ফারজানা আক্তার শ্রাবণীঃ
রাজউক জোন-৩/১ এর ইমারত পরিদর্শক মোঃ শরীফ হোসেন এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন ও নির্মিত একাধিক ভবন থেকে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পলাশ নগর, পল্লবী, মিরপুর ১১ তে অবস্থিত কয়েকটি ভবন থেকে নিয়মবহির্ভূত ভাবে টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়াও দেওয়ানপাড়া, বাংলালিংক টাওয়ার মোড়, মাটিকাটা, ভাষানটেক রোডে অবস্থিত একাধিক ভবন মালিকের কাছ থেকেও রাজউক ইমারত পরিদর্শক শরীফ হোসেন টাকা নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, নকশা অনুমোদন, নির্মাণ তদারকি ও নিয়মিত পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ দাবি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, ইমারত পরিদর্শক মোঃ শরীফ হোসেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন উপায়ে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে। অভিযোগ রয়েছে, ভবন নির্মাণ বা অনুমোদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে “হেড অফিসের মেম্বার”, “অথরাইজড অফিসার, ডিরেক্টর” এবং “পরিচালক”-এর নাম ব্যবহার করে টাকা দাবি করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের বলা হচ্ছে, এসব পদে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করতে না পারলে কাজ আটকে দেওয়া হবে বা জটিলতায় ফেলা হবে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে নির্ধারিত কোনো নিয়ম না থাকা সত্ত্বেও মোটা অংকের অর্থ পরিশোধ করছেন।
তথ্যসূত্রে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে, ইমারত পরিদর্শক মোঃ শরীফ হোসেন নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য এই প্রক্রিয়াকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি দাবি করছেন, সংশ্লিষ্ট সাইট বা অবস্থান পেতে তিনি আগেই বড় অংকের অর্থ ব্যয় করেছেন, যা এখন বিভিন্ন উপায়ে আদায় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ ভবন মালিক ও নির্মাণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী ভবন মালিকগন জানান, রাজউকের পক্ষ থেকে হয়রানির আশঙ্কায় তারা বাধ্য হয়ে এসব অর্থ দিচ্ছেন। এতে নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করলেও অনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা রাজউক কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়মের কারণে এলাকায় অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হলেও দায়িত্বশীল সংস্থার নজরদারি কার্যত প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ সংক্রান্ত একাধিক তথ্য-উপাত্ত ও অভিযোগের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, কিছু ভবনের ক্ষেত্রে রাজউকের কোনো লিখিত অনুমোদন না থাকলেও নির্মাণকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার রাজউক জোন-৩/১ এর ইমারত পরিদর্শক মোঃ শরীফ হোসেন এর সঙ্গে দেখা ও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। অভিযুক্ত ইমারত পরিদর্শক মোঃ শরীফ হোসেনের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। এরপর কয়েকটি ভবনের তথ্য দিয়ে তাকে সেই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এর মধ্যে একটি ভবনে উচ্ছেদ অভিযান করা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানের পরে সেই ভবনে কিভাবে পুনরায় কাজ চলমান রয়েছে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
রাজউকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্ল্যান ছাড়া ভবন নির্মাণের সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তা গুরুতর অপরাধ। লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগর বিশেষজ্ঞ ও সুশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা দ্রুত স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত