হাফিজুর রহমান খানঃ
বরগুনার আমতলী উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মামলা করায় বিপাকে পড়েছেন এক অসহায় পরিবার। মামলা তুলে না নিলে বাদীকে এসিড মেরে জ্বলসে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
মামলার বাদী মোসা. নাজমা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী জাকির হোসেন গাজী ২০২১ সালে একই গ্রামের আজিজ মুসুল্লীর কাছ থেকে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়ি নির্মাণের পর থেকেই ইউসুফ মুসুল্লী, আজিজ মুসুল্লী, দুলাল মুসুল্লীসহ তাদের লোকজন বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। তাদের উদ্দেশ্য ওই জমি দখল করা বলে অভিযোগ করেন জাকির।
জাকির হোসেন গাজীর দাবি, গত পাঁচ বছরে তাকে ও তার পরিবারকে অন্তত পাঁচবার মারধর করা হয়েছে। এমনকি তাদের দুই শতাধিক মুরগি ও অন্যান্য পালিত প্রাণী বিষ প্রয়োগে মেরে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সর্বশেষ গত সোমবার জাকিরের পাঁচটি হাঁস আজিজ মুসুল্লীর ধানক্ষেতে গেলে বিষয়টি কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আজিজ মুসুল্লী, ইউসুফ মুসুল্লীসহ কয়েকজন লোহার রড দিয়ে জাকির, তার ছেলে রাকিবুল ইসলাম গাজী ও স্ত্রী নাজমা বেগমকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নাজমা বেগম ইউসুফ মুসুল্লীকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলা করার পর থেকেই তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেন নাজমা বেগম। তিনি বলেন, গরিবের কি কেউ নেই? মামলা তুলে না নিলে আমাকে এসিড মেরে জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ভয়ে বাড়িতে যেতে পারছি না।
অন্যদিকে অভিযুক্ত ইউসুফ মুসুল্লী মারধরের ঘটনা আংশিক স্বীকার করে বলেন, “জাকিরের ছেলে আমার চাচাকে মারধর করেছিল। তাই আমি দু-চারটি থাপ্পড় দিয়েছি।” তবে এসিড হামলার হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আদালতের নথিপত্র এখনও হাতে পাননি। নথি পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত