রুস্তম ফারাজী, কেশবপুরঃ
যশোরের কেশবপুর উপজেলার গোলাঘাটা দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং তা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিয়োগ বোর্ড বাতিল ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সচেতন মহল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে অবস্থিত গোলাঘাটা দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীর একটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য ছিল। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর ওই পদে নিয়োগের জন্য একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তির পর আটজন প্রার্থী আবেদন করেন। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় মাদ্রাসার নামে জমি ক্রয়ের কথা বলে এক প্রার্থীর কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়। পরে গত ১৪ এপ্রিল গোপনে নিয়োগ বোর্ড বসিয়ে ওই প্রার্থীকে পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এ অর্থ মাদ্রাসার সুপার, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং কমিটির কয়েকজন সদস্যের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সরফাবাদ গ্রামের বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে নিয়োগের জন্য ১৪ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে নিয়োগ বোর্ড বাতিল করা উচিত।”মাদ্রাসার দাতা সদস্য মাস্টার আব্দুল জলিল বলেন, ম্যানেজিং কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে না জানিয়ে গোপনে নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি পুনঃতদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসার সুপার গোলাম আজম। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে আটজন আবেদন করেছিলেন। বিধি অনুযায়ী গত ১৪ এপ্রিল নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নিয়ম মেনেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান টিপুও অভিযোগ নাকচ করে বলেন, বিধি মোতাবেক নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন, “বিধি অনুযায়ী নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে নিয়োগের নামে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এদিকে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত