স্পোর্টস ডেস্কঃ
ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে চলা আইনি লড়াইয়ে এবার নতুন মোড় এসেছে। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসের আদালতে চলমান শুনানিতে এই কিংবদন্তির মানসিক স্বাস্থ্য এবং আসক্তি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন অন্যতম অভিযুক্ত চিকিৎসক। দীর্ঘ চার বছর পর মামলার প্রতিটি মোড় নতুন করে প্রশ্ন তুলছে ম্যারাডোনার শেষ দিনগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে বিদায় নেন এই ফুটবল ঈশ্বর। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই তার মস্তিষ্কে একটি জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছিল যা মূলত শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। তবে সাম্প্রতিক শুনানিতে মনোবিদ কার্লোস দিয়াজ আদালতকে জানিয়েছেন, ম্যারাডোনা শুধু শারীরিক নয় বরং চরম মানসিক সংকটে ভুগছিলেন। দিয়াজের দাবি অনুযায়ী ফুটবল জাদুকর দীর্ঘ সময় ধরে বাইপোলার ডিজঅর্ডার ও নার্সিসিজমে আক্রান্ত ছিলেন। তার ব্যক্তিত্বের জটিলতা চিকিৎসার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
আদালতের নথিতে উঠে এসেছে ম্যারাডোনা দীর্ঘদিন কোকেন ও অ্যালকোহলের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকতেন। মনোবিদ দিয়াজ নিজে এই মামলার একজন প্রধান অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও নিজের স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি ভুল ওষুধ প্রয়োগ এবং অপরিকল্পিত চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। দিয়াজ এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে দাবি করেন, ম্যারাডোনার আবেগের ওঠানামা সামলানো ছিল বিশ্বের অন্যতম কঠিন কাজ। মাঠে তার পায়ের জাদুতে বিশ্ব মুগ্ধ থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি প্রতিনিয়ত নিজের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। শুনানিতে একটি ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন এই চিকিৎসক। তিনি দাবি করেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ম্যারাডোনা সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। মৃত্যুর আগের টানা ২৩ দিন তিনি কোনো ধরনের মাদক গ্রহণ করেননি। দিয়াজের মতে এটি ছিল ম্যারাডোনার পক্ষ থেকে নিজেকে বদলে ফেলার এক অদম্য লড়াই। তবে প্রসিকিউশনের দাবি চিকিৎসা কর্মকর্তাদের অবহেলা ও যথাযথ পর্যবেক্ষণের অভাবেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত