স্টাফ রিপোর্টারঃ
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন: ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, তথ্য গোপন এবং ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, টিআর (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত বিভিন্ন কাজের তথ্য চাওয়া হলেও তিনি তা প্রকাশে গড়িমসি করছেন। এমনকি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ওয়েবসাইটে প্রকাশযোগ্য প্রকল্প তালিকাও দীর্ঘ সময় অনলাইনে পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বাস্তবায়নাধীন ও বাস্তবায়িত টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের তালিকা জানতে গত দুই সপ্তাহ ধরে একাধিকবার ভোলা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু প্রতিবারই বিভিন্ন অজুহাতে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন পিআইও জিয়াউর রহমান। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য গোপন রাখার এই প্রবণতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে-কোন তথ্য আড়াল করতেই কি এই অনীহা?
কাগজে রাস্তা সংস্কার, বাস্তবে নেই কাজের চিহ্ন অভিযোগ রয়েছে, ধনিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মিলবাজার থেকে ব্যাপারী বাড়ির দরজা পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেখানো হলেও সরেজমিনে গিয়ে কোনো ধরনের কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, কাগজে প্রকল্প থাকলেও বাস্তবে সেখানে উন্নয়নকাজ হয়নি। অথচ সরকারি নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তারা। অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানে চাল বরাদ্দের অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, পশ্চিম চরসামাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ০.৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।
একইভাবে সাহেবের চর হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসা নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সরকারি খেজুর বরাদ্দ চেয়ে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ নামের কোনো কার্যকর প্রতিষ্ঠান তাদের জানা নেই। এসব ঘটনায় সরকারি বরাদ্দ বণ্টন প্রক্রিয়া এবং প্রকল্প যাচাই নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তথ্য চেয়েও পাননি সাংবাদিকরা। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর তথ্য জানতে সাংবাদিকরা সাত দিন ধরে উপজেলা প্রকল্প অফিসে গেলেও পিআইও জিয়াউর রহমান তালিকা সরবরাহ করেননি। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আরিফুজ্জামান সরাসরি মুঠোফোনে তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও গণমাধ্যম কে তালিকা দেননি পিআইও জিয়া। সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রতিদিন আজ দেব, কাল দেব বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। অথচ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা। ‘তথ্য গোপন মানেই দুর্নীতির ইঙ্গিত’ বলে মনে করছেন স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ভোলা জেলা সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক তথ্য জনগণের কাছ থেকে গোপন রাখার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি তথ্য প্রকাশে অনীহা দেখায়, তাহলে সেখানে দুর্নীতির আশঙ্কা থেকেই যায়। দুর্নীতি না থাকলে তথ্য গোপনের প্রয়োজন পড়ে না। তিনি আরও বলেন, যেসব সরকারি কর্মকর্তা জনগণের তথ্য জানার অধিকার বাধাগ্রস্ত করেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অতীতেও যে বিতর্কে ছিলেন পিআইও জিয়াউর রহমানঃ
পিআইও জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এই প্রথম নয়। এর আগে বরগুনা সদর উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপন এবং সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে অপরাধ বিচিত্রার মফস্বল সম্পাদক রাশেদুল ইসলামকে তথ্য না দিয়ে উল্টো হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এছাড়া বরগুনার ঠিকাদার মনিরুজ্জামান মনির অভিযোগ করেন, পিআইও জিয়াউর রহমান তার কাছ থেকে ৪২ লাখ টাকা নিয়েছেন, যার মধ্যে ৮ লাখ টাকা চেকের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের নাম ভাঙিয়েও টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পিআইও জিয়াউর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশ্নের মুখে প্রকল্প তদারকি ও স্বচ্ছতা স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে প্রকল্পের তালিকা, বরাদ্দ, বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং উপকারভোগীদের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা জরুরি। ভোলা সদর উপজেলার সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো এখন প্রশাসনিক তদন্তের দাবি তুলেছে। কারণ কাগজে থাকা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবে না থাকলে, তার দায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত