আবদুল মোতালেব
নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সরকারি এই হাসপাতালে সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, খোদ হাসপাতাল চত্বরে বসেই রোগীদের কাছ থেকে ফি নিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এছাড়া ডিউটি চলাকালীন কর্মস্থল ত্যাগ করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে সোমবার বেলা ১১টায় হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বহিঃবিভাগে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও পুষ্টি কর্নার-এর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে দায়িত্ব পালনরত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার রেজাউল করিমকে তার আসনে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় তার কক্ষের চেয়ারটি খালি পড়ে থাকতে দেখা যায়, অন্যদিকে চিকিৎসার আশায় বাইরে অপেক্ষা করছিলেন অসংখ্য অসহায় রোগী ও তাদের স্বজনরা।
সেখানে অপেক্ষারত ক্ষুব্ধ রোগীরা জানান, রেজাউল করিম হঠাৎ করেই কাউকে কিছু না বলে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। উপস্থিত এক রোগী বলেন, আমরা ডাক্তার সাহেবকে বসার অনুরোধ করলে তিনি আমাদেরকে অন্য ডাক্তার দেখাতে বলে বেরিয়ে যান। আরেক ভুক্তভোগী নারী জানান, ডাক্তার প্রায়ই ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে ব্যস্ত থাকেন এবং রোগীদের বসিয়ে রেখে বাইরে চলে যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখেন।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও রোগীদের দাবি, বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) ডাঃ শহীদুল ইসলাম নয়নসহ অধিকাংশ চিকিৎসক সরকারি হাসপাতালেই রোগী দেখার বিনিময়ে সরাসরি 'ফি' গ্রহণ করছেন। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা নির্ধারিত টিকিটের বিনিময়ে সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার উল্টো। সেবা নিতে আসা সিংহভাগ রোগীদের ধরিয়ে দেওয়া হয় ২ থেকে ৫ হাজার টাকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
এই বিষয়ে উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, হাসপাতালের সার্বিক অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসক অনুপস্থিতির বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) ডাঃ শহীদুল ইসলাম নয়নের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। তার এমন দায়সারা বক্তব্যে স্থানীয় জনমনে আরও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ব্যাপারে নোয়াখালী জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাসপাতালটি এখন সাধারণ মানুষের ভরসার বদলে ভোগান্তির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন এই অব্যবস্থাপনা তদন্ত করে এবং দায়িত্বহীন চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে চাটখিলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত