মোঃ ইব্রাহিম হোসেন ॥
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী ঘাটে বড়াল নদীকে ঘিরে চলছে এক দীর্ঘ লড়াই। একদিকে নদী রক্ষার জন্য স্থানীয় জনগণের আর্তি, অন্যদিকে দেশবন্ধু সিমেন্ট ফ্যাক্টরির অব্যাহত কার্যক্রম। আদালত ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন-নদীর জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। কিন্তু দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও রায় কার্যকর হয়নি। ফলে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে, রায় থাকলেও নদী কেন বাঁচছে না?
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে বড়াল নদীর তীর ভরাট করে কারখানার স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। একসময় যে নদী কৃষি, মৎস্য ও নৌযান চলাচলের প্রাণ ছিল, এখন সেটি সংকুচিত হয়ে পড়ছে। শুষ্ক মৌসুমে সেচ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে, মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে, আর নৌযান প্রায় চলাচল বন্ধ।
একজন কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নদী ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না। কিন্তু কারখানা নদী দখল করে নিয়েছে, এখন সেচও দেওয়া যায় না, মাছও নেই। সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
শুধু নদী নয়, কারখানা থেকে ছড়ানো ধুলো-ধোঁয়ায় আশপাশের জনজীবনও বিপর্যস্ত। ঘরের ভেতর, বাইরেও ধুলো জমে থাকে সারাদিন। শিশু ও বৃদ্ধরা হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, চোখের প্রদাহসহ নানা রোগে ভুগছেন।
কারখানার এক কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারীরা বলছেন- আমরা সারাদিন ধুলো খেয়ে বাঁচি। অসুস্থ হলে কেউ খোঁজও নেয় না।
ফ্যাক্টরির শ্রমিকরা ন্যূনতম নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই প্রতিদিন কার্যক্রম চলমান । অনেকেই ফুসফুসজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হলেও কারখানার পক্ষ থেকে চিকিৎসা সহায়তা মেলে না।
একজন শ্রমিক আক্ষেপ করে বলেন- আমরা জীবন বাজি রেখে কাজ করি। কিন্তু অসুস্থ হলে বেতন তো দূরের কথা, ওষুধের টাকাও পাই না।
২০১৬ সালে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মোঃ আতাহারুল ইসলাম বড়াল নদী পরিদর্শন করে রিপোর্ট দেন-কারখানা অবৈধভাবে নদী দখল করেছে। পরে মামলা হয় এবং আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেন-সিএস নকশা অনুযায়ী নদীর প্রবাহ রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে।
কিন্তু সেই রায় আজও বাস্তবায়ন হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, কমিটি গঠন ও সার্ভেয়ার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন-এই প্রক্রিয়া কেন বছর ধরে চলছে, অথচ নদী প্রতিদিন ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে?
সচেতন মহলের দাবি, কারখানাটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রয়েছে বলেই রায় কার্যকর হচ্ছে না। সরাসরি মুখ না খুললেও স্থানীয়রা ইঙ্গিত করেছেন-অদৃশ্য শক্তির সুরক্ষা থাকায় প্রশাসনও পদক্ষেপ নিতে সাহস পাচ্ছে না।
একজন পরিবেশ কর্মী বলেন, রায় আছে, আইন আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন নেই। এখানে নিশ্চয়ই অদৃশ্য প্রভাব কাজ করছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, যদি দ্রুত উচ্ছেদ কার্যকর না হয় তবে বড়াল নদী পুরোপুরি মৃতপ্রায় হয়ে পড়বে। কৃষি ও মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হবে, জনজীবনে মারাত্মক সংকট তৈরি হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর এক গবেষক বলেন, নদী রক্ষার জন্য আদালতের রায় কার্যকর করা জরুরি। দেরি মানে নদী ধ্বংস, পরিবেশ ধ্বংস, মানুষের জীবন ধ্বংস।
শাহজাদপুরের মানুষ এখন অপেক্ষায়-আদালতের রায় কবে বাস্তবায়িত হবে। নদী বাঁচবে কি না, সেটাই আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। স্থানীয়দের আক্ষেপ, আদালত আমাদের পাশে আছে, কিন্তু প্রশাসন কি আমাদের পাশে দাঁড়াবে? এবিষয়ে,কথা বলতে একাধিকবার কারখানায় গেলে কতৃপক্ষের ব্যক্ত পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে,শাহজাদপুর উপজজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাথে কথা বলতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত