কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি॥
কসবা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে নয়নপুর বাজারে একটি পিকআপ ভর্তি ১০০ বস্তা বাসমতি চাল নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্থানীয় বিজেবির ধস্তাধস্তি হয়। অভিযোগ উঠেছে বাজারে ব্যবসায়ী ও বিজেবি একে অপরের গাড়ি ভাংচুর করেছে। নয়নপুর বাজার কমিটির সেক্রেটারি বিএনপি নেতা বললেন কেউ কারো গাড়ি ভাংচুর করেনি। শুধু ধস্তাধস্তি হয়েছে। তিনি বলেন মোবাইল সাংবাদিকরা বিষয়টাকে অতিরঞ্জিত করেছে।
নয়নপুর বাজারের ব্যবসায়ী আলামিন মিয়া জানান বাজারের মধ্যে তিনিও আইয়ুব মিয়া প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তাদের চাউলের আড়ত রয়েছে। তারা নিলামে চাউল, গরু-ছাগল, ফুসকাসহ বিভিন্ন মালামাল কাস্টম থেকে ক্রয় করে থাকেন। গত ২২ মে ও ২৮ মে নিলামে চাউল, ফুসকা ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয় করেছেন। ঈদে ছুটি থাকার ফলে প্রায় ১০০ বস্তা চাউল অবিক্রীত ছিল।
সালদা ও শশীদল বিজেবি ক্যাম্পের পাঁচজন সদস্য এই চাউল থেকে অর্ধেক তাদের দিয়ে দিতে বলে। আমরা রাজি হইনি বরং বলেছি এই মাল বিক্রি হয়ে গেছে । আজই এ মাল ব্রাহ্মণপাড়া চলে যাবে। আমরা বিজেবিকে বিক্রির চালান ফর্ম দেখাই।
গত বুধবার দুপুরের দিকে নয়নপুর বাজারে আমাদের গোডাউন থেকে একশত বস্তা বাসমতি চাউল পিকআপে ভর্তি করে গাড়ি স্টার্ট দিলে নয়নপুর বাজার সড়কে ৫০ /৬০ জন বিজেবি সদস্য অতর্কিতভাবে আটক করে সড়কে যানজট সৃষ্টি করে। এতে আমরা তাদেরকে বুঝাবার চেষ্টা করি। বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ীও আমাদের এই ব্যবসা সম্পর্কে অবগত। তাই তারাও এ বিষয়ে বুঝাতে চেষ্টা করে। কিন্তু বিজেবি চালক আমাদের গ্রেফতারের ভয় দেখায়।
নয়নপুর বাজার কমিটির সেক্রেটারি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমি এসে বিজিবিকে বুঝানোর চেষ্টা করি এবং বলি, এই মালগুলো নিলামের। এ সময় আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে কথা বলার জন্য আমার মোবাইল দিয়ে সংযুক্ত করে দিই।
পরে শালদা বিজিবি কমান্ডার ৬০ বিজিবির অধিনায়কের সাথে কথা বলে পিকআপ ফেলে চলে যান। পরে আমার কাছে পিকআপের চাবি দিয়ে দেন। বাজারের ব্যবসায়ী কাউসার মিয়া বলেন, বিজিবি যখন চলে যায় তখন শত শত মানুষ তাদেরকে ভুয়া ভুয়া বলে ে¯্লাগান দিতে থাকে। এতে বাহিনীটি অপমানিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বাজারের মিষ্টি ব্যবসায়ী সমীর ঘোষ বলেন; নয়নপুর বাজার থেকে ভারত সীমান্ত প্রায় তিন চার কিলোমিটার দূরে। মাদলা ও পুটিয়া নামক দুটি বিজিবি ক্যাম্প রয়েছে সেখানে। সেখানে মালামাল না ধরে বাজারে এসে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা বিজিবির উচিত নয়। মালামাল তো আসে সমঝোতার মাধ্যমে। অবৈধ মালামাল সরবরাহে বিজিবি সুযোগ করে দেন।
এ বিষয়ে ৬০ বিজিবি অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সালদা ক্যাম্পের কমান্ডারের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার ক্যাম্পে প্রতিবেদক তাকে খুঁজতে গেলে তিনি তার সিপাহির মাধ্যমে জানিয়ে দেন পিকআপ ভ্যান ও চাউল নিয়ে তিনি কোনো কথা বলবেন না।
কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল ইসলাম বলেন; সালদা ক্যাম্পের কমান্ডার আমাকে জানানোর কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই জানায়নি। কসবা থানা সেকেন্ড অফিসার হারুনুর রশিদ জানান এ সমস্ত বিষয়ে বিজেপি বা বাজারের কেউ আমাদের থানায় কোন অভিযোগ দেননি।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: কে এম মাসুদুর রহমান, সম্পাদক ও প্রকাশক: মোহাম্মদ মাসুদ।
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২১/১ নয়াপল্টন (মসজিদ গলি),ঢাকা - ১০০০।
✆ ০১৫১১৯৬৩২৯৪, ০১৬১১৯৬৩২৯৪ 📧dailysobujbangladesh@gmail.com.
কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত