তারিখ লোড হচ্ছে...

ই-পেপার

শিরোনাম
দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় তরমুজের বাম্পার ফলনের হাতছানি কালিগঞ্জে র‍্যাব ও পুলিশের অভিযানে ডাকাত অস্ত্রসহ গ্রেফতার শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু গোপনে ইরানকে ভয়ংকর ড্রোন দিচ্ছে রাশিয়া ফুলতলায় অস্ত্র ও গুলিসহ দুই যুবক গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নয়াপল্টনে নেতাকর্মীদের ঢল ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান এটুআই প্রকল্পে সিন্ডিকেট ভাগ্য খুলেছে জামায়াত নেতার ছেলের স্বপ্নের ডাটাবেজ লিক, লাখ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস টাঙ্গাইলে কালিহাতিতে একই পরিবারের নারী শিশুসহ পাঁচজন নিহত বর্তমান পোশাকে সন্তুষ্ট নয় পুলিশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ ভান্ডারকোট ২ নং ওয়ার্ড বিএনপি অফিস বনে তিন কর্মকর্তা মিলে কোটি টাকা লুটপাট কালীগঞ্জে পৃথক অভিযানে ২০ কেজি ১৮০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আহসান হাবীব পলাশ বেস্ট হোল্ডিংয়ের ভয়াবহ জালিয়াতি করে ধরাছোয়ার বাহিরে আমিন রামগড়ে সিএনজি পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া, ভোগান্তিতে সাধারণ যাত্রী খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নেতাকে গুলি করে হত্যা পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালকের আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ ইতিহাসের "সেরা" ঈদ ও কিছু বিষাদময় বাস্তবতা দিঘলিয়ায় ডাকাতির সময় নিজেদের গুলিতে ডাকাত নিহত দীঘিনালায় বোয়ালখালী বাজারে অগ্নিকাণ্ড কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে দাকোপে পুরোদমে চলছে খাল খনন খুলনায় শিশু জান্নাতুল মাওয়া হত্যা বাড়ল স্বর্ণের দাম ভোলাহাটে বীরমুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন চলে গেলেন না ফিরার দেশে পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ সৌদি আরবের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ১২ সেনা আহত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কমিটির প্রথম বৈঠক চলছে নেপালে নতুন সরকারের শপথের পরদিনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্রেপ্তার খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নেতাকে গুলি করে হত্যা দীঘিনালায় পরিবহনে বাড়তি ভাড়া, চাপে সাধারণ যাত্রী মহান স্বাধীনতা দিবসে সন্ত্রাসী হামলার শিকার ১০ বছরের ছাত্র শেরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত শেরপুরে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত সিরাজগঞ্জে মহান স্বাধীনতা দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা সিরাজগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত স্বাধীনতা দিবসে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাল সিআরএ ইসরায়েলের সেনা সদরে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী: আপনার সরকার কি গুপ্তদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে? টাঙ্গাইলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত ঈদের পর তেলের সংকট কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে লুটপাটের নায়ক ৫ কোটিতে সোহরাওয়ার্দীর পরিচালক সখিপুরে মোবাইল কোর্ট অভিযান আবারও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি: নিহত বেড়ে ২৪ কয়রায় বাঘ-বিধবা ও অসহায়দের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জেলা জাসদের শ্রদ্ধা নিবেদন রামগড়ের কৃতি সন্তান সিআইডি প্রধান হিসেবে যোগদান

এটুআই প্রকল্পে সিন্ডিকেট ভাগ্য খুলেছে জামায়াত নেতার ছেলের

এটুআই প্রকল্পে সিন্ডিকেট ভাগ্য খুলেছে জামায়াত নেতার ছেলের
পাঠক সংখ্যা
638

সবুজ বাংলাদেশ ডেস্ক॥
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সরকারি প্রকল্প ‘এসপায়ার টু ইনোভেট’ বা এটুআই ঘিরে বিতর্ক থেমে নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সহযোগিতায় চালু হওয়া প্রকল্পটি আওয়ামী লীগের আমলে সরকার ঘনিষ্ঠদের লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সরকার ঘনিষ্ঠ কুশীলবরা পালিয়ে গেলেও অনিয়মের জাল থেকে বের হতে পারেনি এটুআই। বরং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ প্রকল্প ঘিরে দুর্নীতি-অনিয়ম আরও বিস্তার লাভ করেছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আব্দুল্লাহ আল ফাহিম নামে এটুআইয়ের একজন কর্মকর্তা। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা শাখার আমিরের ছেলে। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে জামায়াত-শিবির ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে চাকরিচ্যুতও হয়েছিলেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের সময়ে যে পরিচয়ের কারণে ফাহিম বেকায়দায় ছিলেন; পটপরিবর্তনের পর সেই পরিচয়ের কারণেই ভাগ্য খুলেছে তার। নতুন করে চাকরিতে ফিরে কার্যত এটুআই দখলে নিয়েছেন তিনি। চাকরি হারানোর আগে তৃতীয় পক্ষের চুক্তিতে এটুআইয়ের ‘প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট’ হিসেবে মাসে ৭০ হাজার টাকা বেতন পেতেন ফাহিম। ৫ আগস্টের পর প্রভাব খাটিয়ে চাকরিতে ফেরেন তিনি। এবার আগের পদ পরিবর্তন করে হয়েছেন ‘কনসালট্যান্ট’—বেতন পাচ্ছেন ৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের পতনের পর ফাহিমের বেতন বেড়েছে প্রায় ৬১৮ শতাংশ! বলাই বাহুল্য, ফাহিমের নতুন করে চাকরিতে যোগদান, পদ পরিবর্তন কিংবা বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোনো নিয়মনীতি মানা হয়নি।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, আওয়ামী লীগের পতনের পর এটুআইয়ে ফিরে ঘনিষ্ঠ চার সহযোগীকে নিয়ে একটি চক্র গড়ে তুলেছেন ফাহিম। এ চক্রে রয়েছেন, প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, সিনিয়র কনসালট্যান্ট নাহিদ আলম, কনসালট্যান্ট মাজেদুল আলম মাহি এবং জুনিয়ার কনসালট্যান্ট শারমিন ফেরদৌসী। নিজের পাশাপাশি নিয়ম না মেনে ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদেরও ইচ্ছামতো পদ ও বেতন বৃদ্ধি করিয়েছেন ফাহিম। এর মধ্যে মাহির বেতন বেড়েছে ২৮৭ শতাংশ, আরিফুর ও নাহিদের বেড়েছে যথাক্রমে ১৫৭ ও ১১৮ শতাংশ এবং শারমিনের বেতন বেড়েছে ১০০ শতাংশ।

যেভাবে এটুআই দখলে নেন ফাহিম:
২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এটুআই প্রকল্পটি আসে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অধীনে। প্রেষণে সেখানে কর্মরত ছিলেন উপসচিব নিলুফা ইয়াসমিন। তার আপন বোনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল ফাহিম। খালা নিলুফার হাত ধরে তিনি ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি ‘প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট (ই-ফাইলিং)’ হিসেবে তৃতীয় পক্ষের চুক্তিতে এটুআইয়ে যোগ দেন।

কিন্তু ২০২৩ সালের ১১ মার্চ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একটি অভিযানে রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি রেস্টুরেন্ট থেকে গ্রেপ্তার হন ফাহিম। অভিযোগ ওঠে, স্বাধীনতা দিবস ঘিরে নাশকতার উদ্দেশ্যে ওই রেস্টুরেন্টে জামায়াত ও শিবিরের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক সভায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এর ভিত্তিতে এটুআইয়ের চুক্তিভিত্তিক চাকরি থেকে তাকে অপসারণ করা হয়।

এটুআইয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পরদিন ৬ আগস্ট মিরপুর এলাকা থেকে শিবির পরিচয়ধারী অর্ধশত লোকজন নিয়ে এটুআই কার্যালয়ে আসেন ফাহিম। ৮ আগস্ট ফাহিমের নেতৃত্বে বহিরাগতদের নিয়ে মব সৃষ্টি করে এটুআইয়ের তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক মামুনুর রশীদ ভূঁইয়াকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করা হয়। ওই অবস্থায় প্রকল্প পরিচালকের কাছ থেকে শিবিরপন্থি কয়েকজনকে এটুআইয়ে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আদায় করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই বছরের সেপ্টেম্বরে মাসিক সাড়ে তিন লাখ টাকা বেতনে ‘কনসালট্যান্ট’ পদে এটুআইয়ে প্রত্যাবর্তন হয় ফাহিমের।

অনুসন্ধান বলছে, কোনো ধরনের প্রতিযোগিতাশীল নিয়োগপ্রক্রিয়া ছাড়াই ফাহিমের নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। নামসর্বস্ব কয়েকটি পত্রিকায় কনসালট্যান্ট বা পরামর্শক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ছাপানো হয় যাতে বিষয়টি চাকরি প্রত্যাশীদের নজরেই না আসে। ওই সময় কনসালট্যান্ট পদে মাসিক বেতনের সর্বোচ্চ সীমা (সিলিং) ছিল সাড়ে তিন লাখ টাকা। কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে স্রেফ জামায়াত নেতা বাবার পরিচয় কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ সিলিং বেতনেই নিজের নিয়োগ চূড়ান্ত করেন ফাহিম। যদিও সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার প্রথা অনযায়ী, সরাসরি সর্বোচ্চ সিলিং-এ কোনো পণ্য বা সেবা কেনা হয় না এবং কোনো কনসালট্যান্টও নিয়োগ দেওয়া হয় না। কিন্তু চাকরিচ্যুত হওয়ার সময়ের চেয়ে ৪০০ শতাংশ বর্ধিত বেতনে এটুআইয়ে কনসালট্যান্ট হিসেবে যোগ দিয়ে ‘হেড অব প্রোডাক্টস’ হিসেবে দায়িত্ব পান ফাহিম।

এটুআই সূত্র জানায়, ফাহিম এটুআইয়ে ফেরার কিছুদিনের মধ্যে প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাবন (ডিপিপি) হালনাগাদ করে কনসালট্যান্ট পদের সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারণ করা হয় মাসে সাড়ে চার লাখ টাকা। নিয়োগের মাত্র তিন মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি ফাহিমের বেতন বেড়ে দাঁড়ায় মাসিক চার লাখ টাকায়। সে বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে নতুন করে চুক্তি হয় এটুআই এবং ফাহিমের। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি আরও এক বছরের জন্য সেই চুক্তি নবায়ন হয়। এবার বেতনসীমা সংশোধন করে সর্বোচ্চ সিলিং নির্ধারণ হয় ৫ লাখ টাকা এবং এই বেতনেই ফাহিমের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি হয়। সব মিলিয়ে একসময় ৭০ হাজার টাকা চুক্তির বেতন পাওয়া ফাহিমের বেতন এখন ৬১৮ শতাংশ বেড়েছে!

কেবল বেতন বৃদ্ধি নয়, নিয়োগের অনেক শর্তও মানা হয়নি ফাহিমের নিয়োগের ক্ষেত্রে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর), ২০০৮ এর তফসিল-৯ অংশ-গ এর বিধি ৩(বি)(২) এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে করা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ এর তফসিল-১৯, অংশ-খ এর বিধি ৩(বি)(২) অনুযায়ী, কনসালট্যান্ট পদে চুক্তিবদ্ধ হতে আগ্রহী প্রার্থীকে ব্যাচেলর অথবা মাস্টার্স ডিগ্রিধারী হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ১০ বছরের মেধা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

কিন্তু নথিপত্র বলছে, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ব্যাচেলর শেষ করা ফাহিমের পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সে হিসেবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তার কর্ম অভিজ্ঞতার সময়সীমা ১০ বছরের শর্ত পূরণ করে না। এমন অযোগ্যতার পরেও কনসালট্যান্ট পদে নিয়োগ এবং তারপর দুই দফা বেড়ে সিলিংয়ের সর্বোচ্চ সীমায় বেতন নিচ্ছেন ফাহিম।

অনিয়মের এখানেই শেষ নয়—এটু্আই প্রকল্পে কনসালট্যান্টদের কোনো যানবাহন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ২৫০০ সিসির সাদা রঙের ‘এসইউভি (স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল)’ সার্বক্ষণিক ব্যবহার করেন ফাহিম, যার নম্বর প্লেট “ঢাকা মেট্রো ঘ-১৩-০৬৫৯’’।
এ ছাড়া পূর্ণকালীন চুক্তিবদ্ধ কনসালট্যান্টদের ভিন্ন কোনো লাভজনক পদে কাজ করার সুযোগ না থাকলেও ‘নকশি গ্লোবাল ড্রিম বিল্ডার্স লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন ফাহিম।

কপাল খুলেছে ফাহিম ঘনিষ্ঠদেরও:
এটুআইতে ফাহিমের প্রভাবে কপাল খুলেছে তার বন্ধু মাজেদুল ইসলাম মাহির। ৫ আগস্টের আগে ৭০ হাজার টাকা বেতনে ‘জুনিয়র কনসালট্যান্ট’ পদে থাকা মাহি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বনে যান ‘কনসালট্যান্ট’। সে বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি মাহির বেতন এক লাফে বেড়ে হয় দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকা। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর মাহির চুক্তি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা নতুন করে এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়। এবার বেতন নির্ধারণ করা হয় দুই লাখ ৭১ হাজার টাকা। অর্থাৎ দেড় বছরেরও কম সময়ে মাহির বেতন বেড়েছে ২৮৭ শতাংশ।

৫ আগস্টের আগে কনসালট্যান্ট হিসেবে আড়াই লাখ টাকা বেতন ছিল ফাহিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নাহিদ ইসলামের। ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর এটুআই এর সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় তার। তবে ফাহিমের প্রভাবে একই বছরের ১৬ অক্টোবর থেকে এক বছরের জন্য তার সঙ্গে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হয় এটুআই। এবার তার বেতন আরও এক লাখ বেড়ে হয় সাড়ে তিন লাখ টাকা (সর্বোচ্চ সিলিং)।

পিপিআর অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে চুক্তি নবায়ন করা না হলে, পরবর্তী সময়ে আর সেটি বর্ধিত করা যায় না। অর্থাৎ নাহিদ আলমকে কনসালট্যান্ট পদে নিয়োগ দিতে হলে আবারও প্রতিযোগিতাশীল পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে যেতে হতো। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করেই পুনরায় কনসালট্যান্ট হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান নাহিদ। তবে এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ছয় মাসের মাথায় ‘সিনিয়র কনসালট্যান্ট’ পদে আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয় তাকে। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল মাসিক সাড়ে চার লাখ টাকা বেতনে একই বছরের ১ মে থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে নাহিদকে পুনরায় নিয়োগ দেয় এটুআই। অথচ তখনও কম বেতনে নাহিদের পূর্বের চুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস অবশিষ্ট ছিল। এখনও এই চুক্তিতে এটুআইতে কাজ করছেন নাহিদ। সব মিলিয়ে নাহিদের বেতন বেড়েছে ১৫৭ শতাংশ।

ফাহিম চক্রের অন্যতম সহযোগী এটুআইয়ের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুর রহমান। নিজের প্রভাব টিকিয়ে রাখতে তাকেও পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নেন ফাহিম। গত ৪ জানুয়ারি নতুন করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয় আরিফুর রহমানকে। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে এবার দুই লাখ ছয় হাজার টাকার বেতন বেড়ে হয় সাড়ে চার লাখ টাকা। অর্থাৎ বেতন বৃদ্ধির হার ১১৮ শতাংশ।

ফাহিম চক্রের আরেক সদস্য ‘জুনিয়র কনসালট্যান্ট’ শারমিন ফেরদৌসী ৫ আগস্টের আগে পেতেন এক লাখ ৫ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর একই পদমর্যাদায় আরও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান তিনি। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে এবারের চুক্তিতে শারমিনের বেতন হয় এক লাখ ৯২ হাজার টাকা। এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই ছয় মাসের জন্য অর্থাৎ চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদে পুনরায় নিয়োগ পান শারমিন। অবশ্য এবার পদমর্যাদা না বেড়ে, বেড়েছে বেতন। বর্তমানে মাসিক দুই লাখ ১০ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন শারমিন। এক বছরের ব্যবধানে তার বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ।

এটুআইয়ের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটুআইয়ে পরামর্শকদের নিয়োগের প্রক্রিয়া ও বেতনের অঙ্ক নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছে দাতা সংস্থাগুলো। বাংলাদেশ সরকারের তহবিলের পাশাপাশি জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গেটস ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে চলে এটুআইয়ের কার্যক্রম। কিন্তু বিভিন্ন প্রকল্পে নানান অনিয়মের কারণে এসব সংস্থা এটুআইয়ে নতুন করে আর অর্থায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটুআইয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দাতা সংস্থাগুলোর এমন সিদ্ধান্তের পেছনে ফাহিম চক্রের অনিয়ম অন্যতম কারণ।

কে কী বলছেন:
অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় এটুআইয়ের কনসলট্যান্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগ পুরোপুরি বানোয়াট ও মিথ্যা। আমার এ চাকরির বয়সে কোনো দুর্নীতি না পাওয়ায় একটি চক্র আমার পেছনে উঠেপড়ে লেগেছে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে কনসালট্যান্ট পদে আমি নতুন করে নিয়োগ পেয়েছি।

৫ আগস্টের আগে চাকরিচ্যুতির বিষয়ে জানতে চাইলে ফাহিম বলেন, ‘জামায়াত নেতার ছেলে বলে সে সময় আমাকে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছিল।’ বাবার রাজনৈতিক পরিচয় খাটানোর অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

প্রকল্প পরিচালককে মব সৃষ্টি করে অবরুদ্ধের বিষয়ে ফাহিম বলেন, ‘তিনিই (মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া) তো আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন, তার কোনো অভিযোগ নেই। তিনি এখন আইসিটি মন্ত্রণালয়ে কাজ করছেন। প্রয়োজনে তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন।

এটুআইয়ের তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মামুনুর রশীদ ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি এটুআইয়ের বর্তমান পিডির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

এটুআইয়ের বর্তমান পিডি মোহা. আব্দুর রফিক বলেন, ‘মব সৃষ্টি করে নিয়োগ চূড়ান্ত করার অভিযোগের বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে আব্দুল্লাহ আল ফাহিমের নিয়োগ অবৈধ কি না সে বিষয়ে এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: এশিয়া পোস্ট

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

বাউফলে সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মাহামুদ হাসান বাউফল প্রতিনিধি। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাউফল ইউনিয়নে ০৩-১২-২০২২ খৃঃ শনিবার সকাল ১০ ঘটিকায় অলিপুরা এনামুল হক মামুন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামিলীগ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামীলীগের দূর্গখ্যাত বাউফল ইউনিয়নে সমাবেশকে ঘিরে স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। বাউফল সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠা‌নে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন,বাংলাদেশ সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি, সাবেক চীফহুইপ, পটুয়াখালী -২ আসনের সাংসদ জনাব আ স ম ফিরোজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ভাইস- চেয়ারম্যান মোঃ মোশারেফ হোসেন খান। বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ সামসুল আলোম মিয়া।উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিচুর রহমান , উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম ফারুক।

আরও পড়ুন
language Change