তারিখ লোড হচ্ছে...

খুলনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও জনসভা মোংলায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক এনওসি ছাড়াই বিদেশ সফরে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডিপিএইচইতে কোটি টাকার দুর্নীতির সিন্ডিকেট প্রধান প্রকৌশলী আবদুল আউয়ালের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল রক্ষায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু সোনার কিরণের ক্ষমতার ১৮০ দিন অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ফারিয়াকে চুরির অপবাদ দিয়ে শ্লীলতাহানি নোয়াখালীতে বেদেপল্লীতে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ নাটোরের অশ্লীলতার কবলে হালতিবিল শ্রীমঙ্গল বিএনপির অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতা তাজ উদ্দিন তাজুর সংবাদ সম্মেলন দলের দুঃসময়ের সারথি দুদু, তবু কেন আড়ালে? চুয়া সেলিম গ্রেফতার গোপন আস্তানা থেকে কেশবপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা পিতার রুহের মাগফিরাত কামনায় চারা বিতরণ সুনামগঞ্জে ১০০ পিস ইয়াবাসহ আব্দুস সাত্তার নামে এক মাদক কারবারি আটক সাতক্ষীরা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে র‌্যাবের অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ নতুন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কবে, যা জানা গেল ‎সুন্দরবনে অবমুক্ত করা বাঘিনীর ৪০টি ক্যামেরায় মিলছে না অস্তিত্ব পারস্পরিক আস্থা অর্জনের পর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর : উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: জিয়া ও খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা  তালতলীতে অবৈধ পিস্তল ও গুলিসহ আটক-০৫  বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ও সাধারণ জনগণের সমর্থন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ ফরাস উদ্দিন নাটোরে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কী হলো রাজস্ব সম্মেলনে, যেসব নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উত্তরা প্রেসক্লাব নির্বাচন ২০২৬, সভাপতি হলেন মাসুদ পারভেজ - সম্পাদক মাহতাব ফারাহী ড্রামে ফেলে নবজাতককে হত্যা, মায়ের বিরুদ্ধে মামলা সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর প্রাণহানি ৫ বছরের শিশুকে হত্যার পর ধর্ষণ করেন রবিউল কাশিয়ানীতে সরকারি পুকুরের গাছ বিক্রির অভিযোগ, সোহেলের বিরুদ্ধে যুবদল নেতা হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন লালবাগে কিল্লারমোড় বাজারের পেছনে ময়লার ভাগাড়, মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী ভূমি অফিস জেলা প্রশাসকদের ১৪ নির্দেশনা কেশবপুরে বায়সা কালী মন্দিরে গ্রিল কেটে দুঃসাহসিক চুরি ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর চিন্তা টিকটকে টাকা পাঠানোর সুবিধা আসছে সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তন হয় হান্নান মাসউদের এমপি পদ বাতিল চেয়ে রিট ইসলাম গ্রহণ করেছেন ব্রাজিল খেলয়ার রবার্তো কার্লোস বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্মকর্তাদের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাতক্ষীরার পুলিশ লাইন্স, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের দাবি খুলনা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম এর আম্মার মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যে প্রক্রিয়ায় ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা নারী যাত্রীদের প্রশ্ন: কিসের গোলাপি বাস, কখন আসে, কোথায় যায় প্রধানমন্ত্রীর শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান বাংলাদেশ শিল্প উদ্যোক্তা এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বিশেষ অভিযানে ৮ গ্রাম হেরোইন ও ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ নারায়ণগঞ্জে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ‎ ৮ লাখের সরকারি বিল পেতেই ৩ লাখ টাকা দাবি! বানারীপাড়ায় শিক্ষক সমিতির নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযো... ভুয়া ওষুধের তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিককে পুঁতে ফেলার হুমকি স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

চট্টগ্রামে মন্ত্রিপুত্রকে ‘বাঁচাতে’ উচ্চ আদালতে দুদক!

পাঠক সংখ্যা
638

স্টাফ রিপোর্টার॥

চট্টগ্রামে জালিয়াতির মাধ্যমে নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া এবং সংযোগ স্থানান্তরের বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেই মামলা তদন্ত করে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে আবেদন করে দুর্নীতি প্রতিরোধে গঠিত প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সেই আবেদন গ্রহণ করেননি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছা। তিনি প্রসিকিউশনের সহিত দ্বিমত পোষণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি আমলে নেন।

দুদকের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বাগত জানিয়েছিলেন চট্টগ্রামের সুশীল সমাজ ও আইনজীবীরা। তবে, আইনি জটিলতার কথা বলে মহানগর দায়রা জজের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন দুদকের কয়েকজন কর্মকর্তা। অর্থাৎ পাঁচ আসামিকে বাঁচাতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে যাচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্বে থাকা সংস্থাটি।

কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আসামিরা প্রভাবশালী। তাদের সঙ্গে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। আবার আসামিদের কেউ দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আত্মীয় হন। এ কারণে অভিযুক্তদের বাঁচাতে দুদক মরিয়া হয়ে উঠেছে— জানান তারা।

এদিকে, দুদকের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুমোদনের পর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতের অপরাধ আমলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বেআইনি— এমন মন্তব্য করেন দুদক চট্টগ্রামের আইনজীবী কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু। গত সোমবার (১৭ এপ্রিল) তিনি দুদক চট্টগ্রামের পরিচালক বরাবর একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি দুদককে উচ্চ আদালতে রিভিশন করার মতামত দিয়ে উল্লেখ করেন- ‘বিজ্ঞ আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে মামলা আমলে নেওয়ার বিষয়ে যে যুক্তি উপস্থাপন করেন এবং মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের যথাযথ ডিএলআরের রেফারেন্স উল্লেখ করেন। উল্লিখিত রেফারেন্স এই মামলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে। কেন না উল্লিখিত মামলায় কমিশন কর্তৃক চার্জশিটের অনুমোদন নিয়ে কিছু আসামিকে সেন্ট-আপ এবং কিছু আসামিকে নট সেন্ট-আপ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেন। এক্ষেত্রে যেহেতু চার্জশিটের অনুমোদন ছিল, তাই নতুন করে অনুমোদনের প্রয়োজন নেই মর্মে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ মামলার রায়ের অবজারভেশনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মামলার সব আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ‘সত্য’ বলে অনুমোদন দেয় দুদক কমিশন। দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হকের সই করা অনুমোদন সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, ‘তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা সাক্ষ্য-স্মারক ও অন্য কাগজপত্র পর্যালোচনায় উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় দুদক আইন–২০০৪–এর ৩২ ধারা এবং দুদক কমিশন বিধিমালা ২০০৭–এর বিধি ১৫ উপবিধি ১–এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হলো। তবে, দুদকের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন আমলে না নিয়ে গত ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালত মামলার এজাহারে থাকা পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন
কিন্তু বর্তমান মামলার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। কমিশন এখানে চার্জশিট অনুমোদন দেন নাই। বিজ্ঞ আদালত অনুমোদন ছাড়া মামলা আমলে নিয়েছেন। এখানে দুদকের অনুমোদন অবশ্যই প্রয়োজন এবং প্রসিকিউশন কেইস চূড়ান্ত প্রতিবেদনের কারণে শূন্য। প্রসিকিউশন পক্ষের অনুমোদন ছাড়া শূন্যের ওপর নির্ভর করে মামলা পরিচালনা করা দুরূহ ব্যাপার। বিজ্ঞ আদালতের আমলে গ্রহণের আদেশটি বেআইনি অথবা অনিয়মিত হওয়ায় কগনিজেন্স পরবর্তী আসামি পক্ষ আইনগত সুবিধা লাভ করবে এবং বিজ্ঞ বিচারিক আদালত শূন্যের ওপর নির্ভর করে বিচারকার্য সম্পাদন করিতে হইবে। এমতাবস্থায় মহানগর দায়রা জজের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিশন দায়ের করা যায়। কেননা, কগনিজেন্স (বিচারাধিকার) আদেশটি সম্পূর্ণ আইনানুগ হয়নি বলে আমি মনে করি।’গত সোমবার (১৭ এপ্রিল) দুদক চট্টগ্রামের পরিচালক বরাবর লেখা আইনজীবী কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলুর চিঠি / ঢাকা পোস্ট
এ বিষয়ে জানতে গতকাল মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘এটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।

দুদক সূত্র জানায়, আলোচিত মামলাটি দায়ের করেছিলেন সংস্থাটির চাকরিচ্যুত উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন। মামলা দায়েরের পরপরই তিনি কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিলেন। তবে মামলার আসামিরা বেশ প্রভাবশালী। কয়েকজন সরকার ও দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিকটাত্মীয়। এ কারণে আলোচিত কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিনের মামলা দায়েরের বিষয়টি দুদকের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা ভালোভাবে নেননি।

দুদকের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুমোদনের পর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতের অপরাধ আমলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বেআইনি— এমন মন্তব্য করেন দুদক চট্টগ্রামের আইনজীবী কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ওই মামলার আসামি ইঞ্জিনিয়ার সারোয়ারের আপন ভায়রা ড. আবুল বারকাত। তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান। আবার আবুল বারকাতের সঙ্গে দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হকের বেশ ভালো সম্পর্ক রয়েছে। মামলার আসামি টেকনিশিয়ান দিদারুল আলমের আত্মীয় একজন সিনিয়র বিচারক। আরেক আসামি ও কর্ণফুলী গ্যাসের সাবেক কর্মকর্তা মুজিবুর রহমানের ফুফাতো ভাই দুদকের সাবেক ডিজি জহির রায়হান। যিনি বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। এছাড়া মামলার অন্যতম আসামি মুজিবুর রহমান সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী নুরুল ইসলামের ছেলে।

ফলে মামলাটি দায়েরের চার দিন পর দুদক কর্মকর্তা শরীফকে পটুয়াখালীতে বদলি করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে চাকরিচ্যুতও করা হয়। এরপর আসামিদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠে দুদক। যদিও এ মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. আতিকুল আলম ১২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিতে সুপারিশ করেছিলেন বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। তবে, ওই সময় তার সুপারিশ গ্রহণ না করে কমিশন পাঁচটি পয়েন্টে পুনরায় তদন্ত করতে বলে। একপর্যায়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপের মুখে তিনি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন— অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

বিষয়টি জানতে দুদক চট্টগ্রামের পরিচালক মো. মাহমুদ হাসানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, ‘অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ায় জাতীয় সম্পদের অপব্যবহার হয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাসের কর্মকর্তারা ঘুষ না পেলে কেন এই সংযোগ দিয়েছেন? এখানে আদালত বলেছেন অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। দুদকও বলেছে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এজন্য দুদক মামলা করেছে। আবার ইচ্ছা হয়েছে বলে আসামিদের খালাস দিয়েছে। পরবর্তীতে আদালত পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিয়েছেন। এক্ষেত্রে আদালতের অবারিত ক্ষমতা রয়েছে এবং আদালত সেটি করেছেন। আদালত বলেছেন, মামলার এজাহারে অপরাধের বিষয়ে ক্লিয়ার করা হয়েছে। মামলার বাদী চাকরিচ্যুত দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন যাবতীয় বিষয় এজাহারে উল্লেখ করেছেন।’

‘প্রশ্ন হলো দুদক কেন আসামিদের খালাস দিতে এত ইন্টারেস্টেড? তারা কেন টাকা খরচ করে মন্ত্রিপুত্রকে বাঁচাতে উচ্চ আদালতে যাবেন। দুদক কে? কোত্থেকে এসেছে যে তারা ইচ্ছা হলেই কারও বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেবে, আবার ইচ্ছা হলেই কাউকে খালাস দেবে। আবার মামলার প্রতিবেদনে দুদক বলছে, এখানে সরকারি অর্থের কোনো অপচয় হয়নি। তাহলে ক্ষমতার অপব্যবহারও এক ধরনের দুর্নীতি। এটা তারা করেছেন। আদালত সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আসামিদের অপরাধ আমলে নিয়েছে। আমরা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছি।’

‘আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিশন করলে দুদক প্রচণ্ড রকম বাড়াবাড়ি করবে’— উল্লেখ করে আখতার কবির চৌধুরী বলেন, ‘এ কাজে জড়িত দুদক কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া উচিত। আরেকটা বিষয়, রিভিশনের ক্ষেত্রে দুদকের যুক্তি হলো দুদকের অনুমোদন। আদালতের আদেশে সেটিও স্পষ্ট করা হয়েছে। আদালত বলেছেন, দুদক কর্মকর্তাদের অনুমতিসাপেক্ষে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। এখন অনুমোদনের কথা বলে দুদক উচ্চ আদালতে যেতে পারে না। আসামিদের জন্য রিভিশন করে দুদক যদি এক টাকাও খরচ করে তাহলে সেটি বাড়াবাড়ি হবে।’

মামলার আসামি ইঞ্জিনিয়ার সারোয়ারের আপন ভায়রা ড. আবুল বারকাত। তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান। আবার আবুল বারকাতের সঙ্গে দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হকের বেশ ভালো সম্পর্ক রয়েছে। মামলার আসামি টেকনিশিয়ান দিদারুল আলমের আত্মীয় একজন সিনিয়র বিচারক। আরেক আসামি ও কর্ণফুলী গ্যাসের সাবেক কর্মকর্তা মুজিবুর রহমানের ফুফাতো ভাই দুদকের সাবেক ডিজি জহির রায়হান। যিনি বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। এছাড়া মামলার অন্যতম আসামি মুজিবুর রহমান সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী নুরুল ইসলামের ছেলে
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি নির্দেশনায় আবাসিক খাতে নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। এ আদেশ অমান্য করে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) মন্ত্রিপুত্র মুজিবুর রহমানকে ২২টি অবৈধ সংযোগ দেয়। ২০১৭ সালের ২ মার্চ থেকে ২০১৮ সালের ২ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব সংযোগ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে ২০২১ সালের ১০ জুন দুদকের চাকরিচ্যুত ও তৎকালীন চট্টগ্রামের উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের তিন দিন পর কেজিডিসিএল কর্মকর্তারা অবৈধ ২২টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।মন্ত্রিপুত্র মুজিবুর রহমান ছাড়াও এ মামলার আসামিরা হলেন- কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) সাবেক মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং ও সার্ভিসেস) মো. সারওয়ার হোসেন, সাবেক দক্ষিণ জোনের টেকনিশিয়ান (সার্ভেয়ার) মো. দিদারুল আলম, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মোহাম্মদ আলী চৌধুরী ও সাবেক ব্যবস্থাপক মজিবুর রহমান। তাদের মধ্যে সাবেক মহাব্যবস্থাপক মো. সারওয়ার হোসেন, টেকনিশিয়ান দিদারুল আলম ও সাবেক ব্যবস্থাপক মজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্ত হন।

মামলা দায়েরের পর শুরুতে বাদী শরীফ উদ্দিন তদন্ত করলেও পরবর্তীতে তাকে চট্টগ্রাম থেকে বদলি ও চাকরিচ্যুত করা হয়। ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর মামলাটি নতুন করে তদন্তের দায়িত্ব পান দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মুহা. মাহবুবুল আলম। তিনিও আংশিক তদন্ত শেষে বদলি হয়ে যান। গত বছরের ১০ মার্চ নতুন করে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়- ২ এর উপ-পরিচালক মো. আতিকুল আলম।

এ কাজে জড়িত দুদক কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া উচিত। আরেকটা বিষয়, রিভিশনের ক্ষেত্রে দুদকের যুক্তি হলো দুদকের অনুমোদন। আদালতের আদেশে সেটিও স্পষ্ট করা হয়েছে। আদালত বলেছেন, দুদক কর্মকর্তাদের অনুমতিসাপেক্ষে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। এখন অনুমোদনের কথা বলে দুদক উচ্চ আদালতে যেতে পারে না। আসামিদের জন্য রিভিশন করে দুদক যদি এক টাকাও খরচ করে তাহলে সেটি বাড়াবাড়ি হবে
অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী, সম্পাদক, সুজন (চট্টগ্রাম) ওই কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মামলার সব আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ‘সত্য’ বলে অনুমোদন দেয় দুদক কমিশন। দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হকের সই করা অনুমোদন সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়, ‘তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা সাক্ষ্য-স্মারক ও অন্য কাগজপত্র পর্যালোচনায় উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় দুদক আইন–২০০৪–এর ৩২ ধারা এবং দুদক কমিশন বিধিমালা ২০০৭–এর বিধি ১৫ উপবিধি ১–এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হলো।

তবে, দুদকের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন আমলে না নিয়ে গত ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছার আদালত মামলার এজাহারে থাকা পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন।

Facebook
X
LinkedIn
Threads
WhatsApp
Telegram
Email

Leave a Comment

চাঁদাবাজদের নির্মূল না করা পর্যন্ত লড়াই চলবে হাসনাত

চাঁদাবাজদের নির্মূল না করা পর্যন্ত লড়াই চলবে: হাসনাত

ডেস্ক রিপোর্টঃ কুমিল্লার দেবিদ্বারে উঠান বৈঠকে সাধারণ মানুষের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার রাতে গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের পদ্মকুট বাজারে আয়োজিত এই উঠানে রাজনীতি বৈঠকে তিনি বলেন, আজকের চাঁদাবাজ আগামী দিনের টেন্ডারবাজ। চাঁদাবাজরা কিছুদিন পর মানুষের ঘরের ইট খুলে নিয়ে যাবে। নেতার জন্য বিশেষ চেয়ার, বিশেষ প্রটোকল বা বিশেষ সুবিধার দিন শেষ। এ ধরনের রাজনীতি তিনি ও তাঁর দল আর মানবে না। আমরা প্রয়োজন হলে দশটা ভোট পাব কিন্তু চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলতেই থাকবে। দেবিদ্বার থেকে চাঁদাবাজদের নির্মূল না করা পর্যন্ত এ লড়াই চলবে। হাসনাত আরও বলেন, দেশে জোর-জবরদস্তির রাজনীতি বা ভয়ভীতি দেখিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার দিন শেষ। এখন যদি কেউ মনে করে লাঠি দিয়ে দেশ চালাবে শেখ হাসিনার কথা মনে আছে তো? এ ছুপা নেতাগিরি

আরও পড়ুন
language Change