঠিকাদাররাও জানেন না। একজন ঠিকাদার বলেন, ‘এসব সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। এখানে ট্রাক আসে, ট্রাক যায়। কে ট্রাক নেয়, কার ট্রাক যায়, কোন মাল কোথায় যাচ্ছে–এগুলো আমি জানি না।’
দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে গোডাউনের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ক্যামেরা বন্ধ করতে তেড়ে আসেন এবং মামুনসহ অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দফতরে যাওয়ার পথেও বাধা দেন।
বাধা অতিক্রম করেও দফতরে পৌঁছার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। তবে মুঠেফোনে নিরাপত্তা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরকে নির্দেশনা দেন সাংবাদিক ম্যানেজের। এবার কথার মাঝে গোমর ফাঁস করতে শুরু করেন হুমায়ুন নিজেই। তিনি জানান, সরকারি অর্থে উৎপাদিত সিরামিক পণ্য সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে বাইরে পাচার হয়। গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, এক লাখ টাকার মাল কারখানা থেকে বের হয়ে যায়, সিকিউরিটি গার্ডকে ১০০টাকা দেয়া হয়।
উৎপাদিত পণ্য পাচার হওয়ায় মূলত লাভের মুখ দেখছে না বিআইএসএফ। প্রতিবছর লাভ ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) থেকে অর্থ নিচ্ছেন তারা। এমন অনিয়ম-দুর্নীতি সম্পর্কে জানতে বিসিআইসি ভবনেও গেলেও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান কথা বলতে রাজি হননি। দেয়া হয়নি অর্থ প্রদানের তথ্যও।
বাংলাদেশ ইনসুলেটর অ্যান্ড স্যানিটারিওয়্যার ফ্যাক্টরি লিমিটেডের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অভিযোগ দিলেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি শিল্প মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিসিআইসি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত