অনলাইন ডেস্ক ॥
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বহুল ব্যবহৃত একটি শব্দ মব। দেড় বছর ধরে দেশের মানুষ দেখে আসছেন—মব কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী।
অনেকে বলতে থাকেন, দেশটা এখন ‘মবের মুল্লুক’। তবে পথেঘাটে প্রকাশ্যে যেসব মবসন্ত্রাস ঘটেছে, কেবল সেগুলোই দেখার দুর্ভাগ্য হয়েছে দেশবাসীর।
এর বাইরে গোপনে-নিভৃতে কত ধরনের, কত মাত্রার মব-সন্ত্রাস যে হয়েছে, তা বের হয়ে আসছে একে একে। এ রকমই একটি ঘটনার কথা জানা গেছে সরকারি সেবা কর্মকাণ্ডের ডিজিটাল রূপান্তরের প্রধান কেন্দ্র এসপায়ার টু ইনোভেটে, যাকে সংক্ষেপে বলা হয় এটুআই।
৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এই অফিস হয়ে ওঠে যেন ‘মবের মুল্লুক’। বরখাস্ত হওয়া ছোট পদের কর্মকর্তা গায়ের জোরে বড় পদ দখল করে বসেন এবং আগে যেখানে বেতন পেতেন ৭০ হাজার টাকা, সেটাকে সমস্ত বিধি-বিধান ভেঙে পাঁচ লাখ টাকা বানিয়ে নেন।
এমন ঘটনা এটুআইয়ের ৯০ শতাংশ কনসালট্যান্ট, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেলায়ই ঘটেছে।
ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবাকে মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে একে সহজ ও স্বচ্ছ করতে এটুআই প্রকল্প চালু করে সরকার। এই প্রকল্প মূলত গতবারের বিএনপি সরকারের একেবারে শেষ সময়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে শুরু হয়। পরে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার এটিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আইসিটি বিভাগে হস্তান্তর করে।
দেশের আইসিটি বিষয়ক বেশির ভাগ ই-গভর্ন্যান্স উদ্যোগ এটুআইয়ের মাধ্যমে নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে এটি প্রকল্প থেকে এটুআই এজেন্সিতে উন্নীত করা হয়, কিন্তু সেটা কার্যকর হয়নি। এটি এখনো প্রকল্প আকারেই চলছে এবং আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।
যেভাবে মব শুরু :
ফাহিম আবদুল্লাহ। একসময় ছিলেন এটুআই ই-ফাইলিং সিস্টেমের একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে ২০২৩ সালে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অদক্ষতার অভিযোগে তাকে এটুআই থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সকালে একদল বহিরাগত অনুসারী নিয়ে এটুআই কার্যালয়ে হাজির হন ফাহিম। একবার প্রকল্প পরিচালক, আরেকবার যুগ্ম প্রকল্প পরিচালকের কক্ষে গিয়ে নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকেন। একসময় ফাহিম এই বলে চিৎকার করতে থাকেন, তাকে চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে। পরে ফাহিম নিজেকে এটুআইয়ের হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট বলে ঘোষণা করতে থাকেন।
এটুআইয়ের সাবেক এক কনসালট্যান্ট বলেন, ‘প্রথম দিনের মবে যখন কাজ হয়নি, তখন আবারও ওই বছরের ৮ আগস্ট এটুআই কার্যালয়ে আসেন ফাহিমের অনুসারীরা। সেদিনও একই স্টাইলে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন তারা। এ সময় ফাহিম না এসে তার সাবেক কর্মস্থল কোডেস্ক সফটওয়্যার সলিউশন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তালহা ইবনে আলাউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন ‘মববাজ’কে পাঠান। তারা নানা উপায়ে এটুআইয়ের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. মামুনুর রশিদ ভূঁইয়াকে চাপ দিতে থাকেন। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত আইসিটি সেক্টরের নিয়ন্ত্রণ এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ এবং ছাত্রশক্তির নেতা আবু বাকের মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলেও জানান এই কনসালট্যান্ট।
১৪ কর্মকর্তা-কনসালট্যান্ট যেভাবে বাদ :
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কিছুদিন পর আবারও সক্রিয় হয় মববাজ চক্রটি। ভুক্তভোগী ওই কনসালট্যান্ট আরও জানান, পুরো ঘটনা খুব সূক্ষ্মভাবে সাজানো হয়েছিল। নামহীন ফেসবুক পেজে দেওয়া মনগড়া অভিযোগের ভিত্তিতে চলে তদন্ত, চাপ দেওয়া হয় বিভিন্ন দপ্তর থেকে।
এই প্রতিবেদকের হাতে আসা ২০২৪ সালের ২০ আগস্টের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বর্তমান ডাকসু নেতা মোসাদ্দেক আলীসহ ১০-১২ জনের একটি দল চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব মামুনুর রশীদকে। পরে জানা যায়, ওই মবের নেতৃত্বে ছিলেন তালহা ইবনে আলাউদ্দীন নামের এক ছাত্রনেতা। তখন অতিরিক্ত সচিব পরিস্থিতি শান্ত করে বলেন, ‘তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ওই দিনই এটুআইয়ের ১৪ জন কর্মকর্তা-কনসালট্যান্টকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার কথা জানানো হয়। এমনকি তাদের দেওয়া হয়নি কোনো লিখিত চিঠিও। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বলা হয়, ‘সবাই বের হয়ে যাও।’
ওই দিন এটুআই প্রোগ্রামের যেসব কর্মকর্তা-কনসালট্যান্টকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়, তারা হলেন—পলিসি অ্যাডভাইজার আনির চৌধুরী, ই-গভর্নমেন্ট এনালিস্ট মো. ফরহাদ জাহিদ শেখ, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট মো. মাজেদুল ইসলাম, এইচডি মিডিয়ার প্রজেক্ট এনালিস্ট পূরবী মতিন, টেকনোলজি এনালিস্ট মো. হাফিজুর রহমান, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট মানিক মাহমুদ, রিসোর্স মবিলাইজেশন স্পেশালিস্ট মো. নাসের মিয়া, ডিএফএস স্পেশালিস্ট মো. তহুরুল হাসান, সলিউশন আর্কিটেকচার স্পেশালিস্ট রেজওয়ানুল হক জামী, এসপিএসের সিনিয়র কনসালট্যান্ট এইচ এম আসাদ-উজ্জামান, ই-নথি ইমপ্লিমেন্টেশন এক্সপার্ট এ টি এম আল ফাত্তাহ, সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার তানভীর কাদের ইমন, অ্যাডমিনের কনসালট্যান্ট মো. ওমর ফারুক এবং প্রকিউরমেন্টের সিনিয়র কনসালট্যান্ট মো. সালাউদ্দিন।
নিয়োগে নেই নিয়মের বালাই :
নিজেকে হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ঘোষণা করা মব সন্ত্রাসের সেই মূল চরিত্র ফাহিম আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর নাটকীয়ভাবে আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান এটুআইতে। কোনো ধরনের দক্ষতা কিংবা অভিজ্ঞতা না থাকলেও বিধিবহির্ভূতভাবে একজন সামান্য সাধারণ সহকারী থেকে ‘প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট হেড’ বনে যান ফাহিম। সে সময় বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনাও হয়। তবে কেউ মুখ ফুটে কিছু বলার সাহস পাননি। জানা যায়, নামমাত্র কয়েকটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে তড়িঘড়ি নিয়োগ দেওয়া হয় ফাহিমকে। এটুআইয়ের সংশোধিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্প প্রস্তাব (আরটিএপিপি) অনুযায়ী, হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে অন্তত আট বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। একই সঙ্গে কমপক্ষে চার বছরের প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অভিজ্ঞতা থাকাও বাধ্যতামূলক। কিন্তু ২০১৬ সালে শুরু হওয়া ফাহিমের ক্যারিয়ারে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অভিজ্ঞতা দাঁড়ায় আট বছর। এর সঙ্গে আবার প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের কোনো সম্পর্ক নেই।
ফাহিমের এই মবতন্ত্রে কপাল খোলে তার আরও কিছু ঘনিষ্ঠ সহযোগীর। এর মধ্যে প্রধান ভূমিকায় ছিলেন ফাহিমের বর্তমান ব্যক্তিগত কনসালট্যান্ট মাজেদুল আলম (মাহি), যার প্রমাণ মেলে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ফাহিম আবদুল্লার দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্টে। ওই পোস্টে এটুআইয়ের ভেতরকার একটি গ্রুপ ছবি দিয়ে ফাহিম লিখেছেন, ‘সম্মানিত প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জনাব মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া, অপারেশন প্রধান, এইচআর প্রধান এবং অন্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ই-নথি পরিবারের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা।’ মাহি ওরফে মাজেদুল আলমকে ইঙ্গিত করে ফাহিম লেখেন, ‘মাস্টারমাইন্ড মাহিকে খুব মিস করছি!!’
বেতন বাড়ে ছয় গুণ :
এটুআইয়ের কিছু অভ্যন্তরীণ নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কোনো ধরনের দাপ্তরিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ফাহিম ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা নিজেদের বেতন কয়েক গুণ করে বাড়িয়ে নিয়েছেন। ফাহিমের ক্ষেত্রে এটি যেন ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হওয়ার মতো ঘটনা। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসের পে-স্লিপে দেখা যায়, ফাহিমের বেতন ৭০ হাজার টাকা। পাঁচ আগস্টের পর কয়েক ধাপে বেড়েছে। প্রথম ধাপে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি চার লাখ এবং পরের ধাপে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির চুক্তিতে পাঁচ লাখ টাকা করা হয়েছে ফাহিমের বেতন। এদিকে একই চিত্র দেখা গেছে তার সহযোগী এবং মাস্টারমাইন্ড মাজেদুল আলম মাহির ক্ষেত্রেও। ৭০ হাজার টাকা বেতনের মাজেদুল এখন কনসালট্যান্ট পদে মাসে প্রায় তিন লাখ টাকা বেতন কামাচ্ছেন। ফাহিমের আরেক ঘনিষ্ঠ আরিফুর রহমানের বেতন আগের কনসালট্যান্ট পদে দুই লাখ থেকে বেড়ে এখন সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদে সাড়ে চার লাখ টাকা হয়েছে। জুনিয়র কনসালট্যান্ট শারমিন ফেরদৌসির বেতন এক লাখ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে দুই লাখ ১০ হাজার টাকা। জুনিয়ার কনসালট্যান্ট নাহিদ আলমের এক লাখ ৮০ হাজারের বেতন ২০২৪ সালের অক্টোবরে বেড়ে হয় সাড়ে তিন লাখ টাকা, পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে সিনিয়র কনসালট্যান্ট হয়ে এখন পাচ্ছেন সাড়ে চার লাখ টাকা।
জাতিসংঘের তদন্ত :
এক পর্যায়ে এটুআইয়ের সঙ্গে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে মব করে কর্মকর্তা-কনসালট্যান্টদের অপসারণ ঘটনার জেরে একটি আনুষ্ঠানিক নোট ভার্বাল পাঠায় ইউএনডিপি। এতে বলা হয়, যারা ন্যাশনাল পার্সোনাল সার্ভিসেস অ্যাগ্রিমেন্ট চুক্তির অধীনে ইউএনডিপির কর্মী হিসেবে কাজ করছেন, তারা বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি কর্মচারী নন। তাদের নিয়োগ ও কার্যক্রম ইউএনডিপির নীতিমালা ও জাতিসংঘের প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই নোটটি দেওয়া হয় এটুআই প্রকল্প থেকে বাদ পড়া ইউএনডিপির অধীন ৯ জন কর্মকর্তা-কনসালট্যান্টের জন্য।
২০২৫ সালের জুনে নিউইয়র্ক থেকে ইউএনডিপির তদারকি ও তদন্তকারী দপ্তর অডিট ও ইনভেস্টিগেশনস (ওএআই) অফিস এই অভিযোগের তদন্ত করতে আসে। ওই বছরেরই ১১ আগস্ট ইউএনডিপির সেই কর্মকর্তাদের সাবিনা ব্লাসকোভিচ, ডেপুটি ডিরেক্টর, তদন্ত প্রধান, অফিস অব অডিট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশনসের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয়। যেখানে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, ‘অভিযোগগুলোর মূল্যায়নের সময় সংগৃহীত তথ্যসমূহ সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করার পর, ওএআই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কনসালট্যান্টদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি নেই।
ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ক মামলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওই দপ্তর অভিযোগের বিষয়টিকে সমাপ্ত বলে বিবেচনা করছে।
অফিসে ফাহিমের দাপট :
মব করে লোভনীয় পদ বাগিয়েই ক্ষান্ত নন, বরং এটুআই কার্যালয়েও একচ্ছত্র অধিপত্য গড়ে তুলেছেন ফাহিম আবদুল্লাহ। কোনো ধরনের নিয়ম না মেনে অবৈধ পন্থায় সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন তিনি (গাড়ির নম্বর : ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৩০৬৫৯)। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করতে পরিচয় গোপন করে আমরা কথা বলি গাড়ির চালক মো. সালাউদ্দিনের সঙ্গে। ফাহিমের সরকারি গাড়ি ব্যবহারের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জি গাড়ি আমিই চালাই। আমিই তার সরকারি গাড়ির ড্রাইভার।’ জানতে চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করে ফাহিম দাবি করেন, ড্রাইভার তার বাসার পাশে থাকায় প্রতিদিন আসা-যাওয়া তার সঙ্গেই হয়। সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ দাবি মিথ্যা ও বানোয়াট।’
উল্লেখ্য, এটুআই প্রকল্পে জোর করে অনির চৌধুরীকে (যিনি তৎকালীন পলিসি অ্যাডভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন) বাদ দিয়ে ফয়েজ তৈয়বকে পলিসি অ্যাডভাইজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া সম্প্রতি চুক্তি বাতিল করা এই ফয়েজ তৈয়বই পরে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় পদায়িত হন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে ফাহিম আবদুল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে এই প্রকল্পে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে অনেককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণ করা সেই সিন্ডিকেটটি আমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পেয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণের জন্য এসব নিউজ করাচ্ছে।’ মব করে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মব এবং আমার নিয়োগ দুটি পুরোপুরি ভিন্ন ঘটনা। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে প্রেশার গ্রুপ বলেন বা মব বলেন, ‘এ রকম অনেক কিছুই এসেছিল। কিন্তু এগুলোর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। ৫ আগস্টেরও দেড় মাস পর যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া মেনেই আমার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।’
প্রকল্প পরিচালক বলেন :
এসব নিয়োগ ও বেতন বাড়ানোর সময় প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে থাকা মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব। মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে এটুআই প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবদুর রফিক বলেন, ‘সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। আমি এখনই কিছু বলতে পারব না। আমরা তদন্ত করব এবং তদন্তে সত্যতা পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত