মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
শেরপুর সীমান্তে বন্য হাতির ভয়ে কাঁচা ধান কাটছেন ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার কৃষকেরা। হাতির আক্রমণে ফসলহানি ও জানমালের ক্ষতির আশঙ্কায় নির্ধারিত সময়ের আগেই কাঁচা ও আধাপাকা বোরো ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা। এতে ফলন কমে যাওয়ার শঙ্কার পাশাপাশি বাড়ছে হতাশাও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে ঝিনাইগাতীর গজনী, গান্ধীগাও, বাঁকাকুড়া এলাকায় হাতির আক্রমণে নষ্ট হয়েছে প্রায় ৫ একর জমির ধান। কোথাও ধান খেয়ে, কোথাও মাড়িয়ে ফসলের ক্ষতি করেছে হাতির দল। কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ৮ হাজার ৮৫৭ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে বোরো ধান। এর মধ্যে শ্রীবরদীতে ৪ হাজার ৫০১ হেক্টর, ঝিনাইগাতীতে ২ হাজার ২৪০ এবং নালিতাবাড়ীতে ২ হাজার ১১৬ হেক্টর জমি রয়েছে। অধিকাংশ জমির ধান পরিপুষ্ট হলেও পাকতে এখনও সময় বাকি।
ঝিনাইগাতী উপজেলার গান্ধীগাও গ্রামের রাজিব কোচ জানিয়েছেন, ৬০ শতক জমিতে ১৬ হাজার টাকা খরচ করে আবাদ করেছিলেন বোরো ধান। ধান পাকতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগলেও হাতির ভয়ে তিনি দিনমজুর দিয়ে আগেই ধান কাটছেন। তার ভাষ্য, হাতির পাল এক রাতেই সব শেষ করে দিতে পারে। তাই বাধ্য হয়েই কাঁচা ধান কাটছি।
রাজিব কোচের মতো এই একই শঙ্কা ও আতঙ্কে ভুগছেন শেরপুরের তিন উপজেলার শত শত কৃষক। একই গ্রামের কৃষক লাল কৃষ্ণ কোচ বলেছেন, দুই রাতে এক একর জমির ধান হাতি খেয়ে ও মাড়িয়ে নষ্ট করেছে। এই ফসলেই সংসার চলত। এখন ক্ষতিপূরণের জন্য বন বিভাগের কাছে আবেদন করেছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, বালিজুড়ি, খাড়ামুড়া, তাওয়াকুচা, গজনী, রাংটিয়া, সমশ্চূড়া, মধুটিলা ও বারমারি গ্রামজুড়ে চলছে আগাম ধান কাটার কাজ। কোথাও কাঁচা, কোথাও আধাপাকা, আবার কোথাও পরিপুষ্ট ধান কেটে নিচ্ছেন কৃষকেরা।
গজনী গ্রামের কৃষক অজন্তা সাংমা জানিয়েন, পাহাড়ে হাতির অবস্থান থাকায় দেরি করলে নষ্ট হয়ে যাবে ফসল। তাই ঝুঁকি এড়াতে আগেই ধান কাটছেন। সমশ্চূড়া গ্রামের কৃষক মো. হানিফ মিয়া বলেছেন, ধান পাকতে আরও ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগত। কিন্তু ৪০ থেকে ৪৫টি হাতির দল মাঠে নামলে কিছুই করার থাকে না।
বন বিভাগের গজনী বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ জানান, ৪০ থেকে ৪৫টি হাতির একটি দলে রয়েছে প্রায় ১৫টি শাবক। দলটি গত এক সপ্তাহ ধরে ঝিনাইগাতীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বর্তমানে অবস্থান করছে নালিতাবাড়ীর সমশ্চূড়া ও বাতকুচি জঙ্গলে। সমশ্চূড়া বিট কর্মকর্তা মো. কাওসার জানিয়েছেন, হাতির দল যাতে লোকালয়ে প্রবেশ করতে না পারে। সে জন্য এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম ও স্থানীয়রা পাহারায় রয়েছে। গজনী বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোহিদুল ইসলাম বলেছেন, ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের। এরইমধ্যে আবেদন করেছেন কয়েকজন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত