স্টাফ রিপোর্টার॥
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম গ্রামের শান্ত ছেলে মোহাম্মদ হাসান ফয়সাল। স্বপ্ন ছিল পুলিশে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করবেন। ২০২৩ ও ২০২৪— টানা দুই বছর পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সব কটি ধাপে (লিখিত, ভাইভা, মেডিক্যাল ও ফিটনেস) সফলভাবে উত্তীর্ণ হন তিনি। কিন্তু মেধাতালিকায় নাম থাকার পরও রহস্যজনক কারণে নিয়োগপত্র মেলেনি তার। অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নানের কারণে রাজনৈতিক বলির পাঠা হতে হয়েছে মোহাম্মদ হাসান ফয়সালকে। পিতা বিএনপি সমর্থক তকমা লাগিয়ে ফয়সালকে চাকুরি থেকে বঞ্চিত করা হয় বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ২০২৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোহাম্মদ হাসান ফয়সাল সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের তৎকালীন অতিরিক্ত ডিআইজি (আর এন্ড সিপি) তার নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন কুমিল্লার পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান তাকে নিয়োগ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফয়সাল হাল না ছেড়ে আবারও পরীক্ষায় বসেন। বিস্ময়করভাবে তিনি আবারও সব পরীক্ষায় সেরা তালিকায় স্থান অর্জন করেন। কিন্তু তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান তাকে নিয়োগ প্রদান থেকে বঞ্চিত করেন। একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে দুইবার এমন ঘটনা ঘটার বিষয়টিকে ‘স্পষ্ট অনিয়ম’হিসেবে বলা যায়। মোহাম্মদ হাসান ফয়সাল বলেন, "আমি সব পরীক্ষায় পাস করেছি, আমার কোনো অপরাধ নেই। শুধু রাজনৈতিক তকমা দিয়ে আমার স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।"
তদন্তের মুখে এক লাখ কনস্টেবল নিয়োগ এদিকে, পুলিশ সদর দপ্তর গত এক দশকে (২০১৪ সাল থেকেন ২০২৪) সালে নিয়োগ পাওয়া প্রায় এক লাখ কনস্টেবলের নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত আদেশে ৬৪ জেলার এসপিদের নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি এখন খতিয়ে দেখবে, কতজন যোগ্য প্রার্থীকে হাসান ফয়সালের মতো বাদ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে কতজন অযোগ্য ব্যক্তি বাহিনীতে ঢুকেছে, নিয়োগের ক্ষেত্রে তৎকালীন এসপি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা কী ছিল? পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "হাসান ফয়সালের মতো যারা বারবার বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে। আমাদের কাছে তথ্য আছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ডিআইজি পর্যায় থেকে নির্দেশনা থাকলেও স্থানীয় এসপিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার মোকাম গ্রামের বাসিন্দাদের মতে, ফয়সালের পরিবার কোনো ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। তার বাবা আবুল হোসেন একজন বিএনপির সমর্থক, এলাকাবাসী মনে করেন, এই মেধাবী তরুণের ওপর যে অবিচার করা হয়েছে, তা বর্তমান সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ায় অবশ্যই সংশোধন করা উচিত। ইতি-মধ্যেই ১৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই তদন্ত প্রক্রিয়া জেলা পর্যায়ে গতি পেয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়লে হাসান ফয়সালের মতো বঞ্চিতদের নিয়োগের পথ সুগম হতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।
ইতি-মধ্যেই মোহাম্মদ হাসান ফয়সাল প্রধানমন্ত্রীর নিকট তাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে এবং এই নিয়োগ না দেওয়ার পেছনে যারা জড়িতদের, আইনের আওতায় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত