আলাউদ্দিন কবির, রংপুরঃ
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির (ভিজিএফ) আওতায় রংপুরের চন্দনপাট ইউনিয়নে চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত দুস্থরা চাল না পেলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিজস্ব বলয়ের লোকজনের হাতে স্লিপ তুলে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
গত ১৩ মার্চ ২০২৬ইং, রংপুর সদর উপজেলার ৩নং চন্দনপাট ইউনিয়নে ৩,১৫০টি পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে মোট ৩০.৫০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সাইফুল ইসলাম এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: মমিনুল ইসলাম, ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য তাজুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উদ্বোধনকালে ইউএনও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও মাঠপর্যায়ে চিত্র ছিল ভিন্ন। স্থানীয় সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিতরণ কমিটিতে 'ছাত্র প্রতিনিধি' পরিচয়ে হযরত আলী ও ফারুক নামে দুজনকে অন্তর্ভুক্ত করেন। অভিযোগ উঠেছে, বিধি বহির্ভূতভাবে তাদের হাতেই ৯০টি স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া অবশিষ্ট স্লিপগুলোও সাধারণ মানুষের পরিবর্তে নিজেদের অনুসারীদের মধ্যে ভাগাভাগি করে বিতরণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বঞ্চিত পরিবারগুলোর দাবি, চাল এখন আর সহায়তার মাধ্যম নেই, বরং তাজুল ইসলামের ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, গত বছরও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠলেও কোনো তদন্ত ছাড়াই তাকে আবারও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে তৎকালীন চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান অংশগ্রহণ করায় পদটি শূন্য হয় এবং ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। তিনি ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এবং চেয়ারম্যানের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও রহস্যজনকভাবে তিনি পদটি আঁকড়ে ধরে আছেন।
উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের চারটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও ৩নং চন্দনপাটে তাজুল ইসলাম বহাল তবিয়তে আছেন। তার বিরুদ্ধে নাগরিক সেবায় অতিরিক্ত ফি আদায় এবং কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতেরও দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। চন্দনপাট ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে কার্ড বণ্টনের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। দরিদ্রের প্রাপ্য নিয়ে এমন 'ছিনিমিনি' খেলা বন্ধ না হলে সাধারণ মানুষ বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত