নিজস্ব প্রতিবেদক॥
সরকারি অর্থ মানেই কি মচ্ছব? মৎস্য অধিদপ্তরের ‘ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট’ (মৎস্য অংশ)-এ যেন দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। প্রকল্পের নাম ‘জলবায়ু সহিষ্ণু’ হলেও খোদ প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো: জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধেই উঠেছে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কোটি কোটি টাকা লোপাটের গুরুতর অভিযোগ। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার আর নজিরবিহীন অনিয়মের ফিরিস্তি দিয়ে ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিরা।
অনুসন্ধানে এবং দুদকে জমা পড়া অভিযোগ থেকে জানা যায়, পিডি জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে প্রকল্পের প্রতিটি স্তরেই থাবা বসিয়েছে দুর্নীতি।
কেনাকাটায় পিপিআর-এর কবর:
প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী খামার স্থাপন ও সরঞ্জাম কেনাকাটায় পিপিআর (PPR) বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ অতিরিক্ত দর দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণ মৎস্য চাষিরা বলছেন, জলবায়ু সহিষ্ণু উপকরণের নামে যা কেনা হয়েছে, তার মান অত্যন্ত নিম্নমানের হলেও দাম দেখানো হয়েছে আকাশচুম্বী।
ভুয়া সুবিধভোগী ও ‘কাগজে-কলমে’ প্রশিক্ষণ প্রকল্পের সবচেয়ে বড় জালিয়াতি ধরা পড়েছে সুবিধভোগী তালিকায়। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের বাদ দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ও পিডির নিজস্ব বলয়ের ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া নিয়মিত বিরতিতে প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের নামে চলছে ভুয়া ভাউচারের খেলা। অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে কোনো প্রশিক্ষণ না করেই কেবল কাগজে-কলমে আপ্যায়ন ও যাতায়াত ভাতা দেখিয়ে কোটি টাকা পকেটে পুরছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
সরকারি গাড়িতে ব্যক্তিগত বিলাসিতা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত দামি গাড়ি এবং জ্বালানি পিডি জাহাঙ্গীর আলম ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কেনাকাটার কমিশন ও অনিয়মের মাধ্যমে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে।
তদন্তের দাবি চাষিদের ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের পক্ষে মো: আব্দুর রশিদ আকন্দ স্বাক্ষরিত ওই অভিযোগপত্রে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানানো হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নেওয়া এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে এমন হরিলুট চললে সরকারের মূল উদ্দেশ্যই ভেস্তে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি তারা হাতে পেয়েছেন এবং নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত