মো: জুয়েল হোসেন, সিরাজগঞ্জঃ
বাংলাদেশের রাজনীতির উত্তাল জনপদ সিরাজগঞ্জ। আর এই জনপদে গত দুই দশক ধরে জাতীয়তাবাদী আদর্শের এক অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মির্জা মোস্তফা জামান। কেবল পারিবারিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী হিসেবে নয়, বরং রাজপথের জেল-জুলুম আর মাইলের পর মাইল সংগ্রামের পথ মাড়িয়ে তিনি আজ সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন।
মির্জা মোস্তফা জামানের রাজনীতির শিকড় প্রোথিত রয়েছে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে। তার পিতা মরহুম মির্জা মোরাদুজ্জামান ছিলেন সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য এবং সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। পিতার সেই আদর্শিক মশাল হাতে নিয়েই ১৯৯০-এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে তার সক্রিয় পথচলা শুরু। ২০০১ সালে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে সভাপতি এবং বর্তমানে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তিনি তৃণমূলের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। এ বিষয়ে মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, আমার রাজনীতি কোনো পদ-পদবির মোহ থেকে নয়, বরং আমার রক্তে মিশে আছে দেশপ্রেম। শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং আমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতার দেখানো পথেই আমি মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নিজেকে সঁপে দিয়েছি। যতোদিন বেঁচে থাকব, সিরাজগঞ্জের মানুষের জন্য রাজপথে থাকব।
বিগত দুই দশকে মির্জা মোস্তফা জামানের জীবন যেন এক অগ্নিপরীক্ষার নাম। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলার সংখ্যা ৪০টি। ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই করতে গিয়ে তিনি মারাত্মক হামলার শিকার হন। সেই হামলায় তিনি এতটাই গুরুতর আহত হয়েছিলেন যে, প্রায় তিন মাস তাকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল। সেই দুঃসহ স্মৃতির ক্ষত তিনি আজও শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন। নিজের জীবন সংগ্রাম চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, "২০০৭ সালের সেই রক্তাক্ত হামলার দাগ আজও আমার শরীরে অমলিন। আমাকে বারবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে, মাসের পর মাস অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি রাখা হয়েছে। কিন্তু স্বৈরাচারের কোনো নির্যাতনই আমার মনোবল ভাঙতে পারেনি। আমি বিশ্বাস করি, সত্যের লড়াইয়ে পরাজয় নেই।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনেও সিরাজগঞ্জের রাজপথে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মির্জা মোস্তফা জামান। প্রশাসনের রক্তচক্ষু ও গোয়েন্দা বাহিনীর হুমকি উপেক্ষা করে তিনি আন্দোলনকারীদের সংগঠিত করেছেন। বর্তমানে তিনি দেশনায়ক তারেক রহমান ঘোষিত '৩১ দফা' রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটে চলছেন। মির্জা মোস্তফা জামান আরও বলেন, আমরা কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন চাই না, আমরা চাই রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল সংস্কার। তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা হলো একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের ব্লু-প্রিন্ট। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
রাজনীতির বাইরেও মির্জা মোস্তফা জামান একজন উচ্চশিক্ষিত (এম.এ, এলএল.বি) ও মার্জিত ব্যক্তিত্ব। তিনি সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও নজরুল একাডেমির মতো অসংখ্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ব্যক্তিগত জীবনে দুই পুত্রের জনক এই নেতা মনে করেন, একটি শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা প্রজন্মই পারে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে। সিরাজগঞ্জের রাজনীতিতে মির্জা মোস্তফা জামান কেবল একজন নেতা নন, বরং তিনি সংকটের সময়ে তৃণমূল কর্মীদের সাহস জোগানোর এক কারিগর। জেল-জুলুম আর হুলিয়ার ভয় জয় করে তিনি আজও অবিচল রয়েছেন তার আদর্শে। সিরাজগঞ্জের গণমানুষের জন্য তার এই ত্যাগ ও সংগ্রাম আগামীর প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত