মো.শাহীনউজ্জামানঃ
ঢাকা নবাবগঞ্জের বক্সনগর ইউনিয়নের বড় বক্সনগরের কোহিনুর এর বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র রামদা, চাপাতি, দা ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী নেতা মান্নান, নয়ন, মুক্তার, রাব্বি, আশিক, শুভ ভূঁইয়া গংরা। চাপাতি, দা দিয়ে ঘরের দরজা কুপিয়ে ভাংচুর ও তাদের মারপিট করেছে বলে নবাবগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
অভিযোগ বিষয়ে কোহিনুর এর ছেলে রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী কানন বলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলাধীন বক্সনগর ইউনিয়নের বড় বক্সনগরে আমার বাড়ি। আমার বাবার নাম পান্না ভূঁইয়া। অনেকদিন ধরে আমাদের সম্পত্তি নিয়ে মান্নান ভূঁইয়া ওরফে মান্না আমাদের উপর নির্যাতন করে আসছে। মান্না ভূঁইয়ার কাছে আমরা অত্যাচারিত। মান্না ভূঁইয়া ও তার ছেলেরা আমার মাকে দীর্ঘ দিন ধরে নির্যাতন করে আসছেন। কিছু হলেই আমার মা ও আমাদের সবাইকে মান্নান ও তার ছেলেরা লাঠিসোটা নিয়ে মারতে আসেন। ২৭ মার্চ সকালে আমাদের বাড়ি ভাংচুর ও হামলা করে। আমাদের বাড়ি নিয়ে তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে মান্নান ও তার ছেলেরা মিলে আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর, আমাকে, আমার গর্ভবতী স্ত্রী ও আমার মাকে মারপিট করেছে।
আমাদের মারতে ও বাড়িঘর ভাঙচুর করতে চাপাতি, দা, রামদা ও দেশীয় লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। আমার মা, আমার বউ ও আমাকে মেরে ফেলতে আমাদের বাসায় দেশী অস্ত্র দা, রামদা, চাপাতি নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করে বাড়ি ভাঙ্গে। হামলার সময়ে আমাদের ডাক চিৎকারে গ্রামের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা ঐ সময় চলে যায়। আমরা ঘরে তালাবদ্ধ ছিলাম। গ্রামের মানুষের জন্য আমরা প্রাণে বেঁচে যাই। হামলার সময় মান্নান গংরা আমাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে যান। আমরা ঘর থেকে তাদের হুমকি শুনি। একপর্যায়ে পুলিশের ত্রিপল নাইনে আমরা কল দিতে চাহিলে, তারা তখন জাতীয় সেবা পুলিশের সহায়তা পাওয়ার ত্রিপল নাইন ও পুলিশ প্রশাসন কে মান্না ভূঁইয়া ত্রিপল নাইন কে বকাবকি করেন, যার ভিডিও রেকর্ড আছে। পুলিশ তাকে কিছুই করতে পারবে না। পুলিশ প্রশাসন তার আওয়ামী লীগের লোক, তিনি আওয়ামী লীগের বড় নেতা।
তারা কাউকে ভয় পান না। আওয়ামী লীগের আমলে যেমন প্রভাব বিস্তার করেছেন এখনো তাদের সেই প্রভাবই আছে। কানন আরো বলেন, মান্না গংরা বক্সনগরে ঐসময়ে এই এলাকার মানুষের উপর অনেক জুলুম অত্যাচার ও নির্যাতন করেছেন। মানুষ ভয়ে তাদের কথা কাউকেই বলতে পারেন নাই। এখনো তারা সেই জুলুম অত্যাচার নির্যাতন করেই আসছে, এই জুলুম অত্যাচারের বিচার আমরা আপনাদের মাধ্যমে চাই। আমাদের উপর মান্নানের এতো নির্যাতন আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। তাই নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও মাননীয় এমপি খোন্দকার আবু আশফাক মহোদয়ের নিকট আমরা সাহায্য চাই। ঐ আওয়ামী লীগের দোসর বক্সনগরের শীর্ষ সন্ত্রাসী জুলুমবাজ মান্নান ও তার ছেলেদের অন্যায় অত্যাচার ও নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে।
এছাড়া ভুক্তভোগী কোহিনুর বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসী সবাইকে বলেছি। কিন্তু মান্নান এবং তার ছেলেদের ভয়ে কেউ কিছু বলে না। একসময় সে তার ছেলে আওয়ামী লীগের বড় দস্যু ছিল বিধায়। হামলা চলাকালীন সময়ে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে বলেন, আমাদের উপর নির্যাতনের এই ভিডিওটা আপনারা সবাই দেখেন যে, আমাদের বাড়িঘরে তারা দিনে-দুপুরে কীভাবে হামলা চালিয়েছে। আরো ভয়াবহ দৃশ্য ছিল আমরা ভয়ে সেই ভিডিও করতে পারি নাই। ভিডিও ফুটেজে শুনেন তার ছোট ছেলে নয়ন বলেছে যে, আমার লাশ খুঁজে পাওয়া যাবে না, আমাকে গুম করে ফেলবে এবং টুকরো টুকরো করে ফেলবে-এমন বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে আমার বাসা ভাঙচুর করেছে মান্নান। আমি সকলের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
ঐ মান্নান সবার ওপর জুলুম-অত্যাচার করছে। আপনারা খবর নিয়ে দেখেন, শুধু আমার ক্ষেত্রে না, গ্রামবাসী আরও যারা আছে, এমনকি আমার এক কাকিকেও তার পাওনা সে ঐ জায়গা-সম্পত্তি দেয়নি। সবার ওপর সে একই রকম অত্যাচার করে। কিছু হলেই সে দা, চাপাতি, রামদা ও লাঠি-সোঁটা নিয়ে বের হয়। কাউকেই শান্তিতে বসবাস করতে দিচ্ছে না, মান্নান ও তার ছেলে সন্ত্রাসীরা। হামলার বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ পরিদর্শক জানান, ঘটনাটি নিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বড় বক্সনগরে, আমরা ঘটনার সত্যতা পেয়েছি ভিডিও ফুটেজ দেখে। তো এ বিষয়ে যেহেতু অভিযোগ হয়েছে তাই আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত