স্টাফ রিপোর্টার॥
দেশের এক সময়ের শীর্ষ ওষুধ উৎপাদন কোম্পানি বায়োফার্মার সাবেক চেয়ারম্যান ডা. সওকাত আলী লস্করের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে তার পরিবার। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে সওকাত আলীর ভাই শাহাবুদ্দিন লস্কর এ মামলা করেন। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে বায়োফার্মা লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক লকিয়তুল্লাহকে। তার বিরুদ্ধে এর আগেও বায়োফার্মা থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা দুর্নীতি ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। সেই বিষয় নিয়ে হাইকোর্টের রুলের পর তদন্ত শুরু করে দুদক।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে দাখিল করা এ মামলায় লকিয়তুল্লাহ ছাড়া আরও ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যরা হলেনÑবর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ডা. আনোয়ারুল আজিম, আলী আশরাফ খান, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, আবু সাঈদ, আফজাল হোসেন ও কফিল।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ডা. সওকাত আলী লস্কর একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক। খুলনায় প্রথম আধুনিক টেস্ট ল্যাব সিটি ইমেজিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা এবং খুলনা কিওর হোম হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা মালিক ছিলেন তিনি। খুলনা জেলা প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাকটিশনারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকও ছিলেন।
২০২২ সালের শুরুতে বায়োফার্মার শেয়ারহোল্ডাররা সওকাত আলীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি পুরো কোম্পানির অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি নিয়ে কাজ শুরু করেন। জানতে পারেনÑনানাভাবে এই কোম্পানির টাকা আত্নাসাৎ করতেন কয়েকজন শেয়ারহোল্ডার। এসব নিয়ে কাজ শুরু করার পর তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও কোম্পানির কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। আসামিদের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার দুর্নীতির বিষয় উদ্ঘাটিত হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে হত্যার হুমকিও দিত তারা।
এতে বলা হয়, ২০২২ সালের ২ অক্টোবর বাদির ভাই খুলনা থেকে ঢাকা যান। ৩ অক্টোবর বায়োফার্মার অফিসে গিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় অফিস থেকে বের হয়ে ইস্কাটনের বাসায় ফিরলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার পেটে সমস্যা শুরু হয়। দুবার বমি করেন। ফুড পয়জনের কারণে এমন হতে পারে ভেবে তিনি ওষুধ সেবন করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরদিন খুলনায় এসে পেটে ব্যথা ও বমির চিকিৎসা নেন। শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় ১১ অক্টোবর তিনি আইসিইউতে ভর্তি হন। এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বলা হয়,Ñতাকে খাবারের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। তাই তার রক্ত, কিডনি, হার্টসহ বিভিন্ন অর্গ্যান দ্রুত অকার্যকর হয়ে পড়ছে। নভেম্বরের ৩ তারিখে হেলিকপ্টারে তাকে ঢাকায় এনে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি ওইদিন মারা যান।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, আসামিরা তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কফির সঙ্গে বিষ প্রয়োগ করে বাদীর ভাইকে হত্যা করেছে। অসুস্থ হওয়ার পর সওকাত আলী বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, অফিস কফি খাওয়ার পর থেকেই তিনি অসুস্থতাবোধ করতে থাকেন। এতে আরও বলা হয়, ২০২০ সালে সিলেটে বিজনেস প্রমোশন প্রোগ্রাম চলাকালেও তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
চেয়ারম্যান হিসেবে তার মেয়াদ ছিল ২০২৫ সাল পর্যন্ত। এ সময় পর্যন্ত যদি তিনি দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেতেন তাহলে আসামিদের অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরা পড়ত। তাই অত্যন্ত সুকৌশলে আর্সেনিক বা অন্য যে কোনো জীবন হানিকর বিষ কফির সঙ্গে মিশিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাদী শাহাবুদ্দিন লস্কর বলেন, আমার ভাইকে সুকৌশলে হত্যা করা হয়েছে। দুর্নীতি এবং অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবাদ করায় কুচক্রীরা তাকে বাঁচতে দেয়নি। আশা করছি, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আসল ঘটনা উদ্ঘাটন হবে।
এ বিষয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি বায়োফার্মার সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লকিয়তুল্লাহকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এরপর প্রশ্ন লিখে খুদেবার্তা পাঠালেও তিনি উত্তর দেননি।
মামলার ২ নম্বর আসামি বায়োফার্মার ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আজিম বলেন, মামলার বিষয়টি জানি না। কেবল হয়রানি করার জন্যই মামলা করা হয়েছে। যে অভিযোগ দিয়েছেন তা ভিত্তিহীন।
বায়োফার্মার ডা. শাহাবুদ্দিন বলেন, আমি এসব বিষয় কিছু জানি না। আমার বয়স হয়েছে। রুটিন দায়িত্ব পালন করি। কোম্পানির এসব বিষয় আমি দেখি না।
গত ১৮ মাসে জামাতের ক্ষমতাবলে মামলাটিকে ভিন্নখাতে নেবার চেষ্টা করেছে লকিয়তুল্লাহ ও তার সহযোগিরা। এই লকিয়তুল্লাহর গত ১৭ বছর আওয়ামীলীগের সাথে মিলে মিশে আকাম কুকাম করে বেড়িয়েছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত