স্টাফ রিপোর্টার:
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ইইডি) দায়িত্বে অবহেলা, প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মুজাহিদুল ইসলাম আলিফ। আওয়ামীপন্থী বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হওয়ায় তিনি যেন অদৃশ্য সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে রয়েছেন-এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
বর্তমানে তিনি ইইডির অধীনে ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে মানিকগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে কাজের গাফিলতি, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগ কখনোই দৃশ্যমান তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখ দেখেনি।রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রশাসনিক দায়মুক্তি?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৭জুলাই শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী শাহ্ নইমুল কাদেরকে আহবায়ক এবং প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হাসেম সরদারকে সদস্য সচিব করে ১৯ সদস্যের বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই কমিটির একজন সদস্য ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম আলিফ। পরে ২০২৩-২৪ সালের আহবায়ক কমিটিতেও তিনি স্বগৌরবে সদস্য হন।
দপ্তরের ভেতরের একাধিক সূত্র বলছে, এই সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বারবার ধামাচাপা পড়ে গেছে। রাজনৈতিক পরিচয় যেন তাঁর জন্য প্রশাসনিক ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।নামে-বেনামে অঢেল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় একটি ফ্ল্যাটসহ তাঁর নামে ও বেনামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে-একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর বৈধ আয়ে এত সম্পদ কীভাবে সম্ভব?
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ যাচাইয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখনো নেওয়া হয়নি। ফলে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলী আলিফ নির্বিঘ্নেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রভাবশালী সংগঠনের ছত্রছায়ায় থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে সৎ কর্মকর্তারা কোণঠাসা হচ্ছেন এবং দপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবিলম্বেঅভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সম্পদের হিসাব যাচাই এবং প্রয়োজন হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর দুর্নীর্তির নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হবে।এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মুজাহিদুল ইসলাম আলিফের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে। তিনি জানান, নিউজ করে হয়রানি করার কি দরকার, সেগুনবাগিচায় আমার কোন ফ্ল্যাট নাই। আসলে প্রধান প্রকৌশলী এ ধরনের কমিটির অনুমোদন দিতে পারেন না। আশাকরি যাচাই বাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবেন।
যদিও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের দুই বছরের আহবায়ক কমিটিতেই সদস্য স্থান দখল করে আছেন।
অন্যদিকে সে নাকি ছাত্রদলের নেতা ছিল এমনও প্রচার চালাচ্ছেন পরিচিত জনদের কাছে তাতে করে বিএনপির ত্যাগি নেতাদের প্রশ্ন ছাত্রদল করা ছেলে কি করে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা হয়?
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত