মো: মাসুম বিল্লাহ খুলনাঃ
খুলনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পের শিক্ষক ও কেয়ারটেকার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শুরু করে প্রার্থীর সনদ জালিয়াতি এবং কর্মকর্তাদের অনৈতিক তদবিরের ঘটনায় সাধারণ পরীক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই খুলনা জেলা প্রশাসককে (ডিসি) অবহিত করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের নেপথ্যে সিন্ডিকেট!
অভিযোগ উঠেছে, গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে খুলনা জেলা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত সহজ কোরআন শিক্ষক, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক এবং সাধারণ কেয়ারটেকার পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগেই ফাঁস করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষার্থীর কাছে প্রশ্ন পৌঁছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই চক্রের হোতা হিসেবে খুলনা জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার মো: তৌহিদুল ইসলাম, মোঃ মহসিন শেখ, সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজার এবং অফিস সহকারী (পিয়ন) শিলা-র নাম উঠে এসেছে। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের দাবি, পরীক্ষার হলে কিছু প্রার্থীর আচরণে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল যে তারা আগে থেকেই প্রশ্ন সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের 'পুরানো আমলনামা' তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ফিল্ড অফিসার মোঃ তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। অন্য অভিযুক্ত ফিল্ড অফিসার মো: মহসিন শেখের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে তেরখাদা উপজেলায় দায়িত্বরত অবস্থায় যাকাতের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এছাড়া অফিসের পিয়ন শিলার বিরুদ্ধে পদের সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে প্রশাসনিক কাজে খবরদারি ও নিয়োগ বাণিজ্যে মধ্যস্থতার অভিযোগ উঠেছে।
জালিয়াতি ও মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কেয়ারটেকারদের সনদ যাচাই-বাছাইকালে বটিয়াঘাটার আমেরপুর ইউনিয়নের সাধারণ কেয়ারটেকার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির খান-এর সনদ জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: আখতার হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে ফাইল নোট প্রদান করেন এবং অভিযুক্তের বকেয়া বেতন-ভাতা ফেরতসহ বিভাগীয় মামলার নির্দেশ দেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই জালিয়াতির সংবাদ যাতে গণমাধ্যমে না আসে, সেজন্য ফিল্ড সুপারভাইজার তৌহিদুর ইসলাম সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, নিউজ না হলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা যাবে, নিউজ হলে কিছু করা সম্ভব হবে না। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন বক্তব্য নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের দুর্নীতির আলামত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের অবস্থান এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক লিখিত বক্তব্য পাওয়া না গেলেও প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম ও জালিয়াতির বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারের মতো সংবেদনশীল প্রকল্পে এমন জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সাধারণ মানুষের আস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত