স্পোর্টস ডেস্কঃ
ইংল্যান্ডের দরকার তখনো ১৯ বলে ৪৩ রান। টি-টোয়েন্টির বিচারে আহামরি টার্গেট মনে না হলেও ভেন্যুটা যেহেতু কলম্বো কঠিনতো বটেই। বল তুলে দেওয়া হলো গ্লেন ফিলিপসের হাতে। সিদ্ধান্তটি ম্যাচের পরিস্থিতির বিচারে যুৎসই-একেতো পিচ স্পিন সহায়ক ছিল। তারওপর প্রথম ইনিংসে ইংলিশরা ১৬ ওভারই স্পিন করিয়েছে, টি-টোয়েন্টিতে যা তাদের সর্বোচ্চ।
ক্রিজে তখন দুই ডানহাতি উইল জ্যাকস আর রেহান আহমেদ। তাত্ত্বিকভাবে ফিলিপসের অফব্রেক ভেতরে ঢুকবে, বড় সীমানার দিকে শট খেলতে বাধ্য করবে। পিচ, বাউন্ডারি, ম্যাচ-আপ-সব যুক্তিই মিলছিল। বিকল্পও খুব স্পষ্ট ছিল না। ইশ সোধি দুই ওভারে ২১ রান দিয়ে ফেলেছেন। আগের ম্যাচে ডেথ ওভারে পেসে খুব বাড়তি সহায়তা মেলেনি। এমনকি শ্রীলঙ্কাও শেষের দিকে পেসে ভরসা করে খেসারত দিয়েছে। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক স্যান্টনারের ভাবনাটা ছিল পরিস্কার। প্রতিপক্ষ ব্যাটারকে বড় সীমানায় শট খেলতে বাধ্য করা। পরে বসে সব বিশ্লেষণ করা সহজ, হারের পর বলছিলেন স্যান্টনার। সিমে যাওয়া যেত কি না-সেটা ভাবা যায়। তবে ওই সময়ের হিসেবে সিদ্ধান্তটা যুক্তিসঙ্গতই ছিল। তাছাড়া বরাবরের মতো এদিনও ফিলিপসকেই মনে হচ্ছিল মাঠের সবচেয়ে নিরাপদ ভরসা। ব্যাট হাতে ছিলেন ভয়ডরহীন। স্পিনাররা বল ফুল করলেই সোজা ড্রাইভ, শর্ট হলেই নিয়ন্ত্রিত পুল-অযথা ঝুঁকি না নিয়েই ইনিংস গড়েছেন। বল হাতেও প্রভাব রেখেছেন। হ্যারি ব্রুক জায়গা বানিয়ে মারতে চেয়েছিলেন, কিন্তু রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে অফব্রেক ভাসিয়ে বলটা বাইরে নিয়ে যান ফিলিপস। ফলে শটটি স্কয়ার বাউন্ডারির বদলে অনেকটাই সোজা লং অফে উঠে যায় ক্যাচ।
কয়েক মিনিট পর ডিপ থেকে দৌড়ে এসে সামনে ঝাঁপিয়ে নিচু ক্যাচে বিদায় করেন জ্যাকব বেথেলকে। সেট হয়ে যাওয়া ব্যাটারকে ফেরানোটা ছিল বড় ধাক্কা। রান, উইকেট, ক্যাচ-টি-টোয়েন্টির সেই ‘পূর্ণাঙ্গ’ রাতের মতোই এগোচ্ছিল ফিলিপসের ম্যাচ। সমীকরণ তখন জিততে হলে ইংল্যান্ডের দরকার ৩ ওভারে ৪৩ রান। নিউজিল্যান্ডের জন্য প্রথম বড় আঘাতটি আসে ‘আনকোরা’ রেহানের ব্যাটে। রেহান এদিন যেন দলের ত্রাতা হয়ে নামলেন। ফিলিপসের বলে লং-অনের ওপর দিয়ে ছক্কার মার। পরিস্থিতি বিবেচনায় এক ছয়ই ম্যাচের আবহ বদলে দিলো যেন। ম্যাচসেরা হওয়া জ্যাকস পরে বলছিলেন, রেহানের ওই ছক্কাটা আমাকে শক্তি দিয়েছে। বুঝেছিলাম, সুযোগ আছে। ওই ওভারে ৬-৪-৪। এক ওভারেই ২২ রান।
জ্যাকসের ভাষায়, ওই ১৮তম ওভারটাই ছিল বড় টার্নিং পয়েন্ট। তখন ঝুঁকি নিতেই হতো। জানতাম, অফস্পিন আমাদের জন্য ভালো ম্যাচ-আপ। শেষের আগের বলে সিঙ্গেল নিয়ে বলেছিলাম, ‘তুমি ফ্রি হিট খেলো।’ সেই ছক্কাই ম্যাচ জিতিয়ে দিয়েছে। ১৯ বলে ৪৩ রানের বদলে ইংল্যান্ড পরের ৪৫ রান তুলে ফেলল মোটে ১৬ বলে। কলম্বোর ধীরগতির উইকেটে পরে ব্যাট করে অবিশ্বাস্য এক জয় পেল ইংল্যান্ড। ইংলিশদের এই জয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠার স্বপ্ন বেঁচে রইল পাকিস্তানেরও। নিজেদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততেই হবে পাকিস্তানের। সেই সঙ্গে মিলাতে হবে নেট রানরেটের হিসাব। গ্রুপ-২ তে ৩ ম্যাচের তিনটিতেই জিতে সর্বোচ্চ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ২ নম্বরে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। এদিকে ১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিন নম্বরে অবস্থান পাকিস্তানের। আর কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে না পারা জিম্বাবুয়ে তলানিতে রয়েছে।
এই গ্রুপের আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। বিশ্বকাপ থেকে আগেই ছিটকে যাওয়ায় এই ম্যাচটি শ্রীলঙ্কার জন্য নিতান্তই নিয়মরক্ষার। তবে ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন শ্রীলঙ্কাকে হারালে সর্বোচ্চ ৩ পয়েন্ট অর্জন করতে পারবে পাকিস্তান। এমতাবস্থায় নিউজিল্যান্ডকে টপকাতে না পারলেও দুদলের পয়েন্ট হবে সমান। সেমিতে উঠতে হলে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকতে হবে পাকিস্তানকে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত