বিশেষ প্রতিনিধি:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক হিসাবরক্ষকের পুনঃপদায়ন ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। ওই পদায়নে আপত্তি জানানোর জেরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাইফুল ইসলাম খানকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সনজীদা শারমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ওএসডি করা হয়। এ ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
আলোচিত ওই হিসাবরক্ষক মো. ইমরান মেহেদী হাসান আরিফের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গড়ে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স দেওয়ার নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি ২০২২ সালে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হন। কয়েক মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান। পরে একই বছরের ৭ জুলাই তাকে মাগুরার শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শাস্তিমূলক বদলি করে বরখাস্ত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের ২৯ জুলাই বিভিন্ন তদবিরের মাধ্যমে তিনি পুনরায় ময়মনসিংহে পদায়ন নেন। তবে সিভিল সার্জন ডা. ছাইফুল ইসলাম খান ওই পদায়নে আপত্তি জানিয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে আদেশ পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেন। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এ কারণেই তাকে ওএসডি করা হয়েছে।
এদিকে, ইমরান মেহেদীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় গাজীপুরে দুটি জিডি ও একটি সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে আউটসোর্সিং টেন্ডার বর্ধিতকরণ, ক্লিনিক-হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয়। যদিও কমিটির একজন সদস্য ডা. মাঈনুদ্দিন খান জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদ বলেন, ওএসডির সুনির্দিষ্ট কারণ তার জানা নেই। তবে আউটসোর্সিং টেন্ডার বর্ধিত করার বিষয়ে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি কখনো জেলখাটা কোনো আসামির যোগদানের পক্ষে মত দিইনি।” এদিকে ১৫১ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে প্রায় ৯ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে, যা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এসব বিষয়ে ডা. ছাইফুল ইসলাম খান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা টেন্ডার সংক্রান্ত অভিযোগ সঠিক নয়। আমি প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার স্বার্থে একজন হাজতবাসকারী ব্যক্তির যোগদানে আপত্তি জানিয়েছিলাম। সেটিই হয়তো আমার ‘অপরাধ’ হয়েছে।”
স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক বড় নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। সিভিল সার্জনকে সরিয়ে দিয়ে ওই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত