শাহ আলমঃ
ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ (পবিস-৪) এর সদর দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও তদবির নির্ভর এক সিন্ডিকেট এমন বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে টেকনিক্যাল ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) ইকবাল মাহাদী ও লাইনম্যান নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি সেবা দেওয়ার আড়ালে তারা সাধারণ গ্রাহক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের জিম্মি করে কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ পত্রিকার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
অভিযোগ রয়েছে, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ কিংবা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন সংযোগ নিতে গেলেই গ্রাহকদের উপর সৃষ্টি করা হয় নানা ধরনের কৃত্রিম জটিলতা। বিশেষ করে সোলার সিস্টেম সংযুক্তির শর্তকে হাতিয়ার বানিয়ে আবেদনকারীদের উপর আর্থিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো আবেদন ফাইল টেকনিক্যাল ডিজিএম ইকবাল মাহাদীর দপ্তরে পৌঁছানোর পরই শুরু হয় অনিয়মের মূল খেলা। গ্রাহকদের নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের সোলার সরঞ্জাম কিনতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দিয়া, সোলাক্স, হুয়াওয়ে, এসএমএ, কাকো, গ্রোয়াট ও সানগ্রোসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে সেখান থেকেই মালামাল ক্রয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী ও কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইকবাল মাহাদীর গোপন আর্থিক সমঝোতা রয়েছে।অভিযোগ আরও রয়েছে, নির্ধারিত অংকের টাকা না দিলে আবেদন ফাইল বিভিন্ন অজুহাতে আটকে রাখা হয়, কখনও বাতিল পর্যন্ত করা হয়। গ্রাহকদের দিনের পর দিন অফিসে ঘুরানো হলেও গোপন লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পরই রহস্যজনকভাবে ফাইল অনুমোদন হয়ে যায়। ফলে সাধারণ গ্রাহকরা এক ধরনের প্রশাসনিক জিম্মিদশার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, লাইনম্যান নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও উঠেছে ভয়াবহ অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে তিনি প্রভাব খাটিয়ে নতুন সংযোগ পাইয়ে দেওয়ার নামে শিল্পকারখানা ও বহুতল ভবনের মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করছেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি একটি শক্তিশালী দালালচক্র গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে প্রতিটি সংযোগে চলে অবৈধ টাকার লেনদেন।অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, নুরুল ইসলামের স্ত্রী ললিতাও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত।
দীর্ঘ ৬ থেকে ৭ বছর ধরে একই কর্মস্থলে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীরা জানান, স্বামী-স্ত্রী মিলে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে নতুন ভবন, কলকারখানা ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।ভুক্তভোগীদের দাবি, এই পুরো সিন্ডিকেটের নেপথ্যের মূল সমন্বয়ক টেকনিক্যাল ডিজিএম ইকবাল মাহাদী।
অভিযোগ রয়েছে, মাঠপর্যায়ে আদায় হওয়া অবৈধ অর্থের একটি অংশ নিয়মিতভাবে তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।এদিকে, অবৈধ অর্থ লেনদেন ও তদবির সংক্রান্ত একাধিক কথোপকথনের ভিডিও ফুটেজ এবং তথ্য-প্রমাণ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ পত্রিকার কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভিডিওগুলোতে ঘুষ বাণিজ্য ও প্রভাব খাটানোর সুস্পষ্ট আলামত উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ ও ভিডিও ফুটেজ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানোর পরও রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত লাইনম্যান নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মোঃ গোলাম কাউসার তালুকদারের নাম। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পূর্বে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এ কর্মরত থাকাকালে এবি সোলার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে গ্রাহকদের ওই প্রতিষ্ঠানের মালামাল কিনতে বাধ্য করতেন। সম্প্রতি পবিস-৪ এ বদলি হয়ে আসার পরও একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন করে গোপন চুক্তি করে কেরানীগঞ্জ এলাকায় এবি সোলারের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের ও কম টেকসই সরঞ্জাম বাজারজাত করেও বিশেষ প্রভাবের মাধ্যমে এবি সোলারের কাজ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ফলে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।এ বিষয়ে টেকনিক্যাল ডিজিএম ইকবাল মাহাদীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন। অন্যদিকে, লাইনম্যান নুরুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পল্লী বিদ্যুতের অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত