মো: শাহ আলমঃ
আমলীগোলা ছোট জামে মসজিদে জুমার খুতবায় খতিব মাওলানা শাহ মোহাম্মদ শফিকুর রহমান জাকাতের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জাকাত কোনো অনুদান নয় এটি ফরজ ইবাদত। জাকাতদাতা হকদারের কাছে ঋণী-যতক্ষণ না তার প্রাপকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়, ততক্ষণ দায়মুক্তি নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশে জাকাতদাতার সংখ্যা কম নয়, কিন্তু সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রকৃত দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিবছর জাকাতের শাড়ি, বিতরণকে কেন্দ্র করে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরু স্থানে ঢাকঢোল পিটিয়ে বিতরণ না করে তালিকা করে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
খতিব বলেন, লুঙ্গি, কাপড় বিতরণের বদলে কর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগ-যেমন রিকশা, সেলাই মেশিন, বা ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি-দেওয়া হলে পরিবারগুলো স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। তিনি উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের Center for Zakat Management-এর কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। প্রতিষ্ঠানটি কর্মসংস্থানভিত্তিক জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কয়েক হাজার পরিবারকে স্বাবলম্বী করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া মালয়েশিয়ার Lembaga Zakat Selangor-এর সফল মডেলের কথাও তুলে ধরে বলেন, পরিকল্পিত ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনায় জাকাত দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে আদায়যোগ্য জাকাতের পরিমাণ হাজার হাজার কোটি টাকা।
এর সঠিক ব্যবস্থাপনা হলে লক্ষাধিক পরিবারকে পুঁজি সহায়তা দেওয়া সম্ভব, যা কয়েক বছরের মধ্যেই দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে পারে। খুতবার শেষে মাওলানা শাহ মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, ব্যক্তিগতভাবে জাকাত দিয়ে সমাজের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা কঠিন। সময় এসেছে গণমানুষের আস্থাসম্পন্ন বিশেষ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাকাত সংগ্রহ ও বণ্টনের সমন্বিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার। মুসল্লিরা খুতবায় উত্থাপিত প্রস্তাবকে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত