রুস্তম ফারাজী, কেশবপুর প্রতিনিধিঃ
যশোরের কেশবপুরে কবি ও নাট্যকার বিশ্বজিৎ ঘোষ এর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার গভীর রাতে কেশবপুর উপজেলার ৫নং মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বসুন্তিয়া গ্রামে ওই চুরির ঘটনাটি ঘটে। অজ্ঞাতনামা চোরেরা ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র ভাংচুর ও তছনছ করে নগদ টাকা, গহনা ও মূল্যবান মালামালসহ আনুমানিক তিন লাখ টাকার সম্পদ চুরি করে নিয়ে গেছে এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাতে কবি বিশ্বজিৎ ঘোষের পরিবারের কোনো সদস্য বাড়িতে ছিলেন না। এই সুযোগে চোরেরা বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ও দেওয়াল ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে চোর চক্র।
ঐ সময় অজ্ঞাতনামা চোররা ঘরের ভেতরের আলমারি, ড্রয়ার ও বাক্স ভেঙে শাড়ি, কাপড়-চোপড়, কাঁসাবাসন-সহ সমস্ত জিনিসপত্র তছনছ করে মেঝেতে ফেলে রেখে গেছে। আলমারিতে থাকা কিছু নগদ অর্থ, মায়ের কানের দুল, চুড়ি ও মূল্যবান মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর আরও একবার ঐ বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। একই বাড়িতে একের পর চুরি হওয়ায় পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তবে বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি চরম অনাস্থা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এবার থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেননি ভুক্তভোগী বিশ্বজিৎ ঘোষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু বিশ্বজিৎ ঘোষ এর বাড়িতে নয়, এলাকায় প্রায়ই ছোট-বড় চুরির ঘটনা ঘটছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঐ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় এলাকায় মাদকসেবনকারী এবং চোর চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পুলিশি টহল জোরদার এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
চুরির বিষয়ে ভুক্তভোগী কবি ও নাট্যকর বিশ্বজিৎ ঘোষ এর মুঠোফোন জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাকরি করার সুবাদে আমি বাহিরে থাকি। আমি ভীষণ অসুস্থ। তথ্যের বর্ণনা দেওয়ার মতো মন-মানসিকতা নেই। সংবাদ পেয়ে বাড়িতে গিয়ে কোনরকম ভাঙা জানালার গ্রিল ও দরজা লাগিয়ে চলে এসেছি। ঘরের ভিতরের সকল জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় পড়ে আছে। একের পর এক বাড়িতে চুরি হওয়ায় কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, আমাদের অঞ্চলে মাদক এবং চোরের উপদ্রব অত্যন্ত বেড়ে গেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহলে আসেন না। প্রতি সপ্তাহে চৌকিদার বা গ্রাম পুলিশের সদস্যরা থানায় হাজির হয়ে মিটিং করলেও তারা হয়তো আমার এলাকার মাদক ও চুরির ঘটনার বিষয়ে কখনোই থানা পুলিশ কে অবগত করেন না,গ্রাম পুলিশদের কাজ হলো সমাজে চুরি, ছিনতাই, মারামারি, জুয়া, মাদক, ইভটিজিংসহ কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে জানানো। এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন বলেন, আমি গতকালই থানায় যোগদান করেছি। চুরির বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেননি। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করাসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ উপজেলায় বিশেষ করে মাদক ও জুয়া জিরো টলারেন্স করাসহ সকল প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত