মো: মাসুম, বিল্লাহ খুলনাঃ
বর্তমানে বাংলাদেশে পুরুষদের আত্মহত্যার হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামাজিক জরিপ ও লোকমুখে প্রচলিত অভিযোগ থেকে দেখা যাচ্ছে, এই আত্মঘাতী পথ বেছে নেওয়ার পেছনে বড় একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পারিবারিক অশান্তি ও স্ত্রীর হাতে মানসিক নির্যাতন। লোকলজ্জা আর আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক পুরুষই নীরবে এই নির্যাতন সহ্য করে যাচ্ছেন, যা শেষ পর্যন্ত তাঁদের ঠেলে দিচ্ছে অকাল মৃত্যুর দিকে।
লোকচক্ষুর অন্তরালে পুরুষ নির্যাতন সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, ঘরের বউয়ের দেওয়া মানসিক যন্ত্রণা ও দীর্ঘদিনের ডিপ্রেশন (বিষণ্ণতা) থেকে পুরুষরা হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে কোনো উপায় না দেখে তাঁরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। লোকমুখে শোনা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষরা তাঁদের সমস্যার কথা কাউকে বলতে পারেন না। পুরুষ মানুষ কাঁদলে দুর্বলতা প্রকাশ পায়-এমন সামাজিক প্রথার কারণে তাঁরা ভেতরে ভেতরে শেষ হয়ে যাচ্ছেন।
কেন বিচার পাচ্ছে না পুরুষ? বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের জন্য কঠোর আইন থাকলেও পুরুষ নির্যাতনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর আইনি সুরক্ষা নেই বললেই চলে। পুরুষরা নির্যাতনের শিকার হলেও আইনি সহায়তার জন্য কোথায় যাবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এছাড়া: সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে পুরুষরা পারিবারিক অশান্তির কথা গোপন রাখেন। মিথ্যা মামলার ভয়ে কোনো পুরুষ যদি স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চায় তবে অনেক ক্ষেত্রে পাল্টা নারী নির্যাতন বা যৌতুকের মিথ্যা মামলার সম্মুখীন হতে হয়। যেসব পুরুষ নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের পথ বেছে নিচ্ছেন, তাঁদের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ঘরে ছোট সন্তান থাকলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বিচ্ছেদের পর অনেক পুরুষকে পড়তে হচ্ছে ধারাবাহিক হামলা ও মামলা, বিচ্ছেদের পর দেনমোহর বা খোরপোশের দোহাই দিয়ে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে।
আইনি মারপ্যাঁচে অনেক নিরপরাধ পুরুষকে বিনা বিচারে বা মিথ্যা অভিযোগে কারাগারে জেল খাটতে হচ্ছে। বর্তমান পরিসংখ্যানের চিত্র যদিও বাংলাদেশে পুরুষ নির্যাতনের সঠিক সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন, তবে বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার মতে, প্রায় ৭০% থেকে ৮০% বিবাহিত পুরুষ কোনো না কোনোভাবে মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। তবে সামাজিক চাপের কারণে এর ক্ষুদ্র একটি অংশ মাত্র প্রকাশ্যে আসে। পরিবারে শান্তি না থাকলে সেই পুরুষ বাইরের জগতেও নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারেন না। মানসিক অশান্তি থেকেই সৃষ্টি হয় দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্ণতা, যা পুরুষদের আত্মঘাতী করে তুলছে। অধিকাংশ মানুষের দাবি পুরুষরা যাতে তাঁদের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার পায় এবং আত্মহত্যার হার কমে আসে, সে জন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও পক্ষপাতহীন আইন। কেবল একতরফা বিচারে সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব নয়। সুস্থ পারিবারিক জীবন নিশ্চিত করতে নারী-পুরুষ উভয়ের প্রতি সমান সংবেদনশীলতা আজ সময়ের দাবি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত