স্টাফ রিপোর্টারঃ
নেত্রকোনার মদনে আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত আমানুল্লাহ আমান সাগরকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১১টার দিকে আসামি সাগরকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত এ আদেশ দেন।
আইনজীবী নূরুল কবীর রুবেল জানান, ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর মাদ্রাসা ছুটি শেষে শিশুটিকে ঝাড়ু দিয়ে মসজিদ পরিষ্কার করতে বলেন শিক্ষক সাগর। পরে মসজিদের বারান্দার একটি কক্ষ পরিষ্কার করার কথা বলে শিশুটিকে কক্ষে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি। ভয় ও লজ্জার কারণে শিশুটি বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানায়নি। সাত মাস পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হয় তার মায়ের। পরে ১৮ এপ্রিল মদনের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে জানা যায়, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পারিবারিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি সেদিনের ঘটনা জানালে মা বাদী হয়ে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে র্যাব তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সোনামপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে গ্রেফতার করে।
দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল উল্লেখ করে ওই শিক্ষক দাবি করেন, তাকে নিয়ে অপপ্রচার ও অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। মেয়েটি একসময় তার মাদ্রাসায় পড়লেও ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন। তিনিও চান প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হোক। তিনি বলেন, দেশের আইন আছে। সেই আইনই প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করবে। আপনারা অপরাধী শনাক্ত হওয়ার আগেই যদি আমাকে অপরাধী বানিয়ে ফেলেন, তাহলে আসল অপরাধী পার পেয়ে যাবে। শিশুটির ডিএনএ পরীক্ষার দাবিও জানান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে সেখানে লেখাপড়া করত। শিশুটির বাবা তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে মা সিলেটের একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।
শিশুটির মা বলেন, আমাকে আমার স্বামী ছেড়ে চলে গেছে। ছোট তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে জীবন চালাই। জীবিকার তাগিদে সিলেটে মানুষের বাসায় কাজ করি। মেয়েকে বাবার বাড়িতে রেখে কষ্ট করে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করাচ্ছিলাম। কিন্তু হুজুর আমার এই শিশু বাচ্চাটার সঙ্গে এমন পিশাচের মতো কাজ করতে পারবে, তা কোনো দিন স্বপ্নেও ভাবিনি। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। মদন থানার উপপরিদর্শক আখতারুজ্জামান বলেন, শিশুটিকে একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরিবার অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে জেলা হাসপাতালেও পরীক্ষা করে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত