তারিখ লোড হচ্ছে...

খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন: আগামীকাল দেশব্যাপী স্বেচ্ছাসেবক দলের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল সিন্ডিকেটের নেপথ্যে ‘মিস্টার ৫%’: গণপূর্তের আবুল খায়েরের দুর্নীতি ও সম্পদের পাহাড় একটি প্ল্যাটফর্ম, একাধিক সেবা-রংপুর ডায়েরির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুলেই আস্থা বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল দুইশর আগেই অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করল বাংলাদেশ অপসাংবাদিকতার ভিড়ে বিবেকের সংকট: আমার অভিজ্ঞতার নির্মম সত্য আরাফাত রহমান কোকোর কবরে স্বেচ্ছাসেবক দলের শ্রদ্ধা ডিসি-এসপি পদায়নের নামে কোটি টাকার প্রতারণা, টার্গেট সরকারি কর্মকর্তারা ফেঁসে গেলেন প্রকৌশলী বদরুল আলম খান বিশেষ অভিযানে ৮ গ্রাম হেরোইন ও ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ নারায়ণগঞ্জে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ‎ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পি এসের কক্ষে বসাকে কেন্দ্র করে পিয়ন সুমনকে শোকজ সুশৃঙ্খল সড়ক ও মোটরযান ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ... পাবনায় প্রতারণা মামলা: যশোরের মামুন হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা কুমিল্লা দাউদকান্দি থানার সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক, শ্রেষ্ঠ ওসি পলাশ বাড়ছে বৃষ্টির প্রবণতা, বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণের শঙ্কা বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী দল ঘোষণা জনগণ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে : প্রধানমন্ত্রী সাবেক নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ’র ঘনিষ্ঠ সহচর দুর্নীতিবাজ সাইদুর কি আইনের উর্ধ্বে? সালমান-শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন প্রয়াত অভিনেতার মা   ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পদে বড় রদবদল রাজধানীতে ডিএমপি নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪ গোল্ডেন শু’র মালিক আবারও হ্যারি কেইন দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : জাতীয় সংসদে প্রস্তুতিমূলক সভা রামগড়ে মোবাইল কোর্টের অভিযানে বাল্যবিবাহ বন্ধ ও জরিমানা সুনামগঞ্জের নবীনগর এলাকায় পুলিশের অভিযানে ভারতীয় মদসহ ২ জন আটক গোয়েন্দা সংস্থার পদক্ষেপ জরুরী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আমলা ও গুপ্ত সিন্ডিকেটের নানামুখি চক্রান্ত: কাশিয়ানীতে একযোগে আওয়ামী লীগের ১০ নেতার পদত্যাগ জামিনে মুক্তি পাওয়াদের বরণ করতে গিয়ে ফুলের মালাসহ আ.লীগের ৪ নেতাকর্মী আটক সৌদিতে আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকান্ডে নাটোরে নলডাঙ্গার ৩ প্রবাসী নিহত  বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম ৩১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতি ফেডারেশনের নির্বাচন ২৮ আগস্ট সৌদি আরবে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১০ বাংলাদেশি নিহত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়, চুরির অপবাদ দিয়ে শ্লীলতাহানি পাবনায় ব্যাংক হামলার পর সাংবাদিক নির্যাতন, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত লোকমান মেম্বারের বিরুদ্ধে একের পর এক... কপ-৩১: প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের পথে, তুরস্কে জলবায়ু কূটনীতির নতুন পরীক্ষা ফায়ার সার্ভিস এর অবৈধ নিয়োগ ও বদলী বানিজ্য সহ হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামী এবং ওয়ার হাউস থেকে দূর্নীত... জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেফতার ডন, পানির নিচের গ্যাস পাইপে লিকেজ, নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরে সরবরাহ বন্ধ সাতক্ষীরা ছাত্রদলের উপর হামলা,জেলা সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের কঠোর হুশিয়ারি ‎সুশৃঙ্খল সড়ক ও মোটরযান ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সুনামগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ৮১ সদস্য বিশিষ্ঠ পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন সাতক্ষীরায় রাস্তা উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব খাগড়াছড়িতে প্রমিলা কাপ ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন যে জাল থেকে রেহাই পাচ্ছে না জল জীবনের কেউ-নলডাঙ্গায় প্রসাশনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে পোনা মাছ নিধনের মহো...

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে লুটপাটের নায়ক ৫ কোটিতে সোহরাওয়ার্দীর পরিচালক

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে লুটপাটের নায়ক ৫ কোটিতে সোহরাওয়ার্দীর পরিচালক
পাঠক সংখ্যা
638

সবুজ বাংলাদেশ ডেস্ক॥

করোনাকালে আওয়ামীপন্থি স্বাচিব নেতা ডা. মোহাম্মদ সেহাব উদ্দীন কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদে থেকে দুর্নীতি ও লুটপাটে রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শ্যালক জাকারিয়া ও ভাগ্নে মহিউদ্দিনের মাধ্যমে এই সেহাব উদ্দীন চিকিৎসা সামগ্রী কেনাকাটায় প্রকৃত দামের চেয়ে বহুগুণ বেশি দাম দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। সেই সময় শীর্ষকাগজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার দুর্নীতি-লুটপাট ও অর্থ আত্মসাতের ধারাবাহিক খবর প্রকাশিত হয়। গত বছরের আগস্ট মাসে ইএনটি হাসপাতালের উপপরিচালক পদ থেকে সেহাব উদ্দীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমকে ৫ কোটি টাকা দিয়ে বাগিয়ে নেন রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালকের পদ। এখানে এসেই তিনি নিজের ভাগিনার নেতৃত্বে নতুন করে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। আউটসোর্সিংসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি শুরু করেন। সর্বশেষ তিনি ৩৬টি প্যাকেজে প্রায় ৩০ কোটি টাকার কেনাকাটার আহ্বান করেছেন। নানা রকমের জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে এই কাজ নিজের গড়া সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করার পাঁয়তারা করছেন। এর মাধ্যমে হাতিয়ে নেবেন বড় অংকের টাকা, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেসরকারি একটি হাসপাতালের চিকিৎসক বোরহানকে পরিচালক সেহাব উদ্দীনের আপন ভাগিনা হিসেবেই জানেন সোহরাওয়ার্দী হাসাপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এই বোরহানের মাধ্যমেই অপকর্মের কাজগুলো করে থাকেন সেহাব উদ্দীন। এই সিন্ডিকেটে রয়েছেন ঠিকাদার মাসুদ এবং মোমিন। সেহাব উদ্দীন যখন গত বছরের আগস্টে সোহরাওয়ার্দীর পরিচালক পদে আসেন ওই সময় এ হাসপাতালটিতে ভারী যন্ত্রপাতি খাতে ১ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ভাগিনা ডা. বোরহানের নেতৃত্বে গড়ে উঠা সিন্ডিকেটের মধ্যেই ১ কোটি টাকার কেনাকাটা হয়।

টেন্ডার কারসাজির মাধ্যমে সিন্ডিকেটের সদস্য, তামাম করপোরেশনকে কাজ দেওয়া হয়। ভারী যন্ত্রপাতির তালিকায় ঢুকানো হয় এমএসআর মালামাল। এছাড়া আউটসোর্সিং ঠিকাদারের কাছ থেকে প্রতি মাসেই একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা নেন ডা. সেহাব। চলতি অর্থবছরের পুরো বরাদ্দের কেনাকাটার জন্য সর্বশেষ তিনি ৩৬টি প্যাকেজে প্রায় ৩০ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করেছেন। এমনভাবে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে যাতে ডা. সেহাবের পছন্দের ঠিকাদার ছাড়া অন্য কেউ কাজ না পায়। যেমন, টেন্ডারের একটি প্যাকেজে ভারতীয় মেরিলের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে যুক্তরাজ্যের এথিকন কোম্পানির স্ট্যাপলার, যা একেবারেই অস্বাভাবিক। কোন প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেবেন, তা তিনি আগেই ঠিক করে রেখেছেন। হাসপাতালটিতে বেশকিছু ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার যন্ত্র আগে থেকেই আছে। এগুলো হলো- বায়োটেক, ট্রেডসওয়ার্থ, এবিসি, সিক্স মেক্স প্রভৃতি। ড. সেহাব উদ্দিন এই হাসপাতালে আসার পর নতুন আরও কয়েকটি একই ধরনের পরীক্ষা যন্ত্র সরবরাহ নিয়েছেন। এগুলো হলো হেলথ কেয়ার, হোরিবা এবং ওএমসি। এই পরীক্ষা যন্ত্রগুলো কেনা লাগে না, সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বিনামূল্যেই সরবরাহ দেয়। আসল ঘাপলা হলো কেমিক্যাল নিয়ে। যন্ত্র ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকেই কেমিক্যাল নিতে হবে। এবং এই কেমিক্যালের দাম ধরা হয়ে থাকে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেকগুণ বেশি। আগের যেসব পরীক্ষা যন্ত্র সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আছে, ওই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ড. সেহাবের তেমন একটা বোঝাপড়া হচ্ছিল না তাই তিনি নতুন যন্ত্র সরবরাহ নিয়েছেন।

এদিকে অন্য যেসব চিকিৎসা যন্ত্র মেরামতের প্রয়োজন এগুলোর কার্যাদেশ কোন প্রতিষ্ঠানকে দেবেন তাও তিনি আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। চিকিৎসা যন্ত্র মেরামতের সরকারি প্রতিষ্ঠান, নেমিউ (ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ এন্ড ট্রেনিং সেন্টার) এর মাধ্যমে মেরামত না করিয়ে নিজের সিন্ডিকেটের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তামাম কর্পোরেশনকে কাজটি দেবেন বলে ঠিক করে রেখেছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তৈরি করে রেখেছেন।

কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পদে ছিলেন স্বাচিপ নেতা ডা. মোহাম্মদ সেহাব উদ্দীন। প্রতিষ্ঠানটিতে এক রকমের রামরাজত্ব কায়েম করেন তিনি। করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে সরকার এ হাসপাতালটিকে করোনা চিকিৎসার কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে। আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের ভাগ্নে এবং শ্যালককে সঙ্গে নিয়ে ব্যাপকহারে লুটপাট চালিয়ে যান। এ নিয়ে গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে খবর প্রকাশ ছাড়াও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, দুদকসহ বিভিন্ন মহলে লিখিত অভিযোগও গেছে। কিন্তু তারপরও সেহাব উদ্দীনের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি, যেহেতু তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী স্বাচিপ নেতা।

২০১৯-২০ অর্থবছরে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেহাব উদ্দীন শ্যালক জাকারিয়া এবং ভাগ্নে মহিউদ্দিনের মাধ্যমে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স বানিয়ে নিজেই কেনাকাটা করেন। কোনো কোনোটি ক্রয়ে দেখিয়েছেন সাত, আট গুণ, এমনকি দশ গুণ বেশি দামেও। তাও অত্যন্ত নিম্নমানের চিকিৎসা সামগ্রী। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে মালামাল সরবরাহ না করেই বিল তোলার অভিযোগও আছে। করোনা শুরুর পর্যায়ে এ রকমের ১২ কোটি ১০ লাখ ৬৫ হাজার ৯শ’ টাকার কেনাকাটা করা হয় মেসার্স আলী ট্রেডার্স এবং জি এম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল- এই দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে। এর একটির মালিক জনৈক আলমগীর। তবে এই প্রতিষ্ঠানটির প্যাড ব্যবহার করে কার্যাদেশ নিয়েছেন ডা. সেহাবের শ্যালক জাকারিয়া, অপর প্রতিষ্ঠানটি ভাগ্নে মহিউদ্দিনের। কিন্তু এই দুটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্সে যে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে সরেজমিনে সেইসব ঠিকানায় এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবাক ব্যাপার হলো ভুয়া, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন দফায় ওই সময় মোট ১২ কোটি ১০ লাখ ৬৫ হাজার ৯শ’ টাকার বিল পরিশোধ করা হলেও এর বিপরীতে সরবরাহ নেয়া যন্ত্রপাতির বাজার মূল্য ২ কোটি টাকার বেশি নয়। অর্থাৎ ১২ কোটি টাকার কেনাকাটায় তখন ১০ কোটি টাকাই আত্মসাৎ করা হয়।

মেসার্স আলী ট্রেডার্সকে ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ বিল পরিশোধ করা হয় ৮ কোটি ৯০ লাখ ৪৯ হাজার ২শ’ ৫০ টাকা, অন্যদিকে একই সময়ে জি এম ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে এমএসআর ক্রয় বাবদ বিল পরিশোধ করা হয় ৩ কোটি ২০ লাখ ১৬ হাজার ৬৫০ টাকা। কিন্তু জিএম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কোনো এমএসআর সামগ্রী সরবরাহ না করেই পুরো বিল তুলে নেয়। মেসার্স আলী ট্রেডার্সের প্যাডে কার্যাদেশ নিয়েছেন ডা. সেহাবের শ্যালক জাকারিয়া। তাকে ৮ কোটি ৯০ লাখ ৪৯ হাজার ২শ’ ৫০ টাকার বিল পরিশোধ করা হলেও সরবরাহ নেয়া যন্ত্রপাতির মূল্য ২ কোটি টাকার বেশি নয়। আদতে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স বানিয়ে ডা. সেহাব উদ্দিন নিজেই বিভিন্ন নামে ব্যবসা করেছেন। এক্ষেত্রে কাজে লাগিয়েছেন শ্যালক জাকারিয়া ও ভাগ্নে মহিউদ্দিনকে।

শুধু যন্ত্রপাতি বা এমএসআর কেনাকাটায়ই নয়;
ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা-খাওয়ার বিল পরিশোধের নামেও ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছেন। হাসপাতালের পরিচালক না থাকায় ওই সময় ডা. সেহাব উদ্দিন হাসপাতালে করোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা-খাওয়া নিয়ে বিতর্কিত রিজেন্টের সাহেদের সঙ্গে কয়েকগুণ বেশি দামে চুক্তি করেন। অভিযোগ রয়েছে নার্সদের নিম্নমানের খাবার দেয়ারও। যেখান থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন ডা. সেহাব। আর ডা. সেহাবের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামানকে ওই সময় শাস্তিমূলক বদলি করা হয় বাগেরহাট সিভিল সার্জন অফিসে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে এমন দুর্নীতির ঘটনা ঘটলেও এর পরের বার অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে দুর্নীতি আরো বাড়ে, বহুমাত্রিক রূপ নেয়। শীর্ষ কাগজের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, পরের এই অর্থবছরে হাসপাতালের এমএসআর ও ভারী যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় কোনোই আইন-কানুন, বিধি-বিধানের তোয়াক্কা করা হয়নি। ৪টি লটের প্রত্যেটিতেই সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। যা সর্বনিম্ন দরদাতার চেয়ে ৯/১০ গুণ বেশি। এসব কার্যাদেশ দেয়া হয় রাজু এন্টারপ্রাইজের নামে, ডা. সেহাব উদ্দীনের শ্যালক জাকারিয়াকে। এছাড়া আগের বছরেরও ভুয়া বকেয়া বিলসহ মোট ১৪ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে তুলে নেয়া হয় ২০২০-২১ অর্থবছরে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি যে মালামাল সরবরাহ করেছে তার বাজারমূল্য মাত্র ২ কোটি ৮২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক্ষেত্রে আত্মসাত করা হয়েছে ১১ কোটি ১৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, মালামাল সরবরাহের আগেই পুরো ১৪ কোটি টাকা তুলে নেয়া হয়।

রাজু এন্টারপ্রাইজের মূল যে মালিক, তার গ্রামের বাড়ি ডা. সেহাব উদ্দিনের নিজ এলাকা ফেনীতে। শ্যালক জাকারিয়াকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করে কাজটি দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র রাজু এন্টারপ্রাইজের প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু মালামাল সরবরাহ ও বিল তুলে নেয়াসহ সবকিছুই করেছেন জাকারিয়া। নানারকমের জাল-জালিয়াতি ও অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়। পূর্ব থেকেই পরিকল্পিতভাবে মেসার্স রাজু এন্টারপ্রাইজের ইচ্ছে অনুযায়ী স্পেসিফিকেশন সেট করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। টেন্ডার ওপেনিং ও মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয় নামেমাত্র। বাস্তবে ডা. সেহাব উদ্দিন যা চেয়েছেন, সেটিই হয়েছে। কোনো রকমের যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই দরপত্রে অংশ নেয়া নিম্ন দরদাতাদের নন-রেস্পন্সিভ করে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়া হয়।

এমন ব্যাপক দুর্নীতি-লুটপাটের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মহলে এ নিয়ে তোলপাড় হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু তিনি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ- স্বাচিপের শীর্ষ নেতাদের দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে ওই তদন্ত থামিয়ে দেন। এরপর তার বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে তিনি এতোটা বিতর্কিত হয়ে পড়েন যে, তাকে কুয়েত মৈত্রি হাসপাতালেও আর রাখা যায়নি। বদলি করা হয় ইএনটি হাসপাতালে। এখানেই ঘাপটি মেরে থাকেন শীর্ষ দুর্নীতিবাজ ড. সেহাব উদ্দীন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ড. ইউনূসের স্বজনপ্রীতি কোটায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হওয়া দুর্নীতিবাজ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে ম্যানেজ করে দেশের অন্যতম চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক পদ বাগিয়ে নেন ডা. সেহাব উদ্দীন। পদটি বিক্রি হয় ৫ কোটি টাকায়। এই টাকা লেনদেন হয় বিদেশে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: শীর্ষনিউজ

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি পুনর্গঠন

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (জেবস) এর কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। সোমবার রাজধানীতে সংগঠনের সভাপতি মো. রিয়াজুর রহমান রিয়াজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন দরবেশের সঞ্চালনায় এক বিশেষ সভায় বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (জেবস) এর কার্যকরী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, সচিবালয়ের অভ্যন্তরে যারা দীর্ঘ বছর সাংবাদিকতার আড়ালে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনে ব্যস্ত ছিল, তাদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের ঐ দোসররা যাতে ভোল পাল্টিয়ে কোনোক্রমেই আবারও বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সর্বদা সজাগ ও ঐক্যমত থাকার আহ্বান জানানো হয়। সভায় নবগঠিত কমিটির সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, নতুনরূপে আত্মপ্রকাশ ও অতিবিপ্লব তৈরির চেষ্টা করছে ঘাপটি মেরে থাকা পতিত স্বৈরশাসকের দোসররা। তাদের বিষয়েও সবাইকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। সভায় জেবস নেতৃবৃন্দ সচিবালয় বিটে কর্মরত প্রকৃত

আরও পড়ুন
language Change