স্টাফ রিপোর্টার॥
প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রির বেপরোয়া লুটপাটে গণপূর্ত ই/এম পি এন্ড ডি বিভাগ-১, ঢাকা-ই যেন ফোকলা হতে চলেছে। সাবেক নির্বাহী ওই প্রকৌশলী শুধু নিজের দপ্তরের অনিয়ম, দুর্নীতির অপকর্ম করেই ক্ষ্যান্ত থাকেন না, তিনি বিভিন্ন প্রকল্প ও সেকশনের টেন্ডারবাজিরও নেপথ্য নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছিলেন। যে কোনো দরপত্র কার্যক্রম শুরু হলেই নড়েচড়ে বসতেন প্রকৌশলী মিস্ত্রি। তার আস্থাভাজন ঠিকাদার সিন্ডিকেটকে কাজ পাইয়ে দিতে চলত নানা ফন্দিফিকির। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে গোপন পথে কাজ বাগিয়ে নেয়ার তদবিরেই বেশি আগ্রহ ছিল তার। তবে এ কৌশল সফল না হলে আঙ্গুল বাঁকা করতেও বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করতেন না তিনি। দরপত্র কার্যক্রমে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম-পরিচয় ব্যবহার করে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল এবং তদন্তের নামে হয়রানি চালিয়ে অবশেষে সমঝোতায় কাজ আদায়ের অপকৌশল ছিল তার নিত্যকার পদ্ধতি। এমন অপরাধমূলক কর্মকৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
বিতর্কিত এই প্রকৌশলীর পুরো নাম সমীরণ মিস্ত্রি। তিনি ই/এম পি এন্ড ডি বিভাগ-১, ঢাকা-এ কর্মরত থাকাকালীন ঠিকাদারদের যোগসাজশে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অসাধু এক দাপুটে কর্মকর্তার সকল অপকর্ম, গোপন অর্থ লেনদেন, টাকা পাচারসহ যাবতীয় অনৈতিক কাজের ‘ম্যানেজম্যান’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতেন একাধিক ঠিকাদার সিন্ডিকেট।
এরইমধ্যে লুটেরা এই কর্মকর্তা সমীরণ মিস্ত্রির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
দুদকে পাঠানো অভিযোগপত্রে তার লুটপাট ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল সম্পদের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জাতীয় সংসদ ভবনে স্থাপিত ড্রাই টাইপ ট্রান্সফর্মার, যার মেয়াদকাল ছিল প্রায় ১০০ বছর, তা অযৌক্তিকভাবে পরিবর্তন করা হয় প্রায় ৪৬ কোটি টাকার দরপত্রের মাধ্যমে। অথচ পূর্বের যন্ত্রটি ২০৮২ সাল পর্যন্ত ব্যবহারের উপযোগী ছিল। পুরো বিল পরিশোধ হলেও কাজের অগ্রগতি বাস্তবে নেই বলেই অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট, হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুনঃস্থাপন ও সংস্কারের নামে প্রায় ১০ কোটি টাকার বরাদ্দ থেকে নামমাত্র কাজ করে বড় অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।
আমব্রেলা প্রজেক্টের আওতায় জাতীয় সংসদ ভবনের অভ্যন্তরে ৩০ থেকে ৪০টি দরপত্রের মাধ্যমে শত কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কার্যাদেশ প্রদানকারী কর্মকর্তা নিজেই হওয়ায় নিজের বলয়ের ঠিকাদারদের মাধ্যমে কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৬০-৭০ শতাংশ অর্থ নিজেই রেখে দিতেন।
এপিপি ও অপারেশন প্ল্যান (ওপি) খাতের শত শত কোটি টাকার বরাদ্দের সিংহভাগই তার নেতৃত্বে লোপাট হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকীর কাজের নামেও ব্যাপক লুটপাট হয়েছে, যেখানে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
এছাড়া বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের সহযোগিতায় কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। গত ছয় বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যার একটি বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
দুদকে দেয়া অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, রাজধানীর মিরপুরে একটি বাড়িসহ রাজধানীতে বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও জায়গা জমি কিনেছেন। তার রয়েছে ব্রান্ড নিউ হ্যারিয়ার লেক্সাস গাড়ি। মিরপুর রূপনগরে রয়েছে ৬ কাঠার ২টি প্লট, যার ঠিকানা রোড নং-১১, ব্লক-সি প্লট নং- ৩২/এ, ৩৩/এ। এছাড়াও উত্তরা ১২ নং সেক্টরে রয়েছে আলিশান বাড়ি যার ঠিকানা, রোড নং-০৮ বাসা নং-৮৯/বি উত্তরা ঢাকা। এছাড়া রোড নং-৭ বাসা নং-৬৮/২ এর দ্বিতীয় এবং ৪র্থ তলায় তার স্ত্রীর নামে রয়েছে আলিশান ফ্ল্যাট, যার বাজার মূল্য প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকা। গ্রামের বাড়িতে তার স্ত্রীর নামে কয়েক’শ বিঘা ফসিল জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়াও তার স্ত্রীর নামে কোটি টাকার দুইটি এফডিআর করা রয়েছে এবং তার স্ত্রীর ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে কোটি কোটি টাকা, যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত প্রকৌশলীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননী।
চলবে…….
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত